সীতাকুণ্ডে দুই খুন, এখনো মামলা হয়নি

0

দাফন করা হয়েছে সীতাকুণ্ডের রমজান আলী ও তার ভাই সৃজনের লাশ। চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ (চমেক) হাপতালে ময়না তদন্ত শেষে মঙ্গলবার (২৮ আগস্ট) বিকেলে পারিবারিক কবরস্থানে দাফন করা হয়েছে। তবে মঙ্গলবার সন্ধ্যা ৬ টা পর্যন্ত থানায় কোন মামলা রেকর্ড হয়নি।

নিহতদের জানাযার নামাজে স্থানীয় সাংসদ দিদারুল আলমসহ আওয়ামীলীগ ও অঙ্গ সংগঠনের নেতা কর্মিরা উপস্থিত ছিলেন। অপ্রীতিকর ঘটনা এড়াতে জানাযায় বিপুল সংখক পুলিশ মোতায়েন ছিলো।

উল্লেখ্য, সোমবার রাতে ছোটদারোগারহাট কুটুমবাড়ি কমিউনিটি সেন্টারে জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবর রহমানের শোকসভা অনুষ্ঠিত হয়েছিল। সভা শেষে বাড়ি ফেরার পথে ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের সীতাকুণ্ড বড়দারোগারহাট স্কেল এলাকায় দূর্বেত্তের হামলায় গুরুতর আহত হন তারা দুই ভাই।

পুলিশ খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে গিয়ে তাদের মুমুর্ষবস্থায় উদ্ধার করে সীতাকুণ্ড উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যায়। অবস্থা আরও অবনতি হলে তাদের পাঠিয়ে দেওয়া হয় চমেক হাসপাতালে। চমেক হাসপাতালে কর্তব্যরত ডাক্তারা প্রথমে রমজান ও পরে তার ভাইকে মৃত ঘোষনা করেন। পুলিশ জানিয়েছে নিহত রমজান আলীর বিরুদ্ধে হত্য, ডাকাতি ও পুলিশের উপর হামলাসহ ৭টি মামলা রয়েছে।

এদিকে নিহত রমজান আলীকে বাংলাদেশ আওয়ামী যুবলীগ বারৈয়ারঢালা ইউনিয়নের মহালঙ্গা ওয়ার্ডের সাবেক সভাপতি দাবি করে হত্যাকান্ডের জন্য স্থানীয় সাংসদ দিদারুল আলম বারৈয়ারঢালা ইউনিয়ন যুবলীগ সভাপতি সাঈদুল ইসলামকে দায়ি করেছেন।

তবে সাঈদুল ইসলাম নিহত রমজান আলীকে একজন চিহ্নিত সন্ত্রাসী ও ডাকাত দাবি করে জয়নিউজকে বলেন, বারৈয়ারঢালায় সন্ত্রাসী হারুণ বাহিনীর সাথে নিহত রমজানের দীর্ঘদিনের বিরোধ ছিলো। উভয় সন্ত্রাসী স্থানীয় এমপি দিদারুল আলমের সমর্থক। তাদের অভ্যন্তরীন কোন্দলে রমজান ও তার ভাই সৃজন খুন হতে পারে বলে মন্তব্য করেন তিনি।

উপজেলা যুবলীগের সভাপতি মোহাম্মদ শাহাজাহান জয়নিউজকে বলেন, রমজান আলী নামে কাউকে ছিনি না। সে যদি উপজেলা যুবলীগের ইউনিয়ন বা ওয়ার্ডের কোন নেতা বা কর্মি হতো তাহলে আমি তাকে অব্যশই ছিনতাই।

সীতাকুণ্ড মডেল থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মো. ইফতেখার হাসান বলেন, বড়দারোগারহাট মহাসড়কের একটি ডোবার পাশে রমজান ও তার ভাই সৃজানকে রক্তাক্ত অবস্থায় দেখতে পেয়ে আমরা তাদেরকে উদ্ধার করে চমেকে পাঠাই। তবে ঘটনার সময় আশপাশে কাউকে পাওয়া যায়নি এবং ঘটনাটি কেউ দেখেনি। তাই আমরা তদন্ত করছি প্রকৃত পক্ষে সেখানে কি হয়েছিলো তা জানতে।

ওসি আরো বলেন, তবে একথা সত্যি যে রমজান একজন চিহ্নিত কুখ্যাত সন্ত্রাসী। ২০০৭ সালে তত্ত্বাবধায়ক সরকারের আমলে সেনা সদস্যরা ছবিযুক্ত ভোটার তালিকা তৈরি করার সময় বাছের নামক এক সেনাসদস্যকে কুপিয়ে জখম করেছিলো সে। এরপর গত ইউপি নির্বাচনের সময় বারৈয়াঢালার ছাত্রলীগ কর্মী নয়নকে কুপিয়ে হত্যা করে সে ও তার দলবল। গত পৌরসভা নির্বাচনে সীতাকুণ্ড প্রেসক্লাবে হামলার সময় বিভিন্ন সন্ত্রাসীদের সাথে রমজানও বোমা হামলায় অংশ নেয়। এছাড়া কিছুদিন পূর্বে সীতাকুণ্ড মহালঙ্গা এলাকায় আসামি গ্রেপ্তার করতে গেলে পুলিশকে হত্যার উদ্দেশ্যেও হামলা চালিয়ে আহত করে সে। এভাবে বহু অপকর্মের মূল হোতা এই রমজান। এরা সন্ত্রাসী কর্মকান্ড করে রক্ষা পাবার জন্য কোন না কোন রাজনৈতিক নেতার ছত্রছায়ায় থাকে। তার ভাই সৃজান এ ধরনের কর্মকান্ডে জড়িত কিনা এখনো নিশ্চিত না। তবে তারা অপরাধী হলেও কারা এই ঘটনা ঘটিয়েছে তা আমরা খতিয়ে দেখছি। জড়িতদের সম্পর্কে নিশ্চিত হলে গ্রেপ্তার করা হবে।

আরও পড়ুন
লোড হচ্ছে...