ফুটপাত বেদখল, তাই বলে রাস্তাও?

0

নগরের ফুটপাতগুলো তাদের ‘দখলে’ গেছে অনেকদিন। বাদ যায়নি খাল, নালা এমনকি সরকারি স্থাপনার আঙিনা। এবার তারা হাত বাড়িয়েছে সড়কে। ফুটপাত ছাড়িয়ে রীতিমতো খুঁটি গেড়ে বসেছে মূল সড়কে! নিউমার্কেট থেকে শুরু করে আন্দরকিল্লা, আগ্রাবাদ, বহদ্দারহাট, জিইসি মোড়সহ নগরের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ মোড়ে বিস্তৃত হচ্ছে এ দখলদারিত্ব।

বলছি হকারদের কথা। যাদের দখলবাণিজ্যে নগরবাসীর দুর্ভোগের অন্ত নেই।

নগরের প্রায় সিংহভাগ ফুটপাতই এখন হকারদের দখলে। অনেক স্থানে ব্যবসায়ীরা তাদের পণ্য দোকানের বাইরে ফুটপাতে সাজিয়ে রাখেন। কিছু এলাকার ফুটপাত এখন পরিণত হয়েছে ‘ভ্রাম্যমাণ গুদামে’। তাই পথচারীদের বাধ্য হয়ে মূল সড়কে নেমে হাঁটতে হয়।

তবে এখন শুধু ফুটপাত নয়, নগরের প্রধান সড়কগুলোতেও ‘রীতিমতো’ বাজার খুলে বসেছেন হকাররা। সকাল থেকে শুরু করে গভীর রাত পর্যন্ত সড়কজুড়ে চলে পণ্যের বিকিকিনি। ফলে পথচারীদের চলাচলে ভোগান্তি পোহাতে হয়। সড়কে দিনভর লেগে থাকে যানজট।

সরেজমিন ঘুরে দেখা যায়, নিউমার্কেট মোড়ের প্রতিটি সড়কেই রকমারি পণ্যের বেচাকেনা চলছে পুরোদমে। জলসা মার্কেটের সামনে টি-শার্ট, প্যান্ট আর জুতা নিয়ে বসেছেন হকাররা। মিউনিসিপ্যাল স্কুলের সামনে বিক্রি চলছে শার্ট, প্যান্ট, টুপি। জিপিওর সামনের সড়কটি দখলে ফল ব্যবসায়ীদের।

আন্দরকিল্লা মোড়ে এসেও দেখা গেল অভিন্ন চিত্র। লালদিঘী মোড়ের সামনে থেকে আন্দরকিল্লা মোড় পর্যন্ত নানা রকম পণ্য নিয়ে রীতিমতো বাজার খুলে বসেছে হকাররা।

সাব-এরিয়া মোড়ের মূল সড়কের একটি বড় অংশ সন্ধ্যা নামলেই মাছ আর শাকসবজির বাজারে পরিণত হয়।

বহদ্দারহাট ফ্লাইওভারের নিচে সকাল-বিকাল দেখা মেলে হকারদের। জিইসি মোড়েও তাই। আগ্রাবাদ মোড়ে মূল সড়কে সেভাবে হকারদের দাপট দেখা না গেলেও ওই এলাকার ফুটপাতের প্রায় পুরোটাই চলে গেছে তাদের দখলে।

সাম্প্রতিক সময়ে দেখা গেছে, প্রশাসনের পক্ষ থেকে অভিযান চালানো হলে নির্দিষ্ট সময়ের জন্য হকাররা বেচা-কেনা বন্ধ রাখেন। অভিযান বন্ধ হলে আবার তারা পণ্য নিয়ে বসে যান সড়ক-ফুটপাতে।

জয়নাব কলোনির বাসিন্দা এ এইচ এম কাউছার জয়নিউজকে বলেন, নগরের অধিকাংশ এলাকাতেই হকারদের দাপটে চলাফেরা করা দায়। সড়ক দখল করে হকারদের বাজার খুলে বসার কারণে প্রতিদিন যানজটে পড়তে হয়। এছাড়া ছোটখাটো দুর্ঘটনাতো আছেই।

অভিযোগ রয়েছে, আইনশৃ্ঙ্খলা বাহিনীকে নিয়মিত মাসোহারায় ‘ম্যানেজ’ করে হকাররা এই অবৈধ দখল ধরে রাখেন। আবার কিছু এলাকার সড়ক-ফুটপাত রাজনৈতিক দলের স্থানীয় প্রভাবশালী নেতা-কর্মীরা চুক্তিভিত্তিক ভাড়া দিয়ে থাকেন।

এ বিষয়ে দৃষ্টি আকর্ষণ করা হলে কোতোয়ালি থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. মহসিন জয়নিউজকে বলেন, ফুটপাতে হকাররা সিটি করপোরেশনের বেঁধে দেওয়া সময়ের বাইরে বসলে আমরা আইনগত ব্যবস্থা নিয়ে থাকি। এছাড়া পুলিশের পক্ষ থেকে বিভিন্ন সময় অভিযান পরিচালনা করা হয়।

এক্ষেত্রে কঠোর আইন প্রণয়নের বিকল্প নেই উল্লেখ করে তিনি বলেন, সেই পুরনো আমলের আইন দিয়ে হকারদের দখলবাণিজ্য পুরোপুরি বন্ধ করা সম্ভব নয়। এজন্য আরো কঠোর আইন প্রণয়ন করা দরকার।

আরও পড়ুন
লোড হচ্ছে...