বাল্যবিয়ে জয়ী রাঙ্গুনিয়ার নাজমা পেলেন জিপিএ-৫

0

রাঙ্গুনিয়ার হোছনাবাদ-লালানগর উচ্চ বিদ্যালয়ের বিজ্ঞান বিভাগের শিক্ষার্থী নাজমা আক্তার। বিদ্যালয়ের শিক্ষাকার্যক্রমসহ লেখাপড়ায় স্কুলের সবার সেরা সে। শুধু স্কুলে নয়, উপজেলা পর্যায়েও বিভিন্ন খেলাধুলা, নাচ-গানে সবাইকে ছাড়িয়ে বেশ কয়েকবার শ্রেষ্ঠত্ব অর্জন করেছিল সে।

জানা যায়, ২০১৮ সালে দশম শ্রেণিতে পড়ুয়া অবস্থায় নাজমার মা-বাবা তার অমতেই বিয়ের আয়োজন করে বসেন। এমনকি বিয়ের দিনক্ষণ পর্যন্ত অনেকটা ঠিক করে ফেলেছিল তার পরিবার। কিন্তু পড়ালেখার প্রতি তার তীব্র ইচ্ছাশক্তি এবং স্বপ্ন থাকায় নাজমা বাল্যবিয়েতে রাজি হননি।

নাজমা তার বাল্যবিয়ের আয়োজনের কথা জানতে পেরে বান্ধবীদের সহযোগিতায় তা বন্ধ করতে বিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ বরাবর লিখিত আবেদন করেন।

পরবর্তীতে বিদ্যালয় পরিচালনা পরিষদের সভাপতি ও চার শিক্ষক নাজমার বাড়িতে যান এবং বাল্যবিয়ের কুফল সম্পর্কে তার মা-বাবাকে বুঝিয়ে বলেন। এরফলে নাজমা অকালে ঝড়ে যাওয়ার হাত থেকে একপ্রকার রক্ষা পায়।

এদিকে বাল্যবিয়ে জয়ী নাজমা ২০১৯ সালে এসএসসি পরীক্ষায় অংশ নিয়ে সবাইকে তাক লাগিয়ে দেন।

সোমবার (৬ মে) সকাল থেকে সবাই যখন মুঠোফোনে এসএসসির ফলাফল দেখা নিয়ে ব্যস্ত ঠিক তখন বেশ খোশ মেজাজেই ছিলেন নাজমা। শেষ পর্যন্ত তিনিই স্কুলের একমাত্র শিক্ষার্থী হয়ে পেলেন জিপিএ-৫।

নাজমা বলেন, আমি পড়ালেখা করে নিজের পায়ে দাঁড়াতে চাই। এজন্য আমি সবার সহযোগিতা কামনা করি।

বিদ্যালয় পরিচালনা পরিষদের সভাপতি সিরাজুল করিম বিপ্লব বলেন, নাজমা বিদ্যালয়ের প্রতিটি শিক্ষা কার্যক্রমে অংশ নিয়ে সবসময় সবার সেরা নির্বাচিত হয় এবং ফলাফলের দিক থেকেও সবাইকে ছাড়িয়ে প্রথম স্থান অধিকার করেন।

তিনি আরো বলেন, সাহসী নাজমা বাল্যবিয়ের কথা লিখিতভাবে আমাদের জানালে আমরা গিয়ে তা বন্ধ করি এবং তার পড়ালেখার যাবতীয় খরচ আমি নিজেই বহন করি। ভবিষ্যতেও তার পড়ালেখায় আমার সার্বিক সহযোগিতা অব্যাহত থাকবে।

জয়নিউজ/শহীদ
আরও পড়ুন
লোড হচ্ছে...