পূরণ হয়নি পিটিআই কর্মকর্তাদের  দুই দাবি

0

প্রাইমারি ট্রেনিং ইনস্টিটিউটগুলোকে (পিটিআই) প্রাইমারি টিচার্স ট্রেনিং কলেজে রূপান্তর এবং প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তর প্রস্তাবিত নিয়োগবিধিতে একই গ্রেডের ভিন্ন ভিন্ন পদ  সমন্বিত গ্রেডেশন তালিকার ভিত্তিতে পদোন্নতির  দাবি এখনো পূরণ হয়নি।

প্রস্তাবিত নিয়োগবিধি ২০১৮ বাস্তবায়িত হলে কেউ ১০ বা ১২ বছর চাকরি করে পিটিআই সহকারী সুপারিনটেনডেন্ট পদোন্নতি পাবে। অন্যদিকে পিটিআই ইনস্ট্রাক্টররা দীর্ঘ ২৭ বছর একই পদে চাকরি করার পরও পদোন্নতি থেকে বঞ্চিত হবেন। এ নিয়ে তাদের মধ্যে চাপা ক্ষোভ বিরাজ করছে।

সম্প্রতি পিটিআই কর্মকর্তা সমিতির সকল জেলা ইউনিট থেকে জেলা প্রশাসকের মাধ্যমে প্রধানমন্ত্রী বরাবর স্মারকলিপি প্রদান করা হয়েছে।

সমিতির মহাসচিব মো. সেলিম  জয়নিউজ বলেন, প্রাথমিক শিক্ষার গুণগত মান উন্নয়ন ও পিটিআইকে প্রাইমারি টিচার্স ট্রেনিং কলেজে রূপান্তর করা দীর্ঘদিনের দাবি। এছাড়া পিটিআই  ইনস্ট্রাক্টরদের চাকরিতে যোগদানের দীর্ঘ  ২৭ বছর পরও পদোন্নতি না পাওয়া এবং প্রাথমিক শিক্ষার  একই গ্রেডের ভিন্ন পদে সমন্বিত গ্রেডেশন তালিকার ভিত্তিতে পদোন্নতি প্রদানের দাবি  জানানো হয়েছে ।  জাতীয় শিক্ষানীতি ২০১০ এর আলোকে ১ম থেকে ৮ম শ্রেণি পর্যন্ত প্রাথমিক শিক্ষার আওতায় আনার জন্য এ দাবি জানানো হয়েছে।

তিনি আরো জানান, জাতীয় প্রাথমিক শিক্ষা একাডেমি (নেপ) স্বায়ত্তশাসিত করে পদোন্নতির সুযোগ রয়েছে। নেপ এ পিটিআই কর্মকর্তাদের ৩৭টি পদে পদোন্নতির সুযোগ ছিল। এছাড়া প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তরের গবেষণা কর্মকর্তা ও নেপের সহকারী বিশেষজ্ঞ থেকে পিটিআই সুপার হিসেবে পদোন্নতি দেওয়া হয়। অথচ ওই পদে পিটিআই ইনস্ট্রাক্টরদের পদোন্নতি দেওয়া হচ্ছে না। প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তরের শিক্ষা অফিসার ও গবেষণা কর্মকর্তা ও বিভাগীয় উপ-পরিচালকের কার্যালয়ের শিক্ষা অফিসার পদের প্রায় সবগুলোতে  সহকারী জেলা প্রাথমিক অফিসাররা কর্মরত আছেন।

১৯৯৭ সনে নিয়োগপ্রাপ্ত উপজেলা শিক্ষা অফিসারদের প্রায় সবাই জেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসার এবং ২/৩ জন সহকারী পরিচালক পদে  পদায়ন পেয়েছেন। অথচ ১৯৯২ সালে নিয়োগপ্রাপ্ত পিটিআই ইনস্ট্রাক্টররা পদোন্নতি ব্যতিরেকে একই পদে কর্মরত। তাই পিটিআইতে সহকারী সুপারের পদ বৃদ্ধি প্রয়োজন। পিটিআই সুপারিনটেনডেন্টরা ১২ বছর ধরে একই পদে চাকরি করার পরও পদোন্নতি পাচ্ছেন না। তাই পিটিআই ইনস্ট্রাক্টরদের পদোন্নতি বিলম্বিত হচ্ছে।

পিটিআই ইনস্ট্রাক্টরদের পদোন্নতির প্রক্রিয়া রহিত থাকলেও, মাঠপর্যায়ের ইউআরসি কর্মকর্তাদের আবার পিটিআইয়ের সহকারী সুপার হিসেবে পদোন্নতির প্রস্তাব করা হচ্ছে- যা মরার ওপর খাঁড়ার ঘায়ের মত। বর্তমান প্রস্তাবিত নিয়োগবিধি কার্যকর হলে পিটিআই ইনস্ট্রাক্টদের পদোন্নতির পথ চিরতরে বন্ধ হয়ে যাবে। তাই একই গ্রেডের ভিন্ন পদে সমন্বিত গ্রেডেশন তালিকার ভিত্তিতে পদোন্নতি প্রদান এখন সময়ের দাবি।

এছাড়া নন-ক্যাডার কর্মকর্তাদের পদোন্নতি বিধিমালা ২০১১ এর গেজেট সর্বত্র অনুসরণ হওয়া উচিত। তাই শিক্ষক প্রশিক্ষণের মানবৃদ্ধির জন্য সময়ের চাহিদা অনুযায়ী পিটিআইগুলোকে টিটিসির অনুরূপ প্রাইমারি টিচার্স ট্রেনিং কলেজে রূপান্তর করা দরকার।

জয়নিউজ/আরসি
আরও পড়ুন
লোড হচ্ছে...