হাসিনার হাত ধরে টানেল যুগে বাংলাদেশ

0

শেখ হাসিনার বাংলাদেশে এখন রাস্তায় চলছে গাড়ি, কিছুদিন পর রাস্তার উপর উড়বে মেট্রো, নদীর উপরে হতে যাচ্ছে সেতু, এবার ষোলকলা পূর্ণ করে নদীর তলদেশে হবে টানেল। এ এক মহাউন্নয়নযজ্ঞ! এর আগে নদীকে বশ মানিয়ে হয়েছে দীর্ঘ যমুনা সেতু। বর্তমানে কাজ চলছে পদ্মা সেতুর। ভূ-উচ্চতাকে জয় করে রাজধানীতে চলছে মেট্রোরেলের কাজ। এসব ঘটনা যোগাযোগ-বিপ্লব হিসেবে মাইলফলক। রাত পোহালেই চট্টগ্রাম সৃষ্টি করতে যাচ্ছে ইতিহাস। রোববার, ২৪ ফেব্রুয়ারি কর্ণফুলী নদীর তলদেশে টানেল উদ্বোধন হতে যাচ্ছে। হাসিনার হাত ধরে বাংলাদেশের টানেলযুগে প্রবেশের আগের সন্ধ্যায় জয়নিউজের বিশেষ প্রতিবেদন-

রাত পোহালেই উন্নয়নের ‘টানেল যুগে’ প্রবেশ করতে যাচ্ছে বাংলাদেশ। চট্টগ্রাম যার সাক্ষী। কর্ণফুলী নদীর তলদেশ দিয়ে যাওয়া এই টানেল চট্টগ্রামের দুই প্রান্তকে সংযুক্ত করবে। সৃষ্টি হবে উপমহাদেশের বুকে এক ইতিহাস। যার মাধ্যমে ট্রান্স এশিয়ান হাইওয়েতে যুক্ত হওয়ার পথে আরও একধাপ এগিয়ে যাবে বাংলাদেশ। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নির্বাচনি প্রতিশ্রুতির একটি এই টানেল।

সকাল ১০টায় চট্টগ্রাম বিমানবন্দরে নামবে ঢাকা থেকে চট্টগ্রামের টানে উড়ে আসা প্রধানমন্ত্রীর বিমান। বিমানবন্দর থেকে সকাল ১১টার আগেই প্রধানমন্ত্রী চলে আসবেন উদ্বোধনস্থলে। শনিবার সন্ধ্যা সাড়ে সাতটায় মুঠোফোনে কথা হলো নগরপিতা ও নগর আওয়ামী লীগ সাধারণ সম্পাদক আ জ ম নাছির উদ্দিনের সঙ্গে। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে স্বাগত জানাতে নানাকরম প্রস্তুতির সর্বশেষ তদারকি করছেন তিনি। ফোনের অপরপাশে শুনতে পেলাম মেয়রের মুখ থেকে নেতাকর্মীদের দেওয়া নির্দেশনা। ব্যস্ততার মধ্যেও জয়নিউজকে তিনি বলেন, উপমহাদেশের প্রথম যোগাযোগ বিপ্লব এই টানেল। এ অঞ্চলে বিশেষ অর্থনৈতিক উন্নয়নে জোরালো ভূমিকা রাখবে টানেলটি।

তিনি আরো বলেন, টানেল উদ্বোধনের পর সুধি সমাবেশে বক্তব্য দিবেন প্রধানমন্ত্রী। নিরাপত্তা, সমাবেশ আয়োজন এবং সার্বিক প্রস্তুতি দেখতে সকাল ১১টা থেকে লেগে আছেন মেয়র। মেয়রের ভাষায়, টানেল বিপ্লবের জন্য প্রস্তুত চট্টগ্রাম। আপামর উন্নয়নকামী চাটগাঁবাসীর পক্ষ থেকে প্রধানমন্ত্রীকে কৃতজ্ঞতা জানালেন মেয়র। কণ্ঠে জোর দিয়ে নানামুখি ব্যস্ততার মধ্যেও মেয়র বললেন, কর্ণফুলী নদীর তলদেশের এ টানেল চট্টগ্রামের দুই প্রান্তকে সংযুক্ত করে উপমহাদেশে ইতিহাস সৃষ্টি করতে যাচ্ছে।

সূত্র জানায়, নদীর তলদেশে সুড়ঙ্গ করার কাজে ব্যবহার করা হবে অত্যাধুনিক টানেল বোরিং মেশিন (টিবিএম)। ২৪ ফেব্রুয়ারি প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা এ যন্ত্রটির উদ্বোধন করবেন। সবকিছু ঠিক থাকলে ২০২২ সালে প্রস্তাবিত টানেল নির্মাণ কাজ শেষ হবে। ২০২৩ সালের জানুয়ারি থেকেই টানেল দিয়ে চলাচল করবে যানবাহন। চার লেনের দুটি টিউব সম্বলিত ৩ দশমিক ৪ কিলোমিটার নদীর তলদেশ দিয়ে টানেল নির্মিত হচ্ছে। এছাড়া টানেলের পশ্চিম ও পূর্ব প্রান্তে ৫ দশমিক ৩৫ কিলোমিটার এপ্রোচ রোড এবং ৭২৭ মিটার ওভার ব্রিজ সম্পন্ন টানেলটি চট্টগ্রাম শহরের সঙ্গে আনোয়ারা উপজেলাকে সংযুক্ত করবে।

জানা গেছে, এ টানেল স্থাপনের মাধ্যমে ট্রান্স এশিয়ান হাইওয়েতে যুক্ত হওয়ার পথে আরও একধাপ এগিয়ে যাবে বাংলাদেশ। ১১ বছর আগে চট্টগ্রামে গিয়ে টানেলের স্বপ্ন দেখিয়েছিলেন প্রধানমন্ত্রী। প্রকল্প বাস্তবায়নে ব্যয় হবে প্রায় ১০ হাজার কোটি টাকা। চট্টগ্রামে দেশের প্রথম টানেল নির্মাণের প্রতিশ্রুতি এসেছিল ২০০৮ সালে। চট্টগ্রামের লালদীঘি মাঠের এক জনসভায় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা এ প্রতিশ্রুতি দেন। এখানেই নদীর তলদেশের ১৮ থেকে ৩১ মিটার গভীর দিয়ে চলবে সারি সারি গাড়ি। সে লক্ষ্যেই নির্মাণ করা হচ্ছে দেশ তথা সার্কের প্রথম টানেল সড়ক। যদিও প্রতিবেশী ভারতের কলকাতার গঙ্গা নদীর নিচেও একই সময়ে নির্মাণ হতে যাচ্ছে মেট্রো চলাচলের জন্য টানেল। যার নাম ইস্ট-ওয়েস্ট মেট্রো। যার ফলে গঙ্গার নিচ থেকে টানেলে সহজেই জলপথ পার হওয়া যাবে। ২০২১ সালে ইস্ট-ওয়েস্ট মেট্রোর হাত ধরে যাত্রী পরিবহনে বিপ্লব ঘটবে।

কিভাবে কাজে আসবে এই টানেল? উত্তরটি সোজা। কক্সবাজারের মহেশখালী মাতারবাড়ি এলাকায় দেশের প্রথম গভীর সমুদ্র বন্দর, কয়লাভিত্তিক তাপ বিদ্যুৎকেন্দ্র, এলএনজি স্টেশনসহ জ্বালানিভিত্তিক বিপুলসংখ্যক দেশি-বিদেশি বিনিয়োগের যেসব শিল্প-কারখানা নির্মাণের কাজ চলছে টানেল তাদের সঙ্গে পুরো বাংলাদেশের যোগাযোগের ক্ষেত্রে প্রধান ভূমিকা পালন করবে। তাছাড়া আনোয়ারা এলাকায় নির্মাণাধীন চায়না অর্থনৈতিক অঞ্চল এবং ইতোমধ্যে গড়ে ওঠা কোরিয়ান ইপিজেডসহ অন্যান্য শিল্প কারখানার ক্ষেত্রে সুবিধাজনক যোগাযোগ ব্যবস্থায় টানেল ভূমিকা রাখবে। চট্টগ্রাম শহরকে বাইপাস করে ঢাকা থেকে সরাসরি কক্সবাজারের সঙ্গে সহজ যোগাযোগ স্থাপিত হবে। ফলে চট্টগ্রাম শহরের যানজট কমাসহ ভ্রমণ সময় উল্লেখযোগ্য হ্রাস পাবে।

সড়ক পরিবহন ও সেতু মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র তথ্য কর্মকর্তা আবু নাছের সাংবাদিকদের জানান, প্রধানমন্ত্রী চট্টগ্রাম সফরে গিয়ে পতেঙ্গা কনস্ট্রাকশন ইয়ার্ডে দুই টিউবের দেশের প্রথম টানেল খনন কাজের সূচনা করবেন। প্রায় ৯ হাজার ৮৮০ কোটি টাকা ব্যয়ে টানেলটির নির্মাণ কাজ বাস্তবায়ন করছে সেতু বিভাগ। যার মধ্যে বাংলাদেশ সরকারের অর্থ সহায়তা ৩ হাজার ৯৬৭ কোটি ২১ লাখ এবং চীন সরকারের অর্থ সহায়তা ৫ হাজার ৯১৩ কোটি ১৯ লাখ টাকা। দুটি টিউবের মূল টানেলের দৈর্ঘ্য ৩ দশমিক ৪ কিলোমিটার। পশ্চিম ও পূর্ব প্রান্তে ৫ দশমিক ৩৫ কিলোমিটার সংযোগ সড়ক এবং ৭২৭ মিটার ওভার ব্রিজসহ এ টানেল চট্টগ্রামের আনোয়ারা উপজেলাকে শহরাঞ্চলের সঙ্গে যুক্ত করবে। চায়না কমিউনিকেশন এবং কনস্ট্রাকশন কোম্পানি (সিসিসিসি) লিমিটেড টানেল নির্মাণের ঠিকাদার প্রতিষ্ঠান হিসেবে কাজ করছে।

 

আরএন/জয়নিউজ

আরও পড়ুন
লোড হচ্ছে...