যে ঘুম আর ভাঙল না

0

ভোরের আলোর আশায় রাতের অন্ধকার বরণ করে প্রকৃতি। সুন্দর একটি সকালের প্রত্যাশায় রাতের ঘুম ভাঙে সবার। তবে নগরের বাকলিয়া থানার চাক্তাইয়ে ভেড়া মার্কেট এলাকার বস্তিবাসী এমন ভয়ংকর সব হারানো অগ্নিদগ্ধ সকাল চাননি। রাতের সেই ঘুম আর ভাঙেনি এই বস্তির ৮ জনের।

রোববার (১৭ ফেব্রুয়ারি) ভোররাত সাড়ে ৩টার দিকে সূত্রপাত হওয়া আগুনের ২০ মিনিটের তাণ্ডবলীলায় ভেড়া মার্কেটসংলগ্ন এই বস্তির প্রায় দুই শতাধিক ঘর ও দোকান পুড়ে গেছে। আগুনে অঙ্গার হয়ে গেছে ৩ পরিবারের ৮ জন।

তিন মেয়ে ও এক ছেলে নিয়ে রহিমার (৫০) সংসার চলত ঘরসংলগ্ন মুদির দোকান চালিয়ে। রহিমা প্রথম আগুন দেখে সবাইকে ডেকে দিলেন। সেই রহিমাই নিজের সন্তানদের আনতে গিয়ে আর বের হতে পারলেন না। অঙ্গার হলেন রহিমা আক্তার, তার বড় মেয়ে নাজমা (১৪), ছেলে জাকির (১০), মেয়ে নাসরিন (৮) এবং আরেক পরিবারের আয়শা (২৮) ও তার মেয়ে মিতু (১০), গৃহবধূ হাসিনা (৪৫)। এছাড়া রয়েছে ৭ থেকে ৮ মাস বয়সী এক শিশু।

বস্তিজুড়ে চলছে সব হারানোদের মাতম। গায়ে জড়ানো এক পোশাকই এখন তাদের সঙ্গী।
সহায়-সম্বল হারিয়ে খোলা আকাশের নিচে দিন পার করছেন তারা।

গোছানো সংসার চোখের সামনে ছাই হতে দেখা বস্তিবাসীরা এখন নির্বাক। অশ্রুসজল চোখে চেয়ে আছেন বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান আর ব্যক্তিদের সহযোগিতার দিকে। কেউবা ছাই হাতড়ে খোঁজার চেষ্টা করছেন প্রিয় জিনিস।

কান্নাজড়িত কণ্ঠে ক্ষতিগ্রস্ত রুমা আক্তার জয়নিউজকে বলেন, ঘুম ভেঙে দেখি আগুনের লেলিহান শিখা। প্রাণ হাতে নিয়ে বাচ্চাদের ঘর থেকে বের করে এনেছি। কিন্তু টাকা-স্বর্ণালংকারসহ কোনো গুরুত্বপূর্ণ জিনিস বের করতে পারিনি। আমরা নিঃস্ব হলাম।

বাকলিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) প্রণব চৌধুরী জয়নিউজকে বলেন, ঘুমন্ত অবস্থায় আগুনে পুড়েই তাদের মৃত্যু হয়েছে।

এদিকে আগুনে প্রায় ২০০ ঘর পুড়ে যায়। ফায়ার সার্ভিস আগুন লাগার কারণ খতিয়ে দেখছে।

জেলা প্রশাসক মো. ইলিয়াস হোসেন জয়নিউজকে বলেন, অগ্নিকাণ্ডের কারণ খতিয়ে দেখতে অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেটকে প্রধান করে ৪ সদস্যের একটি তদন্ত কমিটি করা হয়েছে। তাছাড়া নিহতদের প্রত্যেকের দাফনের জন্য জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে প্রাথমিকভাবে ২০ হাজার টাকা করে সহায়তা দেওয়া হচ্ছে।

জয়নিউজ/আরসি
আরও পড়ুন
লোড হচ্ছে...