পঞ্জিকায় পোয়াবারো

0

নববর্ষ আর পঞ্জিকা একই সূত্রে গাঁথা। বাঙালি হিন্দুর দিন শুরু হয় পঞ্জিকার পাতা মেলে ধরে। বছর শেষও হয় পঞ্জিকার শেষ পৃষ্ঠা উল্টিয়ে। বাঙালির নিত্যদিনের কাজে জড়িয়ে আছে পঞ্জিকা। বার, তিথি, নক্ষত্র, যোগ ও শুভক্ষণ, লগ্ন, রাশিফল জানতে বাঙালির ভরসা পঞ্জিকা।

সাধারণত চৈত্র-বৈশাখ মাসে পঞ্জিকার বিক্রি বেড়ে যায়। মানুষ কৌতূহলী থাকে নতুন বছরে নিজের ও প্রিয়জনের ভালো মন্দ জানতে। এবং এজন্য তারা পঞ্জিকা সংগ্রহ করে। দেশে বিভিন্ন রকম পঞ্জিকা রয়েছে। এর মধ্যে উল্লেখ যোগ্য নবযুগ, লোকনাথ, বিশুদ্ধ সনাতন এবং ভারতীয় বেণী মাধব শীলের হাফ ও ফুল পঞ্জিকা। এগুলো হিন্দু মুসলিম উভয় সম্প্রদায়ের মানুষের কথা চিন্তা করে করে প্রকাশিত হয়। তবে শুধু মুসলমান পাঠকদের জন্য প্রকাশ হয় তাজ নূরানী মোহাম্মদী পকেট পঞ্জিকা। বাংলা নববর্ষের শুরুতেই এগুলো বাজারে আসে।

বর্তমানে বাংলাদেশে ব্যবহৃত পঞ্জিকাগুলোর মধ্যে লোকনাথ ডাইরেক্টরী পঞ্জিকা সর্বাপেক্ষা প্রাচীন। তবে বেশি বিক্রয় হয় নবযুগ পঞ্জিকা। হাজারী গলি ত্রিপুরা আর্ট হাউসের স্বত্বাধিকারী রুপম বৈদ্য জয়নিউজকে বলেন, পঞ্জিকায় প্রতিদিনের তারিখ, তিথি, শুভাশুভ ক্ষণ, লগ্ন, যোগ, রাশিফল, বিভিন্ন পর্বদিন ইত্যাদি পাওয়া যায়। পঞ্জিকা বেশি কিনে হিন্দুরা। যারা জ্যোতিষ চর্চা করে তারা পঞ্জিকা সংগ্রহে রাখেন। মুসলিমরাও পঞ্জিকা কেনেন। তারা সাধারণত গ্রহণের সময় দেখা এবং চাঁদ ওঠার সময় জানার জন্য পঞ্জিকা রাখেন।

তিনি আরো জানান, আমাদের দোকানে নবযুগ, লোকনাথ, বিশুদ্ধ সনাতন এবং ভারতীয় বেণী মাধব শীলের আছে। তবে ভারতীয় পঞ্জিকা তেমন একটা বিক্রয় হয় না। কারণ ভারতের সময়ের সঙ্গে আমাদের সময়টা তেমন একটা মিলে না।

প্রতিভা লাইব্রেরীর মালিক সুনাম চৌধুরী সুমন জয়নিউজকে বলেন, পঞ্জিকা বেশি নেয় হিন্দুরা। কারণ পূজা পার্বনে, কোথাও যাওয়ার ভালো সময় দেখার জন্য। আমাদের দোকানে নবযুগ বেশি চলে। এর বড় সাইজটার দাম ১০০ টাকা। লোকনাথ পঞ্জিকা ১১০ টাকা। মুসলমানদের তাজ মোহাম্মদী পঞ্জিকার  দাম ২০ টাকা।

তিনি আরো জানান, তার দোকানে দিনে ২০ থেকে ৫০টি পঞ্জিকা বিক্রয় হয়। জ্যেতিষী সমীরণ আচার্য্য বলেন, পঞ্জিকার প্রয়োজন বাঙালির জীবনে চিরন্তন। হিন্দুদের মধ্যেই পূজা-পার্বণে তিথি নক্ষত্র দেখা এবং বিবাহ-ব্যবসা-বাণিজ্য, কোথাও যেতে হলে পঞ্জিকায় শুভাশুভ লগ্ন বা দিনক্ষণের ভালো-মন্দ দেখার জন্য পঞ্জিকার প্রয়োজন হয়। যারা রাশিফলে বিশ্বাস করে নতুন বছরের শুরুতে তারাও পঞ্জিকা কিনেন।

কী আছে পঞ্জিকায়? পঞ্জিকা বছরের প্রতিদিনের তারিখ, তিথি, শুভাশুভ ক্ষণ, লগ্ন, যোগ, রাশিফল, বিভিন্ন পর্বদিন ইত্যাদি সংবলিত গ্রন্থ। একে পঞ্জী বা পাঁজিও বলা হয়। বর্তমানে বাংলাদেশে যেসব পঞ্জিকা ব্যবহৃত হচ্ছে সেগুলির মধ্যে লোকনাথ ডাইরেক্টরী পঞ্জিকা সবচেয়ে প্রাচীন ও উল্লেখযোগ্য। চাষবাস ও পারিবারিক কাজের ক্ষেত্রে বাংলা পঞ্জিকা অমূল্য।

জানা যায়, ১৯৬০-এর দশকে বাঙালি বহুভাষাবিদ ও গবেষক ড. মুহম্মদ শহীদুল্লাহর নেতৃত্বে বাংলা পঞ্জিকার সংস্কার সাধন করা হয়। শহীদুল্লাহর সংস্কারে কিছু অপূর্ণতা ছিল, যা ১৯৯৪-৯৫ সালে বাংলা একাডেমির একটি টাস্কফোর্স আবারও সংস্কার করে। সেই পঞ্জিকাই এখন বাংলাদেশে চালু রয়েছে।

আরও পড়ুন
লোড হচ্ছে...