চাই একুশ নিয়ে বই

0

বন্দরনগরে চলছে ১৯ দিনের অমর একুশে বইমেলা। তবে যে দিবস নিয়ে এত বড় পরিসরের মেলার আয়োজন, সেই ২১ ফেব্রুয়ারি নিয়ে বইয়ের দেখা মিলেছে খুবই কম। আগত দর্শনার্থীরা তাই প্রকাশকদের কাছে ভাষা আন্দোলন নিয়ে আরো কিছু বই পাওয়ার আগ্রহের কথা জানিয়েছেন জয়নিউজের নিজস্ব প্রতিবেদক হিমেল ধরকে।

বৃহস্পতিবার (২১ ফেব্রুয়ারি) সকাল ৮টায় খোলে বইমেলার দ্বার। সকালের দিকে ভিড় তুলনামূলক কম থাকলেও বেলা গড়ানোর সঙ্গে সঙ্গে জনসমাগম বাড়তে থাকে। মেলায় অভিভাবকদের সঙ্গে এসেছেন শিশুরাও।

মেলায় আসা কিশোর ও তরুণদের মধ্যে একুশের প্রতি আগ্রহ প্রকাশ পেয়েছে তাদের পোশাকেও। ভাষা শহীদদের স্মরণে অনেকেই পরেন বাংলা বর্ণমালা খচিত সাদা-কালোর মিশ্রণে ব্যতিক্রমী সব ডিজাইনের পোশাক। মেলায় এসে শিশুসহ অনেক দর্শনার্থী গালে-কপালে বর্ণমালা, শহীদ মিনার এঁকে স্মরণ করেন ভাষা শহীদদের।

সরেজমিন মেলা ঘুরে নজর কাড়ে অ্যাডর্ন পাবলিকেশনের ‘মহান একুশে সুবর্ণজয়ন্তী’ বইটি। বইটির সম্পাদক মাহ্বুব উল্লাহ। অ্যাডর্নের স্টলে গিয়ে কথা হলো প্রকাশনা সংস্থাটির বিক্রয় প্রতিনিধি এস এস সাহাদাত হোসাইনের সঙ্গে। তিনি জয়নিউজকে বলেন, ছোটদের জন্য আমাদের স্টলে ভাষা আন্দোলন নিয়ে ১২টি বই রয়েছে।

এবারের মেলায় শিশুদের বই বেশি বিক্রি হচ্ছে উল্লেখ করে তিনি বলেন, মুক্তিযুদ্ধ, মুক্তিযুদ্ধের গান, উপন্যাস এবং ইতিহাসভিত্তিক বই বিক্রি হচ্ছে বেশি। তরুণরা উপন্যাস বেশি কিনছে। অন্যদিকে বয়স্করা কিনছেন গবেষণাভিত্তিক বই।

এদিকে ফেসবুক পেজভিত্তিক পেন্সিল পাবলিকেশন এবারে এসেছে ৫২টি বই নিয়ে। প্রকাশনা সংস্থাটির বিক্রেতা নাজিউল শামিম জয়নিউজকে বলেন, নতুন লেখকদের উৎসাহিত করার জন্য ফেসবুকে আমাদের একটি পেজ আছে। আগে আমরা ঢাকাকেন্দ্রিক মেলাতে অংশ নিতাম। কিন্তু চট্টগ্রামের বইমেলাতেও পাওয়া যাচ্ছে আমাদের বই। আমাদের স্টলে শিশুদের জন্য উপযোগী বেশ কিছু বই রয়েছে। তবে উপন্যাস বিক্রি হচ্ছে বেশি।

আন্দরকিল্লা থেকে আসা বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্রী সৌমিতা শর্মা জয়নিউজকে বলেন, চট্টগ্রামের প্রথম বড় পরিসরের এই একুশে বইমেলায় এসে খুব ভালো লাগছে। আমার উপন্যাস পড়তে বেশি ভালো লাগে। তাই মেলায় আসা উপন্যাসগুলো উল্টে-পাল্টে দেখছি।

আগ্রাবাদ থেকে আসা সোনালী ব্যাংকের কর্মকর্তা সত্যজিত ঘোষ জয়নিউজকে বলেন, ছেলেকে নিয়ে আসলাম মেলা ঘুরতে। ছেলেকে মুক্তিযুদ্ধ নিয়ে একটি ছবির বই কিনে দিলাম।

একুশে বইমেলার যুগ্ম সচিব জামাল উদ্দিন জয়নিউজকে বলেন, এবার মুক্তিযুদ্ধের বই, শিশুতোষ গল্প, উপন্যাস বিক্রি হচ্ছে বেশি। আজ (বৃহস্পতিবার) প্রতিটি স্টলে প্রায় ৫০ থেকে ৬০ হাজার টাকার কাছাকাছি বই বিক্রি হয়েছে। কোনো কোনো স্টলে বিক্রি লাখ টাকা ছাড়িয়েছে। সবমিলিয়ে মেলায় আজ এক কোটি টাকার কাছাকাছি বই বিক্রি হয়েছে।

জয়নিউজ/জুলফিকার
আরও পড়ুন
লোড হচ্ছে...