শ্রদ্ধায় শহীদ স্মরণ

0

মহান শহীদ দিবসে ফুলে ফুলে ছেঁয়ে গেছে শহীদ বেদী। চট্টগ্রাম কেন্দ্রীয় মিনারে ঢল নেমেছিল মানুষের। শ্রদ্ধা জানাতে আসা কারো হাতে ফুল, কারো মাথায় পতাকা। এত মানুষের ভিড়েও সবচেয়ে বেশি দৃষ্টি কাড়ছিল মিনার প্রাঙ্গণে বিভিন্ন বয়সী শিশুদের পদচারণা। বিদেশিদের উপস্থিতিও ছিল চোখে পড়ার মতো।

বড়দের মুখে শোনা আর বইয়ের পাতায় দেখা শহীদ দিবসের স্মৃতিগাঁথার সাক্ষী হতে পেরে উচ্ছ্বসিত ছিল শিশুরা। ভিড় সামলাতে কাঁধে চড়িয়ে নিজ সন্তানকে শহীদ মিনারে নিয়ে এসেছেন আইনজীবী সুনীল দত্ত। আরেক দম্পতি তাদের দুই সন্তানের মুখে-হাতে আঁকিয়ে নিচ্ছিলেন অমর একুশ আর জাতীয় পতাকার ছবি।

সকালে ইংরেজি দৈনিক পড়ে ভাষা দিবস সম্পর্কে জেনে উদ্বুদ্ধ হয়েছিলেন স্পেনের নাগরিক কিম আর পেরেরু। তাই এক বাঙালিকে নিয়ে ছুটে এসেছেন শহীদ মিনারে। এই দিবসকে ঘিরে মানুষের এত আবেগ দেখে তারা অভিভূত হয়েছেন। সারাজীবন গল্প করার জন্য শহীদ বেদীতে ফুল দেওয়া শেষে জয়নিউজের প্রতিবেদককে দিয়ে মোবাইলে তুলে রাখলেন নিজেদের ছবি। কেন্দ্রীয় শহীদ মিনার থেকে ভাষার জন্য মমতা আর প্রেমের এক নতুন অনুভূতি নিয়ে গেছেন এই বিদেশিরা।

শহীদ মিনারে বিদেশি নাগরিকদের শ্রদ্ধা

সকালে ইংরেজি দৈনিক পড়ে ভাষা দিবস সম্পর্কে জেনে উদ্বুদ্ধ হয়েছিলেন স্পেনের নাগরিক কিম আর পেরেরু। তাই এক বাঙালিকে নিয়ে ছুটে এসেছেন শহীদ মিনারে। এই দিবসকে ঘিরে মানুষের এত আবেগ দেখে তারা অভিভূত হয়েছেন। সারাজীবন গল্প করার জন্য শহীদ বেদীতে ফুল দেওয়া শেষে জয়নিউজের প্রতিবেদককে দিয়ে মোবাইলে তুলে রাখলেন নিজেদের ছবি। কেন্দ্রীয় শহীদ মিনার থেকে ভাষার জন্য মমতা আর প্রেমের এক নতুন অনুভূতি নিয়ে গেছেন এই বিদেশিরা।https://youtu.be/oxHXLxKG5YA

Posted by Joynewsbd.com on Thursday, 21 February 2019

 

শহীদ দিবসকে কেন্দ্র করে এদিন মিনারসহ আশপাশের এলাকা পরিণত হয়েছিল মানুষের মিলনমেলায়। শোকের দিবস হলেও এই দিনটি জাতির কাছে প্রাপ্তির। ৫২’র শহীদদের আত্মত্যাগের ফলেই যে মানুষ পেয়েছে মায়ের ভাষায় কথা বলার অধিকার। তাই তো এই দিন শোককে ছাপিয়ে গৌরবও কোন অংশে কম নয়। তাই প্রায় ছেলেরা পড়ে ছিলেন সাদা কালো রঙ-এর পাঞ্জাবী আর মেয়েদের পরনে ছিল একই রঙয়ের শাড়ি।

 

হেঁটে হেঁটে বিভিন্ন সাইজের পতাকা, বেলুন আর বাঁশির পাখি বিক্রি করছিলেন অনেকেই। সেইসবেও ছিল শিশুদের আগ্রহ। রঙ তুলি নিয়ে বিভিন্ন বয়সীদের হাতে-মুখে শহীদ দিবসের নানা কথা-চিহ্ন এঁকে দিচ্ছিলেন অনেকে। পলিটেকনিকের ছাত্রী শারমিন মুন্নি জয়নিউজকে বলেন, আঁকার বিনিময়ে খুশি হয়ে যে যাই দিচ্ছে তাই নিই। বাচ্চাদের মুখে-হাতে শহীদ দিবসের স্মৃতিকথা আঁকতে পেরে ভালো লাগছে।

সকালে শ্রদ্ধা জানাতে আসা মানুষের ছিল লম্বা সারি। অপর্ণাচরণ স্কুল হয়ে, বোস ব্রাদার্স, কে সি দে রোড, সিনেমা প্যালেস মোড় হয়ে মিছিল শোভাযাত্রার গন্তব্য ছিল শহীদ মিনার। সারিবদ্ধভাবে একে একে শ্রদ্ধা জানায় বিভিন্ন সামাজিক, সাংস্কৃতিক ও রাজনৈতিক সংগঠন। ফুলে ফুলে ভরে ওঠে স্মৃতির মিনার।

তবে শ্রদ্ধা জানাতে আসা অনেকের কণ্ঠে ছিল হতাশা। শিক্ষক সাদিয়া লাকি জয়নিউজকে বলেন, এখন শহীদ দিবস শুধু আনুষ্ঠানিকতায় সীমাবদ্ধ। অথচ বাংলা ভাষার বিকৃত উচ্চারণ রোধ, রাস্তাঘাটে ইংরেজি সাইনবোর্ড তুলে নেওয়া আর সর্বস্তরে বাংলা ভাষা চালু হয়নি এখনো। তিনি আরো বলেন, ৫২’র একুশে ফেব্রুয়ারি শুধু মায়ের ভাষা প্রতিষ্ঠার আন্দোলন ছিল না, বরং মানুষের মুক্তি আন্দোলনেরও সূচনা ছিল।

জয়নিউজ/জুলফিকার
আরও পড়ুন
লোড হচ্ছে...