বাঁশখালীতে বৈশাখী মেলায় জুয়ার আসর

0

বাঁশখালীর চাম্বল ইউনিয়ন পরিষদ মাঠে বৈশাখী মেলার নামে ১০ এপ্রিল থেকে চলছে জুয়া খেলার আসর।

পুরো বাঁশখালীজুড়ে অলি-গলিতে সিএনজি অটোরিকশা, ব্যাটারিচালিত রিকশা, ট্রলিসহ বিভিন্ন যান্ত্রিক গাড়িতে মাইকিং করে লটারির টিকিট বিক্রি হলেও প্রশাসনের এ ব্যাপারে কোনো নজরদারি নেই।

এ বিষয়ে আয়োজকরা দাবি করেন, এ আয়োজন রমজান শুরুর আগের দিন পর্যন্ত চলবে। তারা জেলা প্রশাসকের অনুমতি নিয়েই এ ব্যবসা চালাচ্ছেন বলে প্রচার করছেন।

সরেজমিন ঘুরে দেখা গেছে, কর্ণফুলী চক্ষু হাসপাতালের নামে বৈশাখী মেলার আয়োজন করা হলেও মূল মঞ্চে ‘দি নিঝুম র‌্যাফেল ড্র’ লেখা আছে। লটারিতে কোথাও লেখা হয়নি কর্ণফুলী চক্ষু হাসপাতালের কথা। ছয়টি নামে লটারির টিকিট বিক্রি হচ্ছে ২০ টাকা দামে।

দি সোনালী লাকী কূপন, দি সোনালী র‌্যাফেল ড্র, দি নিঝুম লাকী কূপন, দি নিঝুম লাকী ড্র, দি সুমন লাকী কূপন, দি সুমন র‌্যাফেল ড্র নামে লটারির টিকিট বিক্রি হচ্ছে।

স্থানীয়রা দাবি করেন, রাতে লটারি ড্র-এর ফাঁকে ফাঁকে অশ্লীল নৃত্য প্রদর্শনীও চলছে।

দি নিঝুম র‌্যাফেল ড্র’র পরিচালক এম রাজু খান জয়নিউজকে বলেন, চাম্বলে এ মেলাটি বসাতে গিয়ে অনেক টাকা খরচ হয়েছে। প্রথমে চাম্বল উচ্চ বিদ্যালয় মাঠে বসিয়েছিলাম। ওখানে বাধা দেওয়ায় আবার ইউনিয়ন পরিষদ মাঠে বসিয়েছি। এতে দ্বিগুণ ক্ষতি হয়েছে। আমরা খরচের টাকা তুলতে ১২৫টি বাক্স বসিয়ে শতাধিক স্পটে মাইকযোগে লটারি বিক্রি করছি। প্রতি রাতে লটারি ক্রেতাকে আর্কষণীয় পুরস্কারও দিচ্ছি। এটা দোষের কিছু না। মাত্র ১৩ দিন লটারি বিক্রি করেছি। আরও ১০ দিনের মতো লটারি বিক্রি করতে পারলে আমাদের খরচ মিটবে।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক স্থানীয় কলেজের কয়েকজন প্রভাষক বলেন, পরীক্ষা চলাকালীন কলেজের পাশের রাস্তা দিয়ে মাইকিং করে এসব লটারি বিক্রির প্রচারণা চলে। এসব বন্ধে কর্তৃপক্ষের কোন নজর নেই।

বাঁশখালী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মোমেনা আক্তার জয়নিউজকে বলেন, চাম্বল ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মুজিবুল হক চৌধুরী জেলা প্রশাসকের কাছ থেকে অনুমতি নিয়ে কয়েকদিনের জন্য বৈশাখী মেলার আয়োজন করছেন। ওনাকে শর্তসাপেক্ষে অনুমতি দেওয়া হয়েছে। ওই শর্তে র‌্যাফেল ড্র এর নামে লটারি বিক্রির কোনো অনুমতি নেই।

তিনি আরো বলেন, উপজেলা সদরে এক ব্যক্তিকে লটারি বিক্রির অপরাধে ভ্রাম্যমাণ আদালতের মাধ্যমে সাজাও দেওয়া হয়েছে। বিষয়টি দেখার জন্য বাঁশখালী থানা অফিসার ইনচার্জকে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

চাম্বল ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মুজিবুল হক চৌধুরী জয়নিউজকে বলেন, বৈশাখী মেলার আয়োজনটা আর্তমানবতার সেবায় করা হয়েছে। এখানে উপার্জিত অর্থ গরীবদের চক্ষু চিকিৎসার কাজে ব্যয় করা হবে। এখানে কোন অসামাজিক কাজ হচ্ছে না। কখন, কিভাবে, কোথায় – গরীবের চক্ষু চিকিৎসা করা হবে এ প্রশ্নের কোন সদুত্তর দিতে পারেননি তিনি।

থানার অফিসার ইনচার্জ মো. কামাল হোসেন জয়নিউজকে বলেন, আমি ছুটিতে ঢাকায় আছি। ঢাকা থেকে আসলে বিষয়টি দেখা হবে। র‌্যাফেল ড্র’ র নামে লটারি বিক্রি করতে দেওয়া হবে না কাউকে।

জয়নিউজ/উজ্জ্বল/বিশু
আরও পড়ুন
লোড হচ্ছে...