অসহ্য এই গরমে গন্তব্য সিকিম!

হাওয়া বদল

0

সিকিম! এতদিন নিয়েমের বেড়াজালে বাংলাদেশীদের সিকিম যাওয়া যেতো না। ছিলো ভারত সরকারের নানান আইনগত জটিলতা। সম্প্রতি ভারত সরকার সিকিম ভ্রমণে বাংলাদেশীদের উপর নিষেধাজ্ঞা তুলে দেয়। শিলিগুড়ি, দার্জিলিং লাগোয়া সিকিম-গ্যান্টক তাই এখন হয়ে গেছে বাংলাদেশিদের গন্তব্য।

আপনার যদি ভিসা না থাকে, তবে নতুন ভিসা নিতে হবে। এক্ষেত্রে পোর্ট হিসেবে চ্যাংড়াবান্ধা বা ফুলবাড়িয়া অথবা দুটোই উল্লেখ করতে পারেন। ফুলবাড়িয়া দিয়ে শিলিগুড়ি পর্যন্ত যেতে কম সময় লাগে। তবে যাতায়াত ব্যবস্থাসহ সবকিছু বিবেচনায় চ্যাংড়াবান্ধা সুবিধাজনক।

সিকিম যেহেতু রেস্ট্রিক্টেড এরিয়া, তাই সিকিম যাওয়ার জন্য ইনার লাইন পারমিট নেওয়া বাধ্যতামূলক। এটি আপনি নিতে পারবেন যমুনা ফিউচার পার্কের ইন্ডিয়ান ভিসা সেন্টার থেকে। এক্ষেত্রে আপনাকে ফি দিতে হবে ৩০০ টাকা। আবার চাইলে এখান থেকে না নিয়ে সিকিমের প্রবেশ পথে Rangpo চেক পোস্ট থেকেও নিতে পারবেন। তবে ঢাকা থেকে নেওয়াই উত্তম। পরে আর কোনো ঝামেলা বা অনিশ্চয়তা থাকেনা। পারমিশনের জন্য আপনার প্রয়োজন হবে ২ কপি ছবি, পাসপোর্ট ও ভিসার ২টি করে ফটোকপি। ২০ মিনিটের মধ্যে আপনি ইনার লাইন পারমিট পেয়ে যাবেন। এর কপিটি আপনার সাথে রাখতে হবে খুব যত্ন সহকারে। অন্যথায় আপনি ব্ল্যাকলিস্টেড হয়ে যেতে পারেন।

র‌্যাপো ফরেনার ইনফরমেশন সেন্টারের ফোন নাম্বার +৯১ ৩৫৯২ ২০৯ ০৯০। আর এই চেকপোস্ট খোলা থাকে সকাল ৮ টা থেকে রাত ৮ টা পর্যন্ত। আপনি এর মধ্যবর্তী সময়ে পৌঁছানোর চেষ্টা করতে হবে।

আপনার প্রত্যেকটা ট্রাভেল ডকুমেন্টের পর্যাপ্ত ফটোকপি সাথে রাখুন। যেকোনো সময় কাজে লাগতে পারে৷ যেমন, পাসপোর্ট সাইজ ছবি, ভিসা কপি ও পাসপোর্ট কপি ইত্যাদি। এগুলো বাংলাদেশ থেকেই করে নিবেন। নইলে ফটোকপির জন্য অনেক দৌঁড়াদৌড়ি করতে হবে। গ্যাংটকে গিয়ে ইনার লাইন পারমিটের ফটোকপিও করে নিতে হবে।

একটা গুরুত্বপূর্ণ বিষয় জানা থাকা ভালো, ইনার লাইন পারমিট শুধু গ্যাংটকে যাওয়ার অনুমতিপত্র। এর বাইরে কোথাও যেতে হলে আপনাকে গ্যাংটক টুরিস্ট অফিস থেকে অনুমতি নিতে হবে। সেখানে জমা দিতে হবে ছবি, পাসপোর্ট, ইনার লাইন পারমিট ও ভিসা কপি। সেই সাথে একটি স্থানীয় ট্যুর এজেন্সি ও লোকাল গাইডের অধীনে আপনাকে ঘুরতে হবে। আপনি একা পারমিশন পাবেন না। যেদিন কাগজপত্র জমা দিবেন, তার পরদিন পারমিশন পাবেন।

আর পারমিশন পাওয়ার জন্য আপনি যে গাড়িতে করে যাচ্ছেন সেই গাড়ির নম্বর ও ড্রাইভারের বৃত্তান্ত থাকতে হবে। এই কাজটি আপনার ট্যুর অপারেটর করে দেবে। যেকোনো ট্যুরের ক্ষেত্রেই গ্রুপ বেঁধে গেলে খরচ কম হয়। একজন দুইজন হলে খরচ বেড়ে যায় তিনগুণ। গ্রুপে গেলে আপনার গাড়িভাড়া ও অন্যান্য খরচ কম পড়বে। যেহেতু ১/২ জন হলেও আপনাকে একটি গাড়ি রিজার্ভ নিতে হবে। কোথাও লোকাল ট্রান্সপোর্ট পাবেন না।

ভ্রমণের ক্ষেত্রে হোটেল রিজার্ভ একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয়। আজকাল অনলাইনেও বুকিং দেওয়া যায়, আবার ওখানে গিয়েও আপনি হোটেল নিতে পারেন। অনলাইনে বুকিং দিলে খরচ কিছুটা বেশি পড়ে। আবার হোটেলের মান নিয়ে একটা অনিশ্চয়তা থাকে। আর গিয়ে হোটেল নিলে খরচ কম পড়বে। তবে এক্ষেত্রে একটা ঝুঁকি থাকে, আপনি যদি কখনো উৎসব কিংবা সরকারি ছুটির সময় ওখানে যান, সেক্ষেত্রে আগে থেকে হোটেল বুকিং না দিলে রুম নাও পেতে পারেন। সিকিমে ভেজ ননভেজ সব খাবারই পাবেন। রেস্টুরেন্টে প্রতিবেলার খাবারে খরচ হবে গড়ে ২০০-২৫০ টাকা। কমবেশি প্রত্যেকটা হোটেলেই ওয়াইফাই ও গিজারের সুবিধা পাবেন।

যেহেতু গ্যাংটকের বাইরে যেতে আপনার ট্যুর অপারেটর লাগবে, তাই হোটেল কর্তৃপক্ষের সাথে কথা বলে এর ব্যবস্থা করতে পারবেন। অথবা চাইলে নিজেও কোনো ট্যুর অপারেটরের সাথে কথা বলতে পারেন। গ্যাংটকের রাস্তায় আপনি প্রচুর ট্যুর এজেন্সির অফিস পাবেন। নিজে এজেন্সির সাথে কথা বললে খরচ কম পড়বে। সিকিমে আপনি কিছুটা ভাষাগত সমস্যায় পড়তে পারেন৷ বাংলা তারা খুব একটা বোঝেনা। তবে হিন্দিটা ভালো চলে। ইংরেজিও সবাই বোঝেনা।

সিকিমে কিংবা নর্থ ইস্ট ইন্ডিয়ার কোথাও ফরেইনারদের কাছে মোবাইলের সিম বিক্রি করার পারমিশন নাই। আপনি শিলিগুড়ি কিংবা কলকাতা থেকে সহজে মোবাইল সিম কিনতে পারবেন। সেখান থেকে কেনাই বুদ্ধিমানের কাজ হবে। সিম না থাকলে নেট থাকবে না সবসময়। সেক্ষেত্রে আপনাকে ভোগান্তিতে পড়তে হবে অনেক। জিও সিমের নেটওয়ার্ক মোটামোটি সব জায়গাতেই পাওয়া যায়।

 সিকিমে যাওয়ার সবচেয়ে ভালো সময় হলো মার্চ-এপ্রিল। এসময় মেঘ কুয়াশা থাকেনা বলে চারদিকে ঝকঝকে থাকে। পাহাড়চূড়ায় বরফ দেখা যায়। ঝর্ণায় জল থাকে। আর যদি আপনি শুধু বরফ দেখতে চান, সেক্ষেত্রে ডিসেম্বর জানুয়ারিতে যাওয়াই ভালো। শীতে তাপমাত্রা নামতে পারে মাইনাস ৬ থেকে মাইনাস ১০ ডিগ্রি সেলসিয়াসে! তাই মোটা জ্যাকেট, সোয়েটার, ফুল হাতার একাধিক টি শার্ট, কানটুপি, মোজা, কেডসসহ শীত নিবারণের সবকিছু আপনাকে সাথে নিতে হবে।

উত্তরপূর্ব ভারতের প্রকৃতি ও পরিবেশ ভারতের অন্য অংশের সাথে মিল নেই। এখানে মঙ্গলয়েড জনগোষ্ঠীর বসবাস। যেহেতু রেস্ট্রিক্টেড এরিয়া, তাই আইনকানুনও আলাদা। তবে পরিচ্ছন্ন সবকিছু। যেখানে-সেখানে ময়লা আবর্জনা প্লাস্টিক কিংবা থুতু ফেলা নিষেধ। খোলা জায়গায় ধুমপান নিষেধ। তবে আপনি হোটেলে সিগারেট খেতে পারবেন। আপনি পৃথিবীর যেখানেই যান না কেন, আপনার দেশকে রিপ্রেজেন্ট করেন। আপনাকে দিয়েই আরেকজন আপনার দেশকে বিচার করে। তাই এমন কিছু করা উচিত হবেনা, যাতে দেশের সুনাম ক্ষুন্ন হয়! হ্যাপি ট্রাভেলিং!

জয়নিউজ/বিশু
আরও পড়ুন
লোড হচ্ছে...