বিএনপিতে আসছে নতুন নেতৃত্ব

0

নানা আলোচনা-সমালোচনার পর অবশেষে বিএনপিতে আসছে নতুন নেতৃত্ব। দেশের রাজনৈতিক পটভূমি বিবেচনা করে বিএনপি এ সিদ্ধান্ত নিয়েছে বলে জানা গেছে। এ বিষয়ে বিএনপির স্থায়ী কমিটির পাশাপাশি কারাগারে অন্তরীণ চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া ও লন্ডনে থাকা দলটির বর্তমান ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের সবুজ সংকেত মিলেছে।

জানা গেছে, চলতি বছরের শেষভাগে বিএনপি বিশেষ কাউন্সিল ডেকে নতুন নেতৃত্বের ঘোষণা দিতে পারে। বিএনপির একাধিক শীর্ষনেতার সঙ্গে জয়নিউজের এ প্রতিবেদক ব্যক্তিগত আলাপচারিতায় এ তথ্য পেয়েছে।

সূত্র জানিয়েছে, বিএনপির স্থায়ী কমিটির পাশাপাশি ঢাকা মহানগর কমিটিকে সবার আগে পরিবর্তন করে শক্তিশালী কমিটি করার উদ্যোগ শুরু হয়েছে। ইতোমধ্যে দলটির স্থায়ী কমিটির বেশ কয়েকজন সদস্য মারা যাওয়ায় কোরাম সংকট সৃষ্টি হয়েছে। যার ফলে বিএনপি জাতীয় ও দলীয় সিদ্ধান্ত নিতে গিয়ে বেকায়দায় পড়ছে। এ কারণে স্থায়ী কমিটিতে এবার অপেক্ষাকৃত তরুণ ও প্রযুক্তিতে দক্ষ নেতাদের স্থান হতে পারে। বয়সজনিত ও নিষ্ক্রিয়তার কারণে কমিটি থেকে বাদ পড়তে পারেন দলের একাধিক প্রভাবশালী সিনিয়র নেতা। যুক্ত হতে পারেন কয়েকজন জনপ্রিয় নেতা।

যাদের আগে মূল্যায়ন করা হয়নি এবার তাদের কপাল খুলতে পারে। বিতর্কিত ও দুর্নীতিবাজ কোনো নেতাকে এবার কমিটিতে রাখা হবে না বলে জানা গেছে। এছাড়া বিএনপির যেসব জেলা কমিটির কর্মকাণ্ড নিষ্ক্রিয়, সেগুলো বাতিলের ঘোষণা আসতে পারে। সেইসঙ্গে আগামী বছরের শুরুতেই সরকারবিরোধী আন্দোলন চাঙ্গা করতে বিএনপি টার্গেট নিয়ে কাজ শুরু করেছে। যদিও এ বিষয়ে কেউ এ মুহূর্তে মুখ খুলতে চাইছেন না। তবে বিভিন্ন ইস্যুতে সরকারবিরোধী আন্দোলন চাঙ্গা করতে ধীরে ধীরে প্রস্তুতি নেওয়া হচ্ছে বলে জানা গেছে।

সূত্র আরো জানিয়েছে, দেশের বাইরে থাকা বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের ইচ্ছায় বিএনপি নতুনভাবে ঘুরে দাঁড়ানোর উদ্যোগ নিয়েছে। তবে দলে তারেক রহমান ও বেগম খালেদা জিয়ার পদ-পদবী ও অবস্থান একইরকম থাকবে।

সর্বশেষ ২০১৬ সালের ১৯ মার্চ ষষ্ঠ জাতীয় কাউন্সিল করেছিল বিএনপি। দলটির গঠনতন্ত্র অনুযায়ী জাতীয় নির্বাহী কমিটি তিন বছরের জন্য নির্বাচিত হয় এবং পরবর্তী জাতীয় নির্বাহী কমিটি দায়িত্ব গ্রহণ না করা পর্যন্ত এ কমিটিই দায়িত্ব পালন করে।

বিএনপির সর্বশেষ কাউন্সিলে ঘোষিত ১৯ সদস্যের স্থায়ী কমিটির দু’টি পদ ফাঁকা ছিল। বাকি ১৭ সদস্যের মধ্যে তরিকুল ইসলাম, আ স ম হান্নান শাহ ও এমকে আনোয়ার মারা গেছেন। ফলে বর্তমানে পাঁচটি পদ ফাঁকা। লে. জেনারেল (অব.) মাহবুবুর রহমান ও ব্যারিস্টার রফিকুল ইসলাম মিয়া অসুস্থতার কারণে নিয়মিত সময় দিতে পারছেন না। স্থায়ী কমিটির সদস্য সালাহউদ্দিন আহমেদ কমিটি ঘোষণার আগে থেকেই ভারতের শিলংয়ে আছেন। তিনি কমিটির একটি বৈঠকেও যোগ দিতে পারেননি। এবার নতুন যুক্ত হতে পারেন দলটির প্রবীণ নেতা শাহ মোয়াজ্জেম হোসেন ও ভাইস চেয়ারম্যান মেজর (অব.) হাফিজ উদ্দিন আহমেদ বীরবিক্রম, সাবেক মন্ত্রী আবদুল্লাহ আল নোমান, বিএনপির অর্থ যোগানদাতা হিসেবে পরিচিত আবদুল আওয়াল মিন্টু্সহ আরো কয়েকজন।

এ বিষয়ে বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য সাবেক সেনাপ্রধান লে. জেনারেল (অব.) মাহবুবুর রহমান জয়নিউজকে বলেন, বিএনপিতে নতুন নেতৃত্ব আসতেই হবে। তা না হলে বিএনপির অবস্থা শোচনীয় হবে। তিনি বলেন, আমাদের বয়স হয়ে গেছে । এখন আমাদের দিয়ে আর হবে না। এখন দলে প্রয়োজন তরুণ নেতা। তা না হলে দলের গতি কমে যাবে।

তিনি আরো বলেন, শুধু শুধু পদ ধরে রেখে কোনো লাভ আছে বলে মনে করি না। আমি গঠনমূলক সংস্কারের পক্ষে ।

জয়নিউজ/আরসি
আরও পড়ুন
লোড হচ্ছে...