ইভটিজার বোরহান কী বদলাবে?

0

বাঁশখালীর সমুদ্র উপকূলবর্তী বাহারছড়া ইউনিয়নের বাহারছড়া গ্রামের দরক্কানপাড়ার মো. নুরুল আমিনের ছেলে রিকশাচালক বোরহান উদ্দিন (১৪)। দরিদ্র পরিবারের সন্তান। ৪ ভাই ৩ বোনের মধ্যে সবার ছোট। ছোট বয়সে স্কুলে না যাওয়ার কারণে স্বাক্ষরও করতে পারেন না বোরহান। নিরুপায় হয়ে বাড়ির পাশের রাস্তায় রিকশা চালানোর পেশা বেছে নেয় বোরহান।

বাহারছড়া রত্নপুর উচ্চ বিদ্যালয়ের অসংখ্য ছাত্র-ছাত্রী স্কুলে আসা-যাওয়ার সময়ে প্রতিদিনই বেশ কয়েকজন ছাত্রীকে উত্যক্ত করতো বোরহান। ছাত্রীদের শরীরে হাতও দিতো। এ নিয়ে বেশ কয়েকবার কয়েকজন ছাত্রীর সঙ্গে হাতাহাতির ঘটনাও ঘটে তার। বোরহানের এ উত্যক্ততার কারণে অসংখ্য ছাত্রী ভীত ছিল।

সর্বশেষ ৯ মার্চ শনিবার অষ্টম শ্রেণির এক ছাত্রীকে বোরহান উত্যক্ত করে। ওই ছাত্রী প্রতিবাদ করলে তাকে পথিমধ্যেই চড়-থাপ্পর মারে বোরহান। ওইসময় উপস্থিত অন্যান্য ছাত্রীরা নির্যাতনের শিকার ছাত্রীকে উদ্ধার করে বাড়িতে নিয়ে অভিভাবকদের ঘটনাটি জানায়।

বিষয়টি জানতে পেরে বাহারছড়া রত্নপুর উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মৃদুল দাশ ১১ মার্চ নির্যাতিত ছাত্রীকে নিয়ে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মোমেনা আক্তারের কার্যালয়ে উপস্থিত হন। ইউএনও বিষয়টি শুনে উপজেলা সহকারি কমিশনার (ভূমি) সুজন চন্দ্র রায়কে পাঠিয়ে ইভটিজার বোরহান উদ্দিন ও নির্যাতনের শিকার ছাত্রীকে অভিভাবকসহ বৃহস্পতিবার (১৪ মার্চ) তাঁর কার্যালয়ে নিয়ে আসেন। ইভটিজিংয়ের দীর্ঘ শুনানি শেষে ইউএনও মোমেনা আক্তার ইভটিজার বোরহানের কাছ থেকে আর কখনও ইভটিজিং করবে না মর্মে অঙ্গীকারসহ টিপসই দিয়ে মুচলেকা নেন।

তাৎক্ষণিক বোরহান ইউএনওকে লেখাপড়া করার কথা জানায়। বোরহানের লেখাপড়া করার আগ্রহের কথা জানতে পেরে ইউএনও উপজেলার প্রাথমিক ও গণশিক্ষা প্রকল্পের আওতায় পরিচালিত পশ্চিম বাহারছড়া দেওয়ানজী বাড়ির স্বাক্ষরজ্ঞান স্কুলে ভর্তি করিয়ে দেন বোরহানকে। পরে বোরহানকে ইউএনও সবার উপস্থিতিতে বই-খাতা-কলম তুলে দেন।

এসময় উপস্থিত ছিলেন উপজেলা সহকারি কমিশনার (ভূমি) সুজন চন্দ্র রায়, উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা ইসতিয়াক আহমেদ, মুক্তিযোদ্ধা আহমদ ছফা, গণশিক্ষা স্বাক্ষরতা প্রকল্পের কর্মকর্তা সাইফুল ইসলাম ও ইভটিজারের ভাই মৌলভি মো. ইসমাইল।

বাহারছড়া রত্নপুর উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মৃদুল দাশ জয়নিউজকে বলেন, ইভটিজারকে কঠিন শাস্তি না দিয়ে ইউএনও মহোদয় তাকে জ্ঞানের আলো বিস্তারের সুযোগ করে দিয়েছেন। এতে এলাকার মানুষজন সন্তুষ্ট। এভাবে হয়ত বখাটেরা দৃষ্টিভঙ্গি বদলালে সমাজ উন্নত হবে।

ইউএনও মোমেনা আক্তার বলেন, সমাজে কেউ কখনও অসৎ পথকে ভালোবাসে না। পরিবেশ-পরিস্থিতি মানুষকে খারাপ করে তুলে। কিশোর বোরহানকে বই-খাতা-কলম ধরিয়ে দিয়ে স্বাক্ষরজ্ঞানের পাশাপাশি সমাজসচেতন করার চেষ্টা করেছি। আশা করি সে আলোর পথে ফিরে আসবে।

জয়নিউজ/শহীদ
আরও পড়ুন
লোড হচ্ছে...