বৈশাখের উৎসবে ঐতিহ্যের শেকড়

0

বছর ঘুরে আবার এসেছে পহেলা বৈশাখ। বাংলা নতুন বছরকে সাড়ম্বরে বরণ করতে নেওয়া হয়েছে সব ধরনের প্রস্তুতি। দেশের বাইরে পশ্চিমবঙ্গ, ত্রিপুরা, আসাম ও পৃথিবীর বিভিন্ন দেশেও দিনটি নানা আয়োজনে উদ্যাপিত হচ্ছে।

বরাবরের মতো এবারও পহেলা বৈশাখে রয়েছে মঙ্গল শোভাযাত্রা, হালখাতা আর ডিসি হিল-সিআরবিতে বর্ষবরণের আয়োজন। বসবে মেলা, নগরজুড়ে চলবে সাংস্কৃতিক উৎসব। সব বয়সের মানুষ সাজবে বৈশাখী সাজে, বর্ণিল নতুন পোশাকে। প্রতি বছর ইংরেজি বর্ষপঞ্জী অনুসারে ১৪ এপ্রিল পহেলা বৈশাখ উদযাপিত হয়। দিনটি বাংলাদেশ ও পশ্চিমবঙ্গে সরকারি ছুটির দিন।

শুরুটা সম্রাট আকবরের সময়ে

পহেলা বৈশাখে বাংলা নববর্ষ বরণের শুরু মুঘল সম্রাট আকবরের আমলে। এর আগে মুঘল স¤্রাটরা হিজরী পঞ্জিকা মতে কৃষিপণ্যের খাজনা আদায় করতেন। পরে খাজনা আদায় কাজে গতি আনতে সম্রাট আকবর বাংলা সন প্রবর্তন করেন। তাঁর আদেশ অনুসারে বিখ্যাত জ্যোতির্বিজ্ঞানী ও চিন্তাবিদ ফতেহউল্লাহ সিরাজী সৌর সন এবং আরবি হিজরী সনের উপর ভিত্তি করে নতুন বাংলা সনের নিয়ম তৈরি করেন।

ইতিহাস গবেষকদের ভাষ্যে, আকবরের সময় থেকেই পহেলা বৈশাখ উদ্যাপন শুরু হয়। তখন বাংলা চৈত্র মাসের শেষ দিনের মধ্যে সব খাজনা, মাশুল ও শুল্ক পরিশোধ করতে হতো। পরদিন অর্থাৎ পহেলা বৈশাখে ভূমির মালিকরা নিজ নিজ অঞ্চলের অধিবাসীদেরকে আপ্যায়ন করতেন মিষ্টি দিয়ে। সে সময় থেকেই দিনটিতে নানা উৎসবের আয়োজন করা হতো। উৎসবের সেই ধারাবাহিকতা বর্তমান সময়েও অব্যাহত আছে।

তখনকার সময়ে হালখাতা তৈরির মাধ্যমে পহেলা বৈশাখে ব্যবসায়ীরা পুরনো হিসাবের খাতা বন্ধ করে নতুন হিসাবের খাতা খুলতেন। আগত গ্রাহকদের মিষ্টি দিয়ে আপ্যায়ন করতেন। যা এখনকার অনেক ব্যবসায়ীও করে থাকেন।

ঐতিহ্যের উৎসবে যত আয়োজন

পহেলা বৈশাখের দিনে মানুষ অন্য দিনের চেয়ে একটু আগে ঘুম থেকে ওঠেন। পরেন নতুন জামাকাপড়। বেড়াতে যান আত্মীয়স্বজন ও বন্ধু-বান্ধবের বাড়িতে। বাড়িঘর পরিপাটি করে সাজানো হয়। থাকে বিশেষ খাবারের ব্যবস্থাও। শহর-গ্রাম সর্বত্র ছোট-বড় বৈশাখী মেলার আয়োজন করা হয়। মেলায় থাকে নানা রকম পিঠা-পুলি থেকে শুরু করে হস্ত ও কুটির শিল্পের নানা সামগ্রী। বর্তমান সময়ে বৈশাখী মেলায় ইলিশ-পান্তা খাওয়ার ব্যবস্থাও করা হয়।

ঢাকা ও চট্টগ্রামের চারুকলা ইনস্টিটিউটের উদ্যোগে পহেলা বৈশাখ উপলক্ষে বের করা হয় মঙ্গল শোভাযাত্রা। গ্রামীণ জীবন এবং আবহমান বাংলার সংস্কৃতিকে শোভাযাত্রায় ফুটিয়ে তোলা হয়। ১৯৮৯ সাল থেকে এই মঙ্গল শোভাযাত্রা পহেলা বৈশাখ উৎসবের একটি অন্যতম প্রধান আকর্ষণ।

নগরের ডিসি হিল, সিআরবি ও পতেঙ্গা সমুদ্রসৈকতে বসে পহেলা বৈশাখের সবচেয়ে বড় সাংস্কৃতিক আয়োজন। নাচ-গানে বৈশাখকে বরণ করে নেওয়ার পাশাপাশি এই তিন বর্ষবরণের আয়োজনে থাকে ছোট পরিসরের দিনব্যাপী বৈশাখী মেলা।

চট্টগ্রামের ঐতিহ্যবাহী জব্বারের বলীখেলা বা সাম্প্রতিক সময়ের সাহাবুদ্দিনের বলীখেলার পাশাপাশি নৌকাবাইচ, লাঠি খেলা কিংবা গ্রামীণ খেলাধুলা আবহমানকাল থেকেই বাঙালির বৈশাখী আয়োজনের অংশ।

পার্বত্য চট্টগ্রামে পহেলা বৈশাখ উদ্যাপিত হয় ত্রিপুরাদের বৈশুখ, মারমাদের সাংগ্রাই ও চাকমাদের বিজু উৎসবের মধ্য দিয়ে। সাম্প্রতিক সময়ে তিন সম্প্রদায়ের মানুষ যৌথভাবে আয়োজন করছে বৈসাবি উৎসব। এছাড়া মারমাদের পানি উৎসবকে ঘিরে থাকে ব্যাপক উৎসাহ-উদ্দীপনা।

আরও পড়ুন
লোড হচ্ছে...