চবির সেই তিন ছাত্রলীগ নেতার বিরুদ্ধে মামলা

0

গভীর রাতে দুই আবাসিক হলে তল্লাশি অভিযানে অস্ত্র উদ্ধারের ঘটনায় চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের (চবি) তিন ছাত্রলীগ নেতার বিরুদ্ধে মামলা করেছে পুলিশ। তাদের বিরুদ্ধে দণ্ডবিধির ১৯ ধারায় এ মামলা করা হয়েছে।

সোমবার (২৫ ফেব্রুয়ারি) রাতে মামলা দায়ের করে মঙ্গলবার তাদের আদালতে হাজির করা হয়।

অন্যদিকে, নারীসহ আটক হওয়া আরেক ছাত্রলীগ কর্মীকে মুচলেকা নিয়ে ছেড়ে দিয়েছে পুলিশ।

হাটহাজারী থানা সূত্রে জানা যায়, শাহজালাল হল থেকে আগ্নেয়াস্ত্র উদ্ধারের ঘটনায় চারুকলা বিভাগের ২০১২-১৩ শিক্ষাবর্ষের মোফাজ্জল হায়দার চৌধুরী ওরফে টাইগার মোফাকে আসামি করা হয়েছে। তিনি বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রলীগের বিলুপ্ত কমিটির সহসভাপতি মনসুর আলমের অনুসারী সিক্সটি নাইন গ্রুপের কর্মী। হাটহাজারী মডেল থানার উপ-পরিদর্শক অজয় পাল বাদী হয়ে এ মামলা করেন।

এদিকে সোহরাওয়ার্দী হল থেকে অস্ত্র উদ্ধারের ঘটনায় একই শিক্ষাবর্ষের পদার্থবিদ্যা বিভাগের নিয়াজ আবেদিন পাঠান ও সাইফুল হাসানকে আসামি করা হয়েছে। তারা একই কমিটির উপ-সাহিত্য বিষয়ক সম্পাদক ইমাম উদ্দীন ফয়সাল পারভেজের অনুসারী একাকার গ্রুপের কর্মী। আরেক উপ-পরিদর্শক জালালুদ্দীন বাদী হয়ে এ মামলাটি করেন।

অন্যদিকে সোহরাওয়ার্দী হলের অতিথি কক্ষ থেকে তালাবদ্ধ অবস্থায় বহিরাগত তরুণীসহ আটকের ঘটনায় ২০১৪-১৫ শিক্ষাবর্ষের ইংরেজি বিভাগের শিক্ষার্থী খাইরুল ইসলামকে মুচলেকা নিয়ে ছেড়ে দেওয়া হয়েছে। আর ওই তরুণীকে অভিভাবকের কাছে বুঝিয়ে দেওয়া হয়েছে।
খাইরুল শাখা ছাত্রলীগের সাবেক উপ-দপ্তর সম্পাদক মিজানুর রহমান বিপুলের অনুসারী ভিএক্স গ্রুপের কর্মী।

এ ঘটনায় ওই আবাসিক হলের দায়িত্বে থাকা নিরাপত্তাকর্মী জিয়াউল হক ও ইউনুছকে শোকজ করা হয়েছে বলে জানিয়েছেন হলটির প্রভোস্ট অধ্যাপক ড. বশির আহাম্মদ।

মামলার বিষয়ে কথা বলতে হাটহাজারী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) বেলাল উদ্দীন জাহাঙ্গীরের সঙ্গে মুঠোফোনে যোগাযোগের চেষ্টা করেও সম্ভব হয়নি।

তবে সিক্সটি নাইন গ্রুপের নেতা মনসুর আলম জয়নিউজকে বলেন, মোফা সোহরাওয়ার্দী হলের আবাসিক ছাত্র। আগ্নেয়াস্ত্র উদ্ধার হয়েছে শাহজালাল হলে। ওই অস্ত্রের সঙ্গে তার সম্পৃক্ততা প্রশ্নই আসে না। তবে যেহেতু মামলা হয়ে গেছে আমরা আইনি প্রক্রিয়ায় এটির সমাধান করার চেষ্টা করব।

আর একাকার গ্রুপের নেতা ইমাম উদ্দীন ফয়সাল পারভেজ জয়নিউজকে বলেন, তাদের মধ্যে একজন শাহ আমানত হল, আরেকজন আব্দুর
রব হলের আবাসিক শিক্ষার্থী। সেদিন বন্ধুর রুমে গিয়ে তারা আটকে পড়েছিল। অস্ত্র মামলা হলে ওই হলের আবাসিক শিক্ষার্থীদের নামে হওয়ার কথা। অথচ যে রুমে অস্ত্র উদ্ধার হয়েছে ওই রুমের ছাত্রদের নামে মামলা হয়নি। আমরা তাদের নিঃশর্ত মুক্তি দাবি করছি।

এর আগে ২৪ ফেব্রুয়ারি দিবাগত রাত আড়াইটা থেকে সাড়ে চারটা পর্যন্ত বিশ্ববিদ্যালয়ের সোহরাওয়ার্দী ও শাহ জালাল হলে তল্লাশি চালিয়ে একটি আগ্নেয়াস্ত্র, বেশ কিছু দেশীয় অস্ত্র উদ্ধার করা হয়। অতিথি কক্ষ থেকে তালাবদ্ধ অবস্থায় উদ্ধার করা হয় বহিরাগত এক তরুণীকে। এ ঘটনায় মোট ১৮ জনকে আটক করা হয় তখন। পরে বাকিদের ছেড়ে দেওয়া হয়।

জয়নিউজ/নওয়াব/বিশু

আরও পড়ুন
লোড হচ্ছে...