ঘূর্ণিঝড় ফণী মোকাবেলায় কক্সবাজারে ব্যাপক প্রস্তুতি

0

ঘূর্ণিঝড় ফণী মোকাবেলায় ব্যাপক প্রস্তুতি নিয়েছে কক্সবাজার জেলা প্রশাসন।

জেলা প্রশাসন ও উপজেলা প্রশাসন সমন্বিতভাবে এই প্রস্তুতি গ্রহণ করেছে। জনগণকে আশ্রয় দিতে জেলায় ৫৩৮টি আশ্রয়কেন্দ্র প্রস্তুত রাখা ও খাবারসহ সব ধরনের প্রয়োজনীয় সরঞ্জাম মজুদ এবং করণীয় নির্ধারণ করা হয়েছে। খোলা হয়েছে কন্ট্রোল রুম।

বৃহস্পতিবার (২ মে) এক প্রস্তুতিসভায় জেলা প্রশাসক (ভারপ্রাপ্ত) আশরাফুল আবছার এ তথ্য জানান।

জেলা প্রশাসক কার্যালয়ের সম্মেলনকক্ষে অনুষ্ঠিত সভায় জেলা প্রশাসক (ভারপ্রাপ্ত) আশরাফুল আবছার বলেন, ঘূর্ণিঝড় ফণী মোকাবেলায় সব ধরনের প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে। এজন্য সকল সরকারি কর্মকর্তার ছুটি বাতিল করা হয়েছে। সরকারি প্রতিটি দপ্তরকে বিশেষভাবে প্রস্তুত করা হয়েছে।

ভারপ্রাপ্ত জেলা প্রশাসক জানান, জেলার প্রতিটি উপজেলা ঘূর্ণিঝড় ফণীর ঝুঁকির মধ্যে রয়েছে। তাই প্রতিটি উপজেলাকে সমান গুরুত্ব দিয়ে প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে। দুর্যোগকালীন মুহূর্তে আশ্রয়ের জন্য ৮ উপজেলায় ৫৩৮টি আশ্রয়কেন্দ্র প্রস্তুত রাখা হয়েছে। এসব আশ্রয়কেন্দ্রের প্রতিটিতে ৮২৫ জন করে ৪ লাখ ৮ হাজার ৪৩ জন লোক আশ্রয় নিতে পারবে।

ঘূর্ণিঝড় প্রস্তুতি কর্মসূচির (সিপিপি) ৬ হাজার ৪৫০ জন কর্মী রয়েছে। এর মধ্যে রোহিঙ্গা শিবিরে ১ হাজার ৭০০ কর্মীকে প্রস্তুত রাখা হয়েছে। ৪৩০ ইউনিটে ভাগ হয়ে তারা কাজ করবে। রেড ক্রিসেন্টের রয়েছে ১২ শতাধিক কর্মী। তারা ৫টি ইউনিটে ভাগ হয়ে কাজ করবে।

সভায় জেলা ত্রাণ ও দুর্যোগ কর্মকর্তা রইস উদ্দীন মুকুল জানান, দুর্যোগকালীন সময়ে বিতরণের জন্য প্রয়োজনীয় খাদ্যসামগ্রী সম্বলিত ৪ হাজার ৫০০ খাবার প্যাকেট প্রস্তুত রাখা হয়েছে। এক প্যাকেটে একটি পরিবারের ১০ দিন যাবে। এছাড়া চিড়া-গুড়সহ বিভিন্ন শুকনো খাদ্যসামগ্রীও মজুদ রাখা হয়েছে।

ভারপ্রাপ্ত সিভিল সার্জন মহিউদ্দীন আলমগীর জানান, ঘূর্ণিঝড় ফণী মোকাবেলায় বিশেষ গুরুত্ব দিচ্ছে জেলা স্বাস্থ্যবিভাগ। গঠন করা হয়েছে রেপিড রেসপন্স টিম। জরুরি মুহূর্তে সেবাদানের জন্য প্রতিটি উপজেলায় স্বাস্থ্যসেবা দিতে মেডিকেল টিম প্রস্তুত রাখা হয়েছে। ৮ উপজেলায় ৮৯টি মেডিকেল টিম প্রস্তুত রয়েছে। এছাড়া সিভিল সার্জন অফিসে দিবারাত্রি ২৪ ঘন্টার জন্য জরুরি কন্ট্রোল রুম খোলা হয়েছে।

সেনাবাহিনীর প্রতিনিধি মেজর তানজিল জানান, ঘূর্ণিঝড় আঘাত হানলে বেসামরিক সংস্থার সঙ্গে সমন্বয় করে কাজ করবে রামু সেনানিবাসসহ এর আওতাধীন সকল ক্যাম্পের সদস্যরা। এর জন্য সকল প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে। একইসঙ্গে রোহিঙ্গা ক্যাম্পে বিশেষভাবে কাজ করবে সেনাবাহিনী। সেখানে যে কোনো দুর্যোগকালীন সময়ে কাজ করার জন্য ৫০০ রোহিঙ্গা যুবককে স্বেচ্ছাসেবী হিসেবে কাজ করার জন্য প্রস্তুত রাখা হয়েছে। তাদেরকে প্রশিক্ষণ দেওয়া হয়েছে।

জয়নিউজ/শামীম/পলাশ/আরসি

 

আরও পড়ুন
লোড হচ্ছে...