কালুরঘাট সেতুর টোল বৃদ্ধিতে অসন্তোষ

0

কালুরঘাট সেতু পারাপারে টোল বাড়ানোর অজুহাতে গণপরিবহণগুলো পকেট কাটছে যাত্রী সাধারণের। এ নিয়ে অসন্তোষ প্রকাশ করেছে কালুরঘাট সেতু পারাপারকারীরা। ৯০ বছরের পুরানো জরাজীর্ণ এ সেতুর টোল বৃদ্ধির কারণে পরিবহন শ্রমিক ও যাত্রীদের মধ্যে অসন্তোষ বিরাজ করছে।

নগরের সঙ্গে বোয়ালখালী উপজেলার যোগাযোগে গণপরিবহণ বলতে ট্যাক্সি ও টেম্পো। এ দুই গণপরিবহণে সেতুর টোল বাড়ানোয় বাড়তি ভাড়া গুণতে হচ্ছে যাত্রীদের। এতে যাতায়াতে ব্যয় বেড়েছে জনপ্রতি ১০-১৫ টাকা। এ নিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন নিম্নআয়ের লোকজন ও চাকরিজীবীরা।

সেতুর অতিরিক্ত টোল আদায়ের প্রতিবাদ জানিয়েছে চট্টগ্রাম-কক্সবাজার (দক্ষিণাঞ্চল) সড়ক পরিবহন মালিক-শ্রমিক যৌথ কমিটি ও টেম্পো, ট্যাক্সি শ্রমিক ইউনিয়ন এবং যাত্রী কল্যাণ সমিতি।

সড়ক পরিবহন মালিক-শ্রমিক যৌথ কমিটির আহ্বায়ক আবুল কালাম আজাদ, যুগ্ম আহ্বায়ক মোহাম্মদ মুছা ও সদস্য সচিব মো. মহিউদ্দিন চৌধুরী জানান, ‘কোনো ঘোষণা ছাড়াই বিভিন্ন যানবাহন থেকে জোরপূর্বক বাড়তি টোল নেওয়া অযৌক্তিক।’

৩১ মার্চের মধ্যে বর্ধিত টোল প্রত্যাহার করা না হলে শ্রমিক সমাবেশ ও ট্যাক্সি পারাপার বন্ধসহ ধর্মঘটের কর্মসূচি দেওয়া হবে বলে জানিয়েছেন চট্টগ্রাম অটোরিকশা ও অটো টেম্পো শ্রমিক ইউনিয়নের সাধারণ সম্পাদক মো. হারুনুর রশীদ।

শ্রমিক ইউনিয়নের বোয়ালখালী শাখার সাধারণ সম্পাদক সেলিম উদ্দিন জয়নিউজকে বলেন, টেম্পোতে গড়ে ১০ জন করে যাত্রী পারাপার হলে জনপ্রতি ৪ টাকা করে টোল পড়ে। সেই ৪ টাকা যাত্রীদের কাছ থেকে আদায় করতে হবে। বাড়তি ভাড়া নিয়ে যাত্রী ও টেম্পো চালকদের সঙ্গে বাকবিতণ্ডা হচ্ছে। অতিরিক্ত টোল আদায় প্রত্যাহার করা না হলে টেম্পো পারাপার বন্ধ করে দেওয়া ছাড়া আর কোনো উপায় থাকবে না।
টোল বৃদ্ধির বিষয়ে বৃহস্পতিবার (২৮ মার্চ) উপজেলা সদরে স্থানীয় সাংসদ মঈনউদ্দিন খান বাদলের সঙ্গে টেম্পো শ্রমিক ইউনিয়নের বৈঠক হয়। বৈঠকে টোল আদায়কারী প্রতিষ্ঠানের কেউ উপস্থিত ছিলেন না।

বৈঠকে সাংসদ বাদল বলেন, সরকারি শিডিউলে টোল বৃদ্ধির নিয়ম থাকলে কিছু করার নেই। তাদের শিডিউল দেখে বিষয়টি সুরাহা করার জন্য থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তাকে নির্দেশ দেন তিনি।

জেলা আওয়ামী লীগ নেতা রেজাউল করিম বাবুল সাংসদকে বলেন, শিডিউলে অনেক কিছুই থাকে। তবে মানবিক বিবেচনায় ও জনস্বার্থে টোল বৃদ্ধি না করায় সমুচিত হবে। কেন না, বোয়ালখালী থেকে নগরে যাতায়াতকারী টেম্পো ও ট্যাক্সি দৈনিক ৭-৮ বার সেতু পারাপার করে। শিডিউলে মোটর সাইকেল থেকেও টোল নেওয়ার নিয়ম থাকলেও তা নেওয়া হয় না। অথচ বোয়ালখালীবাসীর যাতায়াতের প্রধান দুই গণপরিবহনের টোলবৃদ্ধি অমানবিক।

বাংলাদেশ যাত্রী কল্যাণ সমিতির সাধারণ সম্পাদক মো. মোজাম্মেল হক চৌধুরী উদ্বেগ প্রকাশ করে বলেন, কালুরঘাট সেতুর টোল আদায় বন্ধ করে দেওয়া হোক। দেশের অনেকস্থানে এই ধরনের জরাজীর্ণ ও ঝুঁকিপূর্ণ সেতুর টোল নেওয়া হয় না।
সেতুর কারণে থমকে রয়েছে বোয়ালখালী তথা দক্ষিণ চট্টগ্রামের উন্নয়নের চাকা। দীর্ঘদিন ধরে একটি দ্বিমুখী নতুন সেতু নির্মাণের দাবিতে বিভিন্ন আন্দোলন-সংগ্রাম করে আসছেন দক্ষিণ চট্টগ্রামবাসী।

জানা গেছে, টানা তৃতীয়বারের মতো ব্রিটিশ আমলে নির্মিত মেয়াদোত্তীর্ণ একমুখী কালুরঘাট সেতুর টোল আদায়ের দায়িত্ব পেয়েছে এএন এন্টারপ্রাইজ নামে একটি প্রতিষ্ঠান। সর্বশেষ চলতি বছরের জন্য দায়িত্ব বুঝে নিয়ে ২৪ মার্চ রোববার থেকে টোল আদায় শুরু করে প্রতিষ্ঠানটি। তবে প্রথমদিনেই টোলের হার বাড়িয়ে দেয় পূর্বের তুলনায়।

এর প্রতিবাদে পরদিন সোমবার চান্দগাঁও-কালুরঘাট-বোয়ালখালী সড়কের প্রধান যান টেম্পো সেতু পারাপার বন্ধ করে দেয়। ট্যাক্সিগুলো নিতে থাকে বাড়তি ভাড়া। ফলে দুর্ভোগে পড়েন সাধারণ যাত্রীরা। অবশ্য পরে স্থানীয় প্রশাসনের আশ্বাসে পূর্বের টোলে সেতু পারাপার শুরু করে টেম্পো।

ইজারাদার প্রতিষ্ঠান এএন এন্টারপ্রাইজের স্বত্ত্বাধিকারী মো. আইয়ুব আলী বলেন, দুই মাসে টেন্ডার প্রক্রিয়া সম্পন্ন হয়েছে। আগের বছরের ১০ শতাংশ বেশি দিয়ে ৪ কোটি ৪ হাজার টাকায় ইজারা নেওয়া হয়েছে কালুরঘাট সেতু।

টোল বৃদ্ধির বিষয়ে তিনি বলেন, সরকারি নিয়মেই টোল আদায় করা হচ্ছে। শিডিউল অনুযায়ী প্রতিটি টেম্পো থেকে ৫০ টাকা আদায় করতে পারব। সেই জায়গায় বাড়ানো হয়েছে মাত্র ১০ টাকা।

জয়নিউজ/শাহীনুর/বিশু/আরসি
আরও পড়ুন
লোড হচ্ছে...