আইন থাকলেও বন্ধ হয়নি প্রকাশ্যে ধূমপান

0

আইন আছে। আছে শাস্তির বিধানও। কিন্তু তা শুধু কাগজে-কলমে। তাই পাবলিক প্লেসে ধূমপান এখনো বন্ধ হয়নি।

গত ১৮ ফেব্রুয়ারি চট্টগ্রাম আদালত এলাকায় প্রকাশ্যে ধূমপানের দায়ে ১৭ জনকে জরিমানা করেন ভ্রাম্যমাণ আদালত। অথচ এখনো প্রকাশ্যে ধূমপান চলছে ওই এলাকায়।

দেখা যায়, আদালত ভবন, এনেক্স ভবন-১ ও ২, নারী ও শিশু নির্যাতন ট্রাইব্যুনাল-২ ও চিফ জুডিশিয়াল নতুন বিল্ডিংয়ের  আশেপাশে প্রকাশ্যে ধূমপান করছে আদালত পাড়ায় আসা বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ। এসব জায়গার খুব পরিচিত একটা দৃশ্য হলো এক হাতে চা আর আরেক হাতে সিগারেট। অধূমপায়ীরা এসব এলাকা দিয়ে চলাফেরা করতে মোটেই স্বস্তিবোধ করেন না।

এখানকার একজন সিগারেট বিক্রেতা আবুল কাশেম জানান, প্রতিদিন তার দোকানে সিগারেট বিক্রি থেকে লাভ থাকে প্রায় ৮ থেকে ৯শ’ টাকা। তিনি অনেকদিন ধরে এই এলাকায় ব্যবসা করছেন। তার মতো আরো প্রায় শতাধিক মানুষ আদালত পাড়ায় চা-সিগারেট বিক্রি করে জীবিকা নির্বাহ করেন।

আইনজীবীদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, আদালত পাড়ায় ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনার পরেরদিন থেকে আবারো চলছে প্রকাশ্যে ধূমপান। তারা জানান, প্রকাশ্য ধূমপানে জরিমানা করা যেমন জরুরি, ঠিক তেমনি মানুষের মধ্যে সচেতনতাও বাড়ানো প্রয়োজন। তাই কিছুদিন পর পর পাবলিক প্লেসে ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করা উচিত।

এছাড়া রাস্তাঘাট, বাসস্ট্যান্ড সর্বত্র চলে অবাধে ধূমপান। সিগারেট-বিড়ির দোকান বসে খোদ হাসপাতাল চত্বরেই। ফলে ধূমপায়ী তো বটেই, সাধারণ মানুষও বিষ-ধোঁয়ায় আক্রান্ত হচ্ছে। চিকিৎসকদের বক্তব্য, ধূমপায়ীদের চেয়েও পরোক্ষ ধূমপান (প্যাসিভ স্মোকিং) আরও ক্ষতিকর। পরোক্ষ ধূমপায়ীদের হাঁপানি কিংবা শ্বাসনালির ক্যান্সারে আক্রান্ত হওয়ার আশঙ্কা বেশি থাকে।

এ বিষয়ে জেলা প্রশাসক মো. ইলিয়াছ হোসেন জয়নিউজকে বলেন, যে কোনো সময় ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করা হবে প্রকাশ্য ধূমপানের বিরুদ্ধে। প্রকাশ্যে ধূমপান আইনগত অপরাধ। ক’দিন আগে প্রকাশ্য ধূমপানের বিরুদ্ধে অভিযান পরিচালনা করা হয়েছে। নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রটকে নিয়মিত অভিযান পরিচালনার জন্য নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

উল্লেখ্য, গত ১৮ ফেব্রুয়ারি জেলা প্রশাসনের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট মুশফিকীন নূরের নেতৃত্বে আদালত এলাকায় ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনার সময় প্রকাশ্যে ধূমপান করায় ১৭ জনকে জরিমানা এবং ৪ জনকে মুচলেকা দিয়ে ছেড়ে দেওয়া হয়। প্রকাশ্যে ধূমপান নিয়ন্ত্রণে আইন পাশ করা হয়েছে ৯ বছর আগে। সম্প্রতি আইনের সংশোধনীও আনা হয়েছে। জরিমানার অঙ্ক ৫০ টাকা থেকে বাড়িয়ে ৩০০ টাকা করা হয়েছে। দোকানদারদেরও এই জরিমানার আওতায় আনা হয়েছে।

কিন্তু প্রকাশ্যে ধূমপান নিয়ন্ত্রণে এই আইন যে কতটা ব্যর্থ তার প্রমাণ মেলে চট্টগ্রাম আদালত পাড়ায় এলে।

জয়নিউজ/আরসি
আরও পড়ুন
লোড হচ্ছে...