হাটহাজারীর ওসির অপসারণ দাবি চবি ছাত্রলীগের

0

হাটহাজারী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) বেলাল উদ্দিন জাহাঙ্গীর ও এসআই হাবিবের অপসারণের দাবি জানিয়েছে চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের (চবি) শিক্ষার্থীরা।

এ দাবির সঙ্গে একাত্মতা জানিয়ে বৃহস্পতিবার মানববন্ধন করেছে শাখা ছাত্রলীগও। মানববন্ধনে বিশ্ববিদ্যালয়ের এক নম্বর গেটে স্পিডব্রেকার, ফুটওভারব্রিজ নির্মাণ ও গতিসীমা নির্ধারণের দাবি তোলা হয়।

পাশাপাশি একই দাবিতে সাধারণ শিক্ষার্থীদের ব্যানারে উপাচার্য বরাবর স্মারকলিপিও দিয়েছে তারা।

মানববন্ধনে বক্তারা বলেন, মাইক্রোবাসের ধাক্কায় বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষার্থী আহত হওয়ার মতো ঘটনায় আমরা প্রতিবাদও করতে পারছি না। রাতের অন্ধকারে ওসি বেলালের নেতৃত্বে পুলিশ প্রশাসন সিভিল ড্রেসে এসে ন্যাক্কারজনকভাবে হামলা করে। শুধু তাই নয়, বিশ্ববিদ্যালয়ের জিরো পয়েন্ট এলাকাতেও প্রশাসনের কোনো ধরনের অনুমতি ছাড়াই ছাত্রদের ওপর লাঠিচার্জ করে গুরুতর আহত করে।

এ ঘটনায় দ্রুত ওসি বেলাল এবং এসআই হাবিবের অপসারণের দাবি জানান বক্তারা।

পরে প্রক্টর মানববন্ধনে এসে স্পিডব্রেকার ও ফুটওভারব্রিজ নির্মাণ এবং ছাত্রদের মারধরে জড়িত পুলিশ কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার আশ্বাস দিলে শিক্ষার্থীরা কর্মসূচি স্থগিত করে।

জানা যায়, বুধবার (২০ মার্চ) দিবাগত রাত সাড়ে দশটার দিকে চট্টগ্রাম- রাঙামাটি মহাসড়কের ১নং গেট এলাকায় চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের পরিসংখ্যান বিভাগের চতুর্থ বর্ষের শিক্ষার্থী মাহমুদুল হাসান হৃদয় সড়ক দুর্ঘটনার আহত হন। একটি মাইক্রোবাস তাকে ধাক্কা দিলে গুরুতর আহত অবস্থায় নিকটস্থ মদনহাট গ্রীন হেলথ কেয়ারে নেওয়া হয় তাকে। কিন্তু সেখানে তার অবস্থার অবনতি হলে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ (চমেক) হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়।

এ ঘটনার প্রতিকার চেয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের সাধারণ শিক্ষার্থীরা তাৎক্ষণিকভাবে এক নম্বর গেটে অবস্থান নিয়ে সড়ক অবরোধ করে। পরে হাটহাজারী থানা পুলিশ সিভিল ড্রেসে তাদের ওপর লাঠিচার্জ করে।

সেখান থেকে সরে এসে বিশ্ববিদ্যালয়ের জিরো পয়েন্ট মূল ফটকে অবস্থান নিলে দুই ভ্যান পুলিশ আবারও তাদের ওপর লাঠিচার্জ করে। উভয় ঘটনায় অন্তত সাতজন ছাত্র আহত হয়। এদের মধ্যে চারজনকে চমেকে পাঠানো হয়। আর বাকিরা চবি মেডিকেল সেন্টারে প্রাথমিক চিকিৎসা নেয়।

এদিকে শিক্ষার্থীদের সরিয়ে দিতে কিংবা তাদের ওপর লাঠিচার্জ করতে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের কোনো অনুমতি নেওয়া হয়নি বলে জয়নিউজকে নিশ্চিত করেছেন প্রক্টর অধ্যাপক মোহাম্মদ আলী আজগর চৌধুরী।

এ বিষয়ে চবি প্রক্টর জয়নিউজকে জানান, আগামীকাল (শুক্রবার) এক নম্বর গেটে স্পিডব্রেকার নির্মাণ হবে। আর ফুটওভারব্রিজ নির্মাণের বিষয়টিও আমরা দেখব। ওসি-এসআইয়ের অপসারণ তো প্রশাসনের বিষয়। সেটা আমরা উর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের বলেছি।

জয়নিউজ/নবাব/জুলফিকার
আরও পড়ুন
লোড হচ্ছে...