সনদ ঘষামাজা-এফিডেভিট করেও হলো না বিয়ে!

0

মেয়ের বিয়ে দিতে হবে। কিন্তু বয়স যে কম। কী করা যায়?

অভিভাবকরা সমাধান খুঁজলেন প্রতারণায়।

দুই কিশোরীর একজনের অভিভাবক জন্মনিবন্ধন সনদে ঘষামাজা করে বয়স পাল্টাতে চেষ্টা করেন। আরেকজনের অভিভাবক এফিডেভিট করে পাল্টাতে চাইলেন বয়স।

তবে শেষরক্ষা হয়নি। ওই দুই কিশোরীর বাল্যবিয়ের চেষ্টা ভেস্তে দেন হাটহাজারী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট রুহুল আমিন।

বুধবার (২০ মার্চ) বিকেলে উপজেলার মেখল ইউনিয়নে ও মঙ্গলবার (১৯ মার্চ) রাতে ফরহাদাবাদ ইউনিয়নে ওই দুই কিশোরীর বিয়ের অনুষ্ঠান হওয়ার কথা ছিল।

জানা গেছে, উপজেলার দক্ষিণ মেখলে অষ্টম শ্রেণি পড়ুয়া এক ছাত্রীর সঙ্গে ওই এলাকার স্থানীয় এক ব্যবসায়ী যুবকের বিয়ে ঠিক করেছিল তার পরিবার।

তবে মেয়েটির জেএসসি সনদে জন্ম তারিখ ছিল ২০০৫ সালের ১০ অক্টোবর। আর ইউনিয়ন পরিষদ থেকে নেওয়া জন্মসনদে ২০০২ সালের ৪ অক্টোবর। ইউনিয়ন পরিষদের জন্মসনদে ঘষামাজা করে মেয়েটির পরিবার ২০০২ সালের জায়গায় ২০০০ সাল বানিয়ে বুধবার বিকেলে আকদের আয়োজন করে বলে জানান ইউএনও রুহুল আমিন।

তিনি আরও জানান, খবর পেয়ে দক্ষিণ মেখল ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যানকে সঙ্গে নিয়ে মেয়েটির বাড়িতে হাজির হন। এসময় মেয়েটির বয়স ঠিক আছে বলে মেয়েটির পরিবারের সদস্যরা দাবি করলে আমরা অনলাইনে যাচাই করে জন্মসনদে ঘষামাজার বিষয়টি দেখতে পাই। পরে পরিবারের কাছ থেকে মুচলেকা নিয়ে বিয়ে বন্ধ করে দেওয়া হয় বলে জানান ইউএনও।

অন্যদিকে মঙ্গলবার রাতে ফরহাদাবাদ ইউনিয়নের মাহমুদাবাদ এলাকায় এক মাদ্রাসাছাত্রীর সঙ্গে প্রবাসী এক যুবকের বিয়ের আয়োজন করা হয়। জন্মসনদ অনুযায়ী মেয়েটির জন্ম তারিখ ছিল ২০০২ সালের ১২ ফেব্রুয়ারি।

বিষয়টি একজন ব্যক্তি ইউএনও রুহুল আমিনকে অবহিত করলে তিনি ওই ইউনিয়নের প্যানেল চেয়ারম্যান ও ইউনিয়ন পরিষদ সদস্যকে সঙ্গে নিয়ে মাদ্রাসাছাত্রীর বাড়িতে যান। সেখানে তারা এফিডেভিট করে মেয়েটির জন্ম সাল ২০০০ করার বিষয়টি জানায়।

তবে জন্ম তারিখ পরিবর্তন করার কোনো নিয়ম না থাকায় পরিবারের কাছ থেকে মুচলেকা নিয়ে বিয়ে ঠেকানো হয়েছে বলে জানান ইউএনও।

জয়নিউজ/জুলফিকার
আরও পড়ুন
লোড হচ্ছে...