হঠাৎ নীরব জাপা

0

সংসদে টানা দু’বার বিরোধী দলে থাকা  জাতীয় পার্টি হঠাৎ নীরব হয়ে পড়েছে। পার্টির চেয়ারম্যান হুসেইন মুহাম্মদ এরশাদ অসুস্থ থাকায় দলটির সাংগঠনিক কর্মকাণ্ডে স্থবিরতা দেখা দিয়েছে। ফলে কয়েকমাস ধরে দলটির নেই কোনো সাংগঠনিক কর্মসূচি। নেই রাজনৈতিক মাঠে পার্টি চেয়ারম্যানের পদচারণা। মাঝেমধ্যে দলটির বনানীর কার্যালয়ে দলের কো-চেয়ারম্যান জিএম কাদের গিয়ে বসলেও, সেখানে এখন আর আগের মতো প্রাণ নেই। নেই কর্মীদের উল্লাস-আনাগোনা।

অনেকেই মনে করেন, এরশাদ তাঁর অবর্তমানে প্রতিনিধি নির্বাচিত করে গেলেও, কর্মীদের মধ্যে এ নিয়ে কোনো প্রতিক্রিয়া নেই। জাতীয় রাজনীতিতে আলোচনা-সমালোচনা যা-ই থাকুক না কেন  জাতীয় পার্টির হঠাৎ নীরবতায় অনেকেই অবাক হয়েছেন। কারণ রাজনৈতিক মাঠে ঘন ঘন সিদ্ধান্ত পরিবর্তনের জন্য এরশাদের খ্যাতি রয়েছে। কিন্তু গত দু’মাস ধরে জাতীয় পার্টিকে কোথাও খুঁজে পাওয়া যাচ্ছে না। সরকার তাদের যেভাবে রাখছে তাতেই তাদের বেশ খুশি দেখা যাচ্ছে।

একাদশ সংসদ নির্বাচনের তফসিল ঘোষণার পর পার্টিতে বেশ চাঙাভাব দেখা গিয়েছিল। সারাদেশে তারা ৩০০ সংসদীয় আসনে প্রার্থী দেবে এমন ঘোষণাও দেয়। কিন্তু হঠাৎ করে এরশাদের অসুস্থতায় দলের সবকিছুতে স্থবিরতা নেমেছে। জানা গেছে, একাদশ সংসদে জাতীয় পার্টি  বিরোধী দলে বসলেও সংসদ  কার্যক্রমে তাদের এখন আর আগের মতো দেখা যাচ্ছে না। তাদের নিষ্ক্রিয়তায় সংসদেও এক  ধরনের ঢিলেভাব লক্ষ্য করা গেছে। তবে জাতীয় পার্টির বর্তমান প্রেক্ষাপট নিয়ে তাদের দায়িত্বশীল কোনো  নেতাই প্রকাশ্যে কিছু বলতে নারাজ।

এদিকে সংরক্ষিত নারী আসনে জাতীয় পার্টি মনোনীত ৪ সদস্য নির্বাচিত হয়েছেন। এঁরা হলেন  পার্টির প্রেসিডিয়াম সদস্য অধ্যাপিকা মাসুদা এম রশিদ চৌধুরী, অ্যাডভোকেট সালমা ইসলাম, চেয়ারম্যানের উপদেষ্টা অধ্যক্ষ রওশন আরা মান্নান ও নাজমা আকতার। পার্টির কো-চেয়ারম্যান জিএম কাদের, মহাসচিব মসিউর রহমান রাঙ্গা, প্রেসিডিয়াম সদস্য ফখরুল ইমাম, রেজাউল ইসলাম ভূঁইয়া, ভাইস চেয়ারম্যান শরিফুল ইসলাম জিন্না, ডা. রুস্তম আলী ফরাজী, যুগ্ম মহাসচিব লিয়াকত হোসেন খোকা তাদের মনোনীত করেন। জানা গেছে, নারী সাংসদ নির্বাচনের ক্ষেত্রে এরশাদের অনুসারীরা রওশাদ এরশাদের মতামত নেননি। এ কারণে তিনি বেশ ক্ষেপে আছেন।

এ বিষয়ে মশিউর রহমান রাঙ্গা এ জয়নিউজকে বলেন, জাতীয় পার্টিতে কোনো বিভেদ নেই। চেয়ারম্যান সম্মতি দিয়েছেন বলেই নারী সংসদ সদস্যদের নির্বাচিত করা হয়েছে। এতে ভুল বোঝার কিছু নেই।

সুত্র জানিয়েছে, একাদশ সংসদ নির্বাচনে অংশগ্রহণের পর থেকেই পার্টিতে এখন চলছে মান-অভিমানের খেলা। দলের সিনিয়র নেতারা এবার সরকার থেকে আরো বেশিসংখ্যক মন্ত্রিত্ব বাগিয়ে নেওয়ার আশা করেছিলেন। কিন্তু হঠাৎ এরশাদের অসুস্থতার কারণে তাঁদের স্বপ্ন ভেঙে গেছে। শুধু তাই নয়, এরশাদের অসুস্থতার জন্য পার্টির অভ্যন্তরে কি হচ্ছে, তাও জানতে পারছেন না তৃণমূল নেতারা।

সূত্র জানিয়েছে , সিঙ্গাপুর থেকে চিকিৎসা শেষে এরশাদ এখন বিশ্রামে। পার্টির অন্যতম নেতা রওশন এরশাদ অভিমান করে যান না পার্টি কার্যালয়ে। দলটির সিনিয়র নেতারাও এখন পার্টি চেয়ারম্যানের খোঁজ নিতে তাঁর বাড়িতে যান না বলে জানা গেছে।

এ বিষয়ে জাতীয় পার্টির সাবেক মহাসচিব রুহুল আমিন হাওলাদার জয়নিউজকে বলেন, দলে কোনো বিভক্তি নেই। দল চলছে সাংগঠনিক ভিত্তিতে। তিনি বলেন, মান-অভিমান থাকতেই পারে। এটাকে পুঁজি করে আজগুবি গল্প কাম্য নয়।

তিনি বলেন, চেয়ারম্যান (এরশাদ)  এখন অনেকটাই সুস্থ। তিনি আগামী সপ্তাহেই কর্মসূচি দেবেন বলে আশা করছি।

জয়নিউজ/আরসি

 

আরও পড়ুন
লোড হচ্ছে...