গণতন্ত্রকে পোড়ানো হয় ৩০ ডিসেম্বর: ড. কামাল

0

একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ভোটের অনিয়ম নিয়ে জাতীয় ঐক্যফ্রন্টের গণশুনানি হয়েছে শুক্রবার (২২ ফেব্রুয়ারি)।

সকাল ১০টায় সুপ্রিমকোর্ট আইনজীবী সমিতি মিলনায়তনে শুরু হওয়া গণশুনানি চলে বিকেল ৪টা পর্যন্ত। প্রথম অধিবেশন দুপুর সাড়ে ১২টায় শেষ হয়।

ধানের শীষ প্রতীকের প্রার্থীরা ভোটকে কেন্দ্র করে ঘটে যাওয়া নানা অনিয়মের বর্ণনা দেন। জামায়াত আর মহাজোট ছাড়া সব রাজনৈতিক দলের নেতাকে গণশুনানিতে আমন্ত্রণ জানানো হয়।

গণশুনানির শুরুতে ড. কামাল হোসেন বলেন, তারা বিচারক নন। বিচার করার ক্ষমতা তাদের নেই। বিচার হবে নির্বাচনি ট্রাইব্যুনালে। গণশুনানিতে যে বক্তব্য আসবে, তা পরবর্তী সময়ে বই আকারে প্রকাশ করার কথা জানান কামাল হোসেন।

৩০ ডিসেম্বর প্রহসনের নির্বাচন হয়েছে দাবি করে বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেন, দেশে গণতান্ত্রিক পরিবেশ না থাকায় সরকার যা ইচ্ছা তাই করছে। এজন্য সরকারকে জবাবদিহিও করতে হয় না।

কুড়িগ্রাম-২ আসনের গণফোরাম ও ধানের শীষের প্রার্থী মেজর জেনারেল (অব.) আমসা আমিন বলেন, ৩০ ডিসেম্বর বাংলাদেশে কোনো নির্বাচন হয় নাই। একটি কেন্দ্রে ধানের শীষে ভোট পড়ায় ক্ষমতাসীন দলের নেতা-কর্মীরা ব্যালট বাক্স ছিনিয়ে নিয়ে ব্যালট পেপার পুড়িয়ে ফেলেছিল। সেদিন তারা ব্যালট নয়, গণতন্ত্রকে পুড়িয়েছিল। সংবিধান ও জনগণের ভোটের অধিকারকে পদদলিত করেছে।

পিরোজপুর-২ আসনের ধানের শীষ প্রতীকের প্রার্থী লেবার পার্টির চেয়ারম্যান মোস্তাফিজুর রহমান ইরান বলেন, খালেদা জিয়াকে কারাগারে রেখে এসব শুনানি করে কোনো ফল পাওয়া যাবে না। আন্দোলনের কর্মসূচি দিন। রাজপথেই সমাধান সম্ভব। এই অবস্থা থেকে মুক্তির একমাত্র পথ আন্দোলন, আন্দোলন এবং আন্দোলন।

ঐক্যফ্রন্টের প্রার্থী ও গণফোরামের সভাপতিমণ্ডলীর সদস্য রেজা কিবরিয়া অভিযোগ করে বলেন, সাদা পোশাকে তাঁর কর্মীদের তুলে নেওয়া হয়। নির্বাচনের দেড় মাস আগে থেকেই কর্মীরা বাড়ি ছাড়া হয়েছেন।

ঐক্যফ্রন্টের প্রার্থী এস এম আকরাম বলেন, সভা-সমাবেশ করতে মঞ্চ তৈরির জন্য নিজের এলাকা থেকে লোক পাওয়া যায় না। বাইরে থেকে লোক আনতে গেলে বাধা দেওয়া হয়। মুন্সিগঞ্জ থেকে মাইক ভাড়া করে আনতে হয়েছে বলে জানান আকরাম।

সিরাজগঞ্জের ঐক্যফ্রন্টের প্রার্থী রুমানা মাহমুদ অভিযোগ করেন, তার প্রচার মিছিলে পুলিশ গুলি চালিয়েছে। গুলিতে তার কর্মী মেরী বেগমের দুই চোখ ক্ষতিগ্রস্ত হয়। বক্তব্য রাখার সময় তিনি মেরী বেগমকে নিয়ে মঞ্চে ওঠেন। মেরী বলেন, তাকে ভোট দেওয়ার অধিকার ফিরিয়ে দিতে হবে, নয়তো চোখ ফেরত দিতে হবে।

গণশুনানির আগে ঢাকার চকবাজারে আগুনে মর্মান্তিকভাবে নিহত ও আহতদের জন্য শোক প্রস্তাব গৃহীত হয়েছে। গণশুনানিতে ছয়জন জুরি বোর্ডের সদস্য রয়েছেন। ঐক্যফ্রন্টের শীর্ষ নেতা গণফোরাম সভাপতি কামাল হোসেনের নেতৃত্বে সাতজন এই শুনানি পরিচালনা করেন। মিলনায়তনের মঞ্চে কামাল হোসেনের সঙ্গে আরো ছিলেন অধ্যাপক এমাজউদ্দিন আহমেদ, অধ্যাপক নুরুল আমিন ব্যাপারী, সাবেক বিচারক আ ক ম আনিসুর রহমান খান, অধ্যাপক দিলারা চৌধুরী, অ্যাডভোকেট মহসিন রশিদ ও অধ্যাপক আসিফ নজরুল।

আর অতিথি সারিতে বসে বক্তব্য শোনেন বিএনপি নেতা মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর, আবদুল মঈন খান, আবদুল্লাহ আল নোমান, সেলিমা রহমান, নিতাই রায় চৌধুরী, শামসুজ্জামান দুদু, জয়নুল আবদিন ফারুক, আবদুস সালাম, জেএসডির আ স ম আবদুর রব, তানিয়া রব, শহীদ উদ্দিন মাহমুদ স্বপন, কৃষক শ্রমিক জনতা লীগের কাদের সিদ্দিকী, হাবিবুর রহমান তালুকদার, গণফোরামের সুব্রত চৌধুরী, মোস্তফা মহসিন মন্টু, রেজা কিবরিয়া, অধ্যাপক আবু সাইয়িদ, নাগরিক ঐক্যের মাহমুদুর রহমান মান্না, এস এম আকরাম, শহিদুল্লাহ কায়সার, জাহেদ-উর রহমান, গণস্বাস্থ্য কেন্দ্রের জাফরুল্লাহ চৌধুরী। একাদশ সংসদ নির্বাচনে বিভিন্ন আসনে ঐক্যফ্রন্টের প্রার্থী ও তাদের কর্মী-সমর্থকরাও উপস্থিত ছিলেন এ ‘গণশুনানিতে’।

জয়নিউজ/অভিজিত/জুলফিকার
আরও পড়ুন
লোড হচ্ছে...