জাতীয় পার্টিতে গৃহবিবাদ

0

জাতীয় সংসদের প্রধান বিরোধী দল জাতীয় পার্টিতে গৃহবিবাদ এখন তুঙ্গে। দলটির চেয়ারম্যান হুসেইন মুহাম্মদ এরশাদ ২০১৮ সালের নভেম্বর মাস থেকে অসুস্থ। মাঝেমধ্যে দলের শীর্ষ নেতাদের সঙ্গে সাক্ষাৎ করলেও নিজ বাড়ি থেকে খুব একটা বের হন না তিনি। ইতোমধ্যে তাঁর সকল সম্পদ কয়েক ভাগে দান করে দিয়েছেন এবং দলের যাবতীয় অর্থ বুঝিয়ে দিয়েছেন দলটির মহাসচিব ও প্রেসিডিয়াম এবং কার্যনিবাহী কমিটির কাছে।

এর আগে শনিবার (৪ মে) আনুষ্ঠানিকভাবে দলের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান হিসেবে তাঁর অনুজ জিএম কাদেরকে দায়িত্ব দিয়েছেন তিনি।

জানা যায়, হঠাৎ করে নিজের আপন ভাইকে দলের ভারপ্রাপ্ত প্রধানের দায়িত্ব দেওয়ায় অনেকেই নাখোস। আবার কেউ কেউ বলছেন, এরশাদ কর্তৃক রওশন এরশাদকে মাইনাস করা হচ্ছে।

সবকিছুর আলামত দেখে কেউ কেউ বলছেন রাজনীতি থেকে অবসর নিতে চাইছেন এরশাদ। অনেকেই বলছেন, এ কারণে তিনি দলের সব দায়িত্ব বুঝিয়ে দিয়েছেন দলের বেশ কয়েকজন নেতাকে।

জানা গেছে, দলের ক্ষমতা কার কাছে থাকবে এ নিয়ে এরশাদ ও রওশন এরশাদের মধ্যে মৃধু বির্তক দেখা দিয়েছে। শুধু তাই নয় রওশনকে কেনাঠাসা করায় দলে এখন গৃহবিবাদ দেখা দিয়েছে। যদিও দলটির প্রতিষ্ঠাতা চেয়ারম্যান হুসেইন মুহাম্মদ এরশাদের ইচ্ছায় বেশ কয়েকটি সিদ্ধান্ত নেওয়ায় জাতীয় পার্টিতে বিবাদ এখন প্রকাশ্যে রূপ নিয়েছে।

যদিও দলটির কেন্দ্রীয় নেতারা এ বিষয়ে কোনো কিছু বলতে অনীহা প্রকাশ করেছেন। কারণ রওশনপন্থি হিসেবে পরিচিত দলটির সিনিয়র বেশ কয়েকজন নেতা দলে জিএম কাদেরকে সহ্য করতে পারছেন না। তারা যেকোনো সময় নতুন কমিটি ঘোষনা দিতে পারেন বলেও জানা গেছে।

এদিকে শনিবার মধ্যরাতে হুসেইন মুহাম্মদ এরশাদ হঠাৎ করেই সাংবাদিকদের ডেকে পাঠান তাঁর বাসায়। শুধু তাই নয়, এরশাদ সাংবাদিকদের বার্তা পাঠান যাতে তারা (সাংবাদিকরা) এরশাদের বাসায় যাচ্ছেন এ বিষয়ে কেন্দ্রীয় নেতারা না জানে।

জানা যায়, জাপা বিট কাভার করে এমন সাংবাদিকরা এরশাদের এমন শর্ত পেয়ে অনেকটাই অবাক হয়ে যান। এরশাদের জুড়ে দেওয়া শর্ত পাওয়ার পর সাংবাদিকরা এরশাদের প্রেসিডেন্ট পার্কে গিয়ে যখন হাজির হয় তখন রাত প্রায় সাড়ে ১১টা। এর মধ্যে অনেক কেন্দ্রীয় নেতা নিজ থেকেই জেনে যায় এরশাদের জরুরি তলবের খবর। কিন্তু কি কারণে ডেকেছে এ বিষয়ে কেউ কিছু জানেন না। একপর্যায়ে কেন্দ্রীয় নেতারা সিনিয়র সাংবাদিকদের ফোন করে এর কারণ জানতে চান। এসময় সাংবাদিকরাও জানেন না বলার পর কেউ কেউ এরশাদের প্রেসিডেন্ট পার্কের উদ্দেশে রওয়ানা দেন। তবে এরশাদ কাউকে ভেতরে যেতে অনুমতি দেননি জানানোর পর কেউ কেউ ফিরে গিয়ে প্রেসিডেন্ট পার্কের একটু দূরে অবস্থান নেন। সব মিলিয়ে এক নাটকীয় অবস্থার সৃষ্টি করেন এরশাদ। পরে এরশাদ উপস্থিত সাংবাদিকদের সামনে নিজ ভাই জিএম কাদেরের নাম তাঁর উত্তসূরি হিসেবে ঘোষণা করেন।

এ ঘটনা শুনার পর এরশাদপত্নী বেশ কয়েকবার এরশাদকে এ বিষয়ে জানতে ফোন করলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি বলেও জানা যায়।

এ বিষয়ে জাতীয় পার্টির মহাসচিব মসিউর রহমান রাঙ্গা জয়নিউজকে বলেন, আমরা পরিস্থিতি বুঝার চেষ্টা করতেছি। আমি পার্টির মহাসচিব অথচ আমি এখনই কিছু জানি না। তিনি বলেন আমরা বিষয়টি সিরিয়াসলি নিচ্ছি।

এদিকে দলটির সাবেক মহাসচিব রুহুল আমিন হাওলাদারের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি জয়নিউজকে বলেন, এ ব্যাপারে আমি কিছু জানি না। সুতরাং আমাকে কোনো প্রশ্ন করে লাভ নেই।

তবে নতুন দায়িত্ব পাওয়ার ঘোষণার পর এরশাদের ভাই জিএম কাদের জয়নিউজকে বলেন, আমাকে হঠাৎ করে দলের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান করার কারণ আমি জানি না। বিষয়টি আমি জেনে পরে কথা বলব।

পরে তিনি বলেন, নিশ্চয়ই পার্টির চেয়ারম্যান জেনে বুঝেই সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। এখন আমার কাজ করতে অনেক সুবিধা হবে।

জয়নিউজ/শহীদ
আরও পড়ুন
লোড হচ্ছে...