বিনিয়োগের অনুকূল পরিবেশ তৈরির তাগিদ ইইউ নেতৃবৃন্দের

0

ইউরোপীয় ইউনিয়নের (ইইউ) রাষ্ট্রদূত রেনজি তিরিংক বলেন, প্রাকৃতিক অবস্থানের কারণে চট্টগ্রাম বাণিজ্যিকভাবে অত্যন্ত সম্ভাবনাময় একটি অঞ্চল। এখানকার বিদেশি বিনিয়োগ আকর্ষণে প্রয়োজনীয় নীতিমালা সংস্কারের মাধ্যমে ব্যবসা-বাণিজ্যের অনুকূল পরিবেশ নিশ্চিত করতে হবে।

বুধবার (১৩ মার্চ) সকালে ওয়ার্ল্ড ট্রেড সেন্টারের বঙ্গবন্ধু কনফারেন্স হলে চেম্বার নেতৃবৃন্দের সঙ্গে ইউরোপীয় ইউনিয়নের (ইইউ) প্রতিনিধিদলের মতবিনিময়কালে তিনি একথা বলেন।

রেনজি তিরিংক ব্লু ইকনোমির বিশাল সম্ভাবনা কাজে লাগাতে উভয় পক্ষের গবেষণা প্রতিষ্ঠানগুলোতে যৌথভাবে কাজে লাগানোর আহ্বান জানান।

চট্টগ্রাম চেম্বারের সভাপতি মাহবুবুল আলম বলেন, ইউরোপের সঙ্গে বাংলাদেশের বর্তমান বাণিজ্য প্রায় ২০ বিলিয়ন ইউরো। তবে বাণিজ্য সম্প্রসারণ ও বিনিয়োগ বৃদ্ধির প্রচুর সম্ভাবনা রয়েছে। বৃহত্তর চট্টগ্রামে প্রায় এক লাখ কোটি টাকার চলমান অবকাঠামো উন্নয়ন প্রকল্পে ইউরোপিয়ান ইউনিয়নের ২৮টি দেশ থেকে তিনি সহযোগিতা কামনা করেন।

স্পেনের রাষ্ট্রদূত আলভারো দে সালাস গিমেনেজ ডি এজকারেট বলেন, পশ্চিমা বিশ্ব এখন প্রাচ্যের দিকে ধাবিত হচ্ছে। অর্থনৈতিক কূটনীতি এক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে। বিনিয়োগ আকর্ষণে ব্র্যান্ডিং বাংলাদেশের উপর গুরুত্বারোপ করা দরকার।

নেদারল্যান্ডের রাষ্ট্রদূত হ্যারি ভারওয়েজ বলেন, বাংলাদেশ অর্থনৈতিক দিক দিয়ে এগিয়ে যাচ্ছে। তাই উন্নত দেশের সঙ্গে অংশীদারিত্ব স্থাপন করা প্রয়োজন। চট্টগ্রাম বন্দরের ক্রমবর্ধমান সক্ষমতাকে কাজে লাগিয়ে সামুদ্রিক ও কৃষি খাতে গুরুত্ব দিয়ে বিনিময়ের মাধ্যমে সক্ষমতা বৃদ্ধি, নারীর অংশগ্রহণ নিশ্চিত ও অর্থনীতির উন্নয়নে কাজ করা দরকার।

ইতালির রাষ্ট্রদূত এনরিকো নুনজিয়াতা বলেন, কেমিক্যাল, নবায়নযোগ্য জ্বালানি, এলএনজিসহ এসব খাতে প্রকৌশলীদের দক্ষতা বৃদ্ধিতে বাংলাদেশ ইউরোপিয়ান ইউনিয়নের সহায়তা নিতে পারে।

এসময় অন্যান্যের মধ্যে চেম্বারের সিনিয়র সহসভাপতি মো. নুরুন নেওয়াজ সেলিম, চেম্বার পরিচালক ও বিজিএমইএ’র ১ম সহসভাপতি মঈনুদ্দিন আহমেদ ও ওমর হাজ্জাজ, চেম্বারের প্রাক্তন সভাপতি ইঞ্জিনিয়ার আলী আহমেদ ও প্রাক্তন পরিচালক মাহফুজুল হক শাহ, চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষের চেয়ারম্যান রিয়ার এডমিরাল জুলফিকার আজিজ, বিএসআরএম গ্রুপের ব্যবস্থাপনা পরিচালক আমীর আলীহুসেইন, ইস্পাহানি গ্রুপের চেয়ারম্যান মির্জা সালমান ইস্পাহানী, ওয়েস্টার্ন মেরিন শিপইয়ার্ডের ব্যবস্থাপনা পরিচালক প্রকৌশলী মো. সাখাওয়াত হোসেন, ফিলিপাইনের অনারারি কনসাল এম এ আউয়াল, উইম্যান চেম্বারের সিনিয়র সহসভাপতি আবিদা মোস্তফা ও সহসভাপতি ডা. মুনাল মাহবুব, জেএফের (বাংলাদেশ) প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা এ কিউ আই চৌধুরী, সানশাইন স্কুল এন্ড কলেজের প্রতিষ্ঠাতা অধ্যক্ষ সাফিয়া গাজী রহমান, কিশোয়ান গ্রুপের পরিচালক মো. নজরুল ইসলাম মানিক, সেলেক্স সিকিউরিটিজ লিমিটেডের জিয়া হাসান ও কবির স্টিলের উপ ব্যবস্থাপনা পরিচালক সারোয়ার জাহান সভায় বক্তব্য রাখেন।

এ কে খান এন্ড কোম্পানির নির্বাহী কমিটির চেয়ারম্যান ও তুরস্কের অনারারি কনসাল সালাহ্উদ্দীন কাসেম খানের সঞ্চালনায় সভায় উপস্থিত ছিলেন চট্টগ্রাম চেম্বারের পরিচালক কামাল মোস্তফা চৌধুরী, জহিরুল ইসলাম চৌধুরী (আলমগীর), মো. অহীদ সিরাজ চৌধুরী (স্বপন), সরওয়ার হাসান জামিল, অঞ্জন শেখর দাশ, এস এম শামসুদ্দিন, ইউরোপিয়ান ইউনিয়নের বাণিজ্য উপদেষ্টা আবু সৈয়দ মুহাম্মদ বেলাল, চট্টগ্রাম ইন্ডিপেন্ডেন্ট ইউনিভার্সিটির ভিসি প্রফেসর মাহফুজুল হক চৌধুরী, বাংলাদেশ ব্যাংকের জেনারেল ম্যানেজার মো. নুরুল আমিন, বিকেএমইএ’র সাবেক পরিচালক শওকত ওসমান, জাপানের অনারারি কনস্যুল জেনারেল মো. নুরুল ইসলাম, এইচআরসির সিনিয়র পরিচালক কাজী রুকুনউদ্দীন আহমেদ, জার্মানির অনারারি কনসাল শাকির ইস্পাহানী, দক্ষিণ আফ্রিকার অনারারি কনসাল মো. সোলায়মান আলম শেঠ, রাঙামাটি চেম্বারের সভাপতি মো. বেলায়েত হোসেন ভূঁইয়া ও পরিচালক নিকুল কুমার চাকমা, ইপিবির পরিচালক কংকন চাকমা, লুব-রেফ বাংলাদেশ লিমিটেডের পরিচালক সালাউদ্দিন ইউসুফ, বিন হাবীব লিমিটেডের সালমান বিন হাবীব, ইউরো গ্যাস এলপিজির পরিচালক চৌধুরী ইয়ামান আনাম, চয়েস মোটরস পার্টসের মাহবুবুল হক মিয়া ও বিবিডিএন এক্সিকিউটিভ কমিটির কো চেয়ারম্যান মুর্তজা রাফি।

মতবিনিময় সভাশেষে প্রতিনিধি দলের সদস্যরা ওয়ার্ল্ড ট্রেড সেন্টারে স্থায়ী এক্সিবিশন হল ও রেলওয়ে পলোগ্রাউন্ড মাঠে ২৭তম চট্টগ্রাম আন্তর্জাতিক বাণিজ্যমেলা পরিদর্শন করেন।

জয়নিউজ/ফয়সাল/জুলফিকার
আরও পড়ুন
লোড হচ্ছে...