আজব খালের এ কী হাল!

0

দখলে-দূষণে বিপর্যস্ত নগরের আজব বাহার খাল। দীর্ঘদিন সংস্কার না হওয়ায় খালটি এখন মৃতপ্রায়। ফলে আসন্ন বর্ষা মৌসুমে এ খালের আশেপাশে বসবাসকারী মানুষ জলাবদ্ধতায় দুর্ভোগের আশঙ্কা করছেন।

নগরের ২৫নং রামপুর ওয়ার্ডের প্রাচীন একটি খালের নাম আজব বাহার খাল। কথিত আছে, বৃটিশ আমলে এ খাল দিয়ে নৌকায় করে পণ্য পরিবহন করা হতো। কিন্তু কালের বিবর্তনে দৈর্ঘ্যে-প্রস্থে সে খাল এখন একটি সাধারণ নালার আকৃতি ধারণ করেছে।

এলাকার মানুষ তাদের গৃহস্থালি সব বর্জ্য এ খালের মধ্যে ফেলেন। আশপাশের দোকান ও ব্যবসা প্রতিষ্ঠানগুলোর বর্জ্যও এ খালেই ফেলা হয়। এছাড়া খাল দখল করে অনেক ভবন ও দোকান তৈরি করা হয়েছে। খালের পাড়ে বসবাস করা মানুষের দৈনন্দিন বর্জ্য ও দখলদারদের দখলে খালটি দিয়ে পানি প্রবাহ এখন প্রায় বন্ধ হয়ে গেছে।

সরেজমিনে দেখা যায়, আজব বাহার খাল নগরের ঈদগাহের ঝরনা পাড়া থেকে শুরু করে পাহাড়তলী পুলিশ বক্স পর্যন্ত বিস্তৃত। দীর্ঘ প্রায় ৫ কিলোমিটার খালটি ২৫নং রামপুর ওয়ার্ডের ঈদগাহ, মুন্সিপাড়া, ওয়াপদা কলোনি হয়ে পাহাড়তলী দিয়ে মহেশখালে গিয়ে পড়েছে। তবে খালের মুন্সীপাড়া এলাকায় আবর্জনার স্তর এতোটাই বেড়েছে যে এর উপর দিয়ে মানুষ হেঁটে যেতে পারবে। এছাড়া ঘর-বাড়িসহ নানা স্থাপনা তৈরি করা হয়েছে খালের পাড় ঘেঁষে। এমনকি মুন্সীপাড়া সমাজ পরিচালনা কমিটির কার্যালয়টিও তৈরি করা হয়েছে খালের উপরে।

এলাকার স্থায়ী বাসিন্দা হুমায়ুন রশিদ জয়নিউজকে বলেন, বিগত কয়েক বছর ধরে এ খালের কোন সংস্কার করা হয়নি। তাই খালের পানি প্রবাহ প্রায় বন্ধ হয়ে গেছে। সামান্য বৃষ্টি হলেই এখানে হাঁটু পানি হয়ে যায়। ঘরে পানি ঢুকে। তখন চরম ভোগান্তি পোহাতে হয়। এ বিষয়ে স্থানীয় কাউন্সিলরকে অনেকবার জানানো হয়ছে। কিন্তু কোন এক অজানা কারণে এ খাল পরিষ্কারে সিটি করপোরেশনের কোন কার্যক্রম নেই।

জানতে চাইলে মুন্সীপাড়া সমাজ পরিচালনা কমিটির সভাপতি ওমর মিয়া জয়নিউজকে বলেন, কমিটির পক্ষ থেকে আমরাও কাউন্সিলরকে বলেছি। তিনি এ বিষয়ে মেয়র মহোদয়কে অবহিত করেছেন বলে জানিয়েছেন। হয়তো আগামী বর্ষার আগে সংস্কার কাজ হতে পারে।

খালের উপরে কমিটির কার্যালয় কেন, এ প্রশ্নের উত্তরে তিনি বলেন, কার্যালয় তো খালের অনেক উপরে। পানি প্রবাহে কোন সমস্যা হয় না। তবে এরপরও যদি সমস্যা হয় তাহলে আমরা কার্যালয় অন্যত্র সরিয়ে নেব।

আজব বাহার খালের দখল-দূষণ সম্পর্কে জানতে চাইলে ২৫নং রামপুর ওয়ার্ডের কাউন্সিলর মো. এরশাদ উল্লাহ জয়নিউজকে বলেন, নগরের জলাবদ্ধতা নিরসনে সরকারের পক্ষ থেকে সিডিএকে বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে। নিয়মানুসারে তারা নগরের সব খাল ও নালা সংস্কারের দায়িত্ব নিয়েছে। তবে আগামী বর্ষায় যাতে এলাকাবাসীর দুর্ভোগ না হয় সেজন্য খালের সংস্কারের জন্য মেয়র মহোদয়কে অবহিত করেছি। তিনি সিডিএ’র সঙ্গে সমন্বয় করে এ বিষয়ে ব্যবস্থা নেবেন বলে জানিয়েছেন।

জয়নিউজ/জুলফিকার

আরও পড়ুন
লোড হচ্ছে...