রমজানের শুরুতেই বেড়েছে মসলার দাম

0

আন্তর্জাতিক বাজারে ভোগ্যপণ্যের দাম কম থাকায় পাঁচ বছরের তুলনায় এবার খাতুনগঞ্জের পাইকারি  বাজার সহনীয় পর্যায়ে রয়েছে। তবে দাম বেড়েছে  মসলার।

খাতুনগঞ্জের ব্যবসায়ীরা জানান, গত রমজানে পাম অয়েল প্রতি মণ বিক্রি হয়েছিল ২ হাজার ২৫০ টাকা। এবার পাম অয়েল প্রতি মণ বিক্রি হচ্ছে ১ হাজার ৯০০ টাকায়। সয়াবিন তেল বিক্রি হয়েছিল ৩ হাজার ১০০ টাকায়। এবার বিক্রি হচ্ছে ২ হাজার ৮২০ টাকায়। চিনি প্রতি কেজি  বিক্রি  হয়েছিল ৬৫ টাকায়। এবার বিক্রি হচ্ছে ৫৫ টাকায়। পেঁয়াজ প্রতি কেজি  ৩৫ টাকায় বিক্রি হলেও এবার ১৮ থেকে ২২ টাকায় বিক্রি হচ্ছে।

মসলার আড়তগুলো ঘুরে দেখা যায়, আমদানি করা প্রতি কেজি এলাচি ২ হাজার ১০০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। কিছুদিন আগেও এলাচি বিক্রি হয়েছে ১ হাজার ৯২০ টাকায়। এছাড়া  লবঙ্গ বিক্রি হচ্ছে প্রতি কেজি ৮৯০ টাকায়, গোলমরিচ প্রতি কেজি ৩৭০ টাকায়, দারুচিনি প্রতি কেজি ২৭৫ টাকায় বিক্রি হচ্ছে।

সিরিয়া থেকে আমদানি করা জিরা বিক্রি হচ্ছে কেজিপ্রতি ৩৮৫ টাকায়। ১৫ দিনের ব্যবধানে পণ্যটির দাম কেজিতে ৩০ টাকা বেড়েছে। স্থানীয় পাইকারি বাজারে জয়ত্রির দাম ৬৫ টাকা বেড়ে কেজিপ্রতি ১ হাজার ৩৪৫ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। প্রতি কেজি দারুচিনি মানভেদে ২০৮-২১০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। ১৫ দিনের ব্যবধানে পণ্যটির দাম কেজিতে ১২ টাকা বেড়েছে। একই অবস্থা দেখা গেছে গোলমরিচের বাজারেও। ১৫ দিনের ব্যবধানে ২০ টাকা বেড়ে পণ্যটি কেজিপ্রতি ৫০০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। লবঙ্গের দাম বেড়েছে কেজিতে সর্বোচ্চ ৫০ টাকা। বর্তমানে প্রতি কেজি লবঙ্গ বিক্রি হচ্ছে ৯৩০ টাকায়।

খাতুনগঞ্জের পাইকারি ব্যবসায়ী আলম বিজনেস করপোরেশনের ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. শাহেদ উল আলম  জয়নিউজকে জানান, প্রতিবছর রমজান আসার আগেই ভোগ্যপণ্যের দাম বাড়তি থাকে। কিন্তু এবার ব্যতিক্রম। রমজানের আগে পণ্যের দাম তেমন বাড়েনি। শুধু ৫ দিন আগে হঠাৎ মসলার দাম বেড়েছে।

জানা যায়, মসলার সিংহভাগই পূরণ করা হয় আমদানির মাধ্যমে। ভারত থেকে বিভিন্ন স্থলবন্দর দিয়ে মসলাপণ্য আমদানি হয়। এছাড়া চীন, পাকিস্তান, সিরিয়া, আফগানিস্তান, কলম্বিয়া, ভিয়েতনাম, গুয়াতেমালা, সিঙ্গাপুর, মাদাগাসকার, ইন্দোনেশিয়া, মালয়েশিয়া, শ্রীলঙ্কা, আরব আমিরাতসহ ২৪টির বেশি দেশ থেকে চট্টগ্রাম বন্দর দিয়ে ১২ রকমের মসলা আমদানি করা হয়।

একই সময় আন্তর্জাতিক বাজারে মসলার দাম ও বুকিং দর বেড়ে গেছে। এ কারণে বাড়তি দামে মসলা আমদানি করছেন দেশীয় আমদানিকারকরা। এর জের ধরে কিছুদিন থেকে পাইকারি বাজারে মসলার দাম বাড়তি রয়েছে।

খাতুনগঞ্জের মেসার্স তৈয়বীয়া ট্রেডার্সের স্বত্বাধিকারী সোলায়মান বাদশা জয়নিজকে বলেন, আন্তর্জাতিক বাজারে মসলার দাম বাড়ার কারণে খাতুগঞ্জে দাম বেড়েছে।   বড় বড় আমদানিকারক আগেই কম দামে মসলা আমদানি করে মজুদ করে রেখেছিলেন। এখন বাড়তি দামের সুযোগে তারা এই মসলা বাজারে ছাড়ছেন। এখন ক্রেতারা ক্ষতিগ্রস্ত হলেও তাদের বাড়তি লাভ হচ্ছে।

জয়নিউজ/পলাশ/আরসি

FacebookTwitterLinkedInMore32

 

আরও পড়ুন
লোড হচ্ছে...