সবক্ষেত্রে গবেষণাই হচ্ছে একমাত্র পথ: প্রধানমন্ত্রী

0

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, সবক্ষেত্রে গবেষণাই হচ্ছে একমাত্র পথ। গবেষণার মধ্যদিয়েই সমাজকে আমরা গড়ে তুলতে পারি।

বুধবার (১০ এপ্রিল) সকালে রাজধানীর বঙ্গবন্ধু আন্তর্জাতিক সম্মেলন কেন্দ্রে বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি মন্ত্রণালয় আয়োজিত বঙ্গবন্ধু ফেলোশিপ, বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি ফেলোশিপ এবং গবেষণা অনুদান প্রদান অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির ভাষণে এ কথা বলেন তিনি।

শেখ হাসিনা বলেন, কোথায় কোথায় আমাদের আরো বেশি বিনিয়োগ করা দরকার সেইভাবেই আমাদের দেশের জলবায়ু, মাটি, পানি সবকিছু নিয়েই আপনাদের কাজ। কাজেই সেদিকে লক্ষ্য রেখেই সবাই কাজ করবেন সেটাই আমি চাই। কারণ বিশ্বের সঙ্গে আমরা তাল মিলিয়ে চলবো সেটাই আমাদের লক্ষ্য।

তিনি বলেন, আমরা কারো কাছ থেকে পিছিয়ে থাকবো না সেটাই আমাদের লক্ষ্য। সেই লক্ষ্য নিয়েই আমরা কাজ করে যাচ্ছি। কারণ ১৬ কোটি মানুষের খাদ্য এবং বাসস্থানের ব্যবস্থা আমাদের করতে হবে। তাদেরকে সুস্বাস্থ্যের অধিকারী করতে হবে। স্বাস্থ্য বিজ্ঞান থেকে নিয়ে সর্বক্ষেত্রে আমি মনে করি গবেষণাই হচ্ছে একমাত্র পথ।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, যুগের সঙ্গে তাল মিলিয়ে আমাদের চলতে ও সব কাজ করতে হবে। বাংলাদেশের মানুষ অনেক মেধাবী। কাজেই তারা পিছিয়ে থাকতে পারে না এবং থাকবেও না। সেই সুযোগটা আমাদের করে দিতে হবে।

তিনি বলেন, এদেশে বিজ্ঞান ও প্রযুক্তির অগ্রযাত্রাকে ত্বরান্বিত করতে ১৯৭৩ সালে এক অধ্যাদেশ জারির মাধ্যমে জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান বাংলাদেশ বিজ্ঞান ও শিল্প গবেষণা পরিষদ (বিসিএসআইআর) প্রতিষ্ঠা করেন।

শেখ হাসিনা বলেন, তার সরকারও বঙ্গবন্ধুর স্বপ্নের পথ ধরে বিজ্ঞান ও প্রযুক্তির সর্বোত্তম ব্যবহারের মাধ্যমে একটি প্রযুক্তিনির্ভর, জ্ঞানভিত্তিক, ক্ষুধা ও দারিদ্র্যমুক্ত উন্নত দেশ গড়তে বদ্ধপরিকর।

দেশের অর্থনৈতিক সমৃদ্ধিকে টেকসই করার ওপর গুরুত্বারোপ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, একমাত্র গবেষণাই দিতে পারে আমাদের সেই পথ।

প্রধানমন্ত্রী এ সময় ট্রাস্ট ফান্ড গঠনের প্রয়োজনীয়তার উল্লেখ করে বলেন, অতীতে দেখা গেছে ট্রাস্ট ফান্ড না থাকার দরুন অনেক গবেষণা কর্মকাণ্ডই অর্ধেক চলার পরে পরবর্তী সরকার এসে তা বন্ধ করে দিয়েছিল। সেটা যেন আর না হয়।

তিনি বলেন, ২০০১ সালে যখন বিএনপি-জামায়াত জোট ক্ষমতায় ছিল তখন সমস্ত স্কলারশিপ বন্ধ করে দিয়েছিল। অনেকে আধাআধি পড়ার পরই দেশে ফিরে আসলেন আবার অনেকে অনেক কষ্ট করে বিদেশের মাটিতে থেকে তাদের উচ্চশিক্ষা সম্পন্ন করলেন, কিন্তু তাদের চাকরি ছেড়ে দিতে হলো।

প্রধানমন্ত্রী এ সময় উচ্চশিক্ষার সম্প্রসারণে তার সরকারের পদক্ষেপ সমূহের চুম্বক অংশের উল্লেখ করে বলেন, বঙ্গবন্ধু ফেলোশিপ ছাড়াও বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি মন্ত্রণালয় থেকে এমফিল, পিএইচডি ও পিএইচডি-উত্তর পর্যায়ে ছাত্রছাত্রী ও গবেষকগণের মধ্যে জাতীয় বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি ফেলোশিপ প্রদান করা হচ্ছে।

তিনি বলেন, ২০০৯-১০ অর্থবছর থেকে ২০১৭-১৮ অর্থবছর পর্যন্ত ১৩ হাজার ৭১৩ জন ছাত্রছাত্রী ও গবেষকের মধ্যে ৮৪ কোটি ৬৪ লাখ টাকা ফেলোশিপ প্রদান করেছি। বর্তমান ২০১৮-১৯ অর্থবছরে ১৭ কোটি ৬৮ লাখ টাকা ফেলোশিপ প্রদান করা হচ্ছে।

বাংলাদেশ এগিয়ে যাচ্ছে এবং এগিয়ে যাবে বলে আশাবাদ ব্যক্ত করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, আমি মনে করি এই উন্নয়নের ক্ষেত্রে আমাদের বিজ্ঞানী গবেষক যারা আছেন তাদের বিরাট অবদান রাখার সুযোগ রয়েছে। আপনারা আরো মনযোগের সঙ্গে নিজ নিজ কাজটি করবেন সেটাই আমার আশা।

তিনি সরকারের পঞ্চবার্ষিক পরিকল্পনা এবং ১০ বছর মেয়াদি প্রেক্ষিত পরিকল্পনার উল্লেখ করে নেদারল্যান্ডের সহযোগিতায় ‘ডেল্টা পরিকল্পনা ২১০০’ প্রণয়নেও সরকারের উদ্যোগ তুলে ধরেন।

বিজ্ঞান ও প্রযুক্তিমন্ত্রী স্থপতি ইয়াফেস ওসমানের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথির বক্তৃতা করেন বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত সংসদীয় স্থায়ী কমিটির চেয়ারম্যান আ ফ ম রুহুল হক।

বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি মন্ত্রণালয়ের সচিব প্রকৌশলী আনোয়ার হোসেন অনুষ্ঠানে স্বাগত বক্তৃতা করেন। প্রধানমন্ত্রী অনুষ্ঠানে কৃতি শিক্ষার্থীদের মাঝে বঙ্গবন্ধু ফেলোশিপ এবং বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি ফেলোশিপ এবং গবেষকদের মাঝে গবেষণা অনুদানের চেক বিতরণ করেন।

জয়নিউজ/শহীদ
আরও পড়ুন
লোড হচ্ছে...