রবীন্দ্র জন্মোৎসবে শান্তিনিকেতনে ‘মানবকন্যা’

0

রবিপ্রণাম ও প্রভাত আবাহনে পশ্চিমবঙ্গের ঐতিহ্যবাহী শান্তিনিকেতনে পালিত হচ্ছে কবিগুরু রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের ১৫৮তম জয়ন্তী। বৃহস্পতিবার (৯মে) ভোর ৫টায় গৌরপ্রাঙ্গনে বৈতালিকের মধ্য দিয়ে শুরু হয়েছে জন্মজয়ন্তীর অনুষ্ঠান। সাড়ে ৫টায় উত্তরায়ণে হয় কবিকণ্ঠ। প্রথা অনুযায়ী সকাল ৭টায় উপাসনা গৃহে হয় কবিকন্ঠ।

প্রথা অনুযায়ী সকাল ৭টায় উপাসনা গৃহে হয় কবিকন্ঠ। এখানে উপস্থিত ছিলেন বিশ্বভারতীর উপাচার্য সহ সকল শিক্ষকবৃন্দ। এছাড়াও দিনভর শান্তিনিকেতন জুড়ে নানান অনুষ্ঠানের মধ্য দিয়ে রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরকে স্মরণ করা হবে। দিনভর রবীন্দ্র সঙ্গীত, রবীন্দ্র নৃত্য, রবীন্দ্র ভাবনা নিয়ে আলোচনা ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানে মাতোয়ারা থাকবে ক্যাম্পাস। উপাসনা গৃহে মূল অনুষ্ঠানের পর রবীন্দ্রভবনে রবীন্দ্রনাথের ছবিতে মাল্য দান করা হয়।

বিশ্বভারতী শান্তিনিকেতের গণজ্ঞাপন ও সাংবাদিকতা বিভাগের অধিকর্তা বিপ্লব লোহ চৌধুরী জানান, বাঙলির মানসপটে রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর দেবতা। তাঁর ভাবধারায় এই শান্তিনিকেতন গড়ে ওঠেছে যা আমাদের অহংকার। বাঙালি জীবনে যত ভাবনা-বৈচিত্র্য সবটুকুই গান, কবিতা, উপন্যাস ও ছোটগল্পে তুলে ধরেছেন কবিগুরু।

বিশ্বভারতী কর্মী পরিষদ সূত্রে জানা গিয়েছে, সন্ধ্যায় ছাতিমতলা ও উদয়নে আলোকসজ্জার পরেই সাতটা থেকে গৌরপ্রাঙ্গণে শুরু হবে পাঠভবনের নতুন আঙ্গিকের পরিবেশন ‘মানবকন্যা’। নৃত্যাভিনয় ‘মানবকন্যা’-র গ্রন্থনা করেছেন বিশ্বভারতীর বাংলা বিভাগের প্রাক্তন অধ্যাপক তথা আশ্রমিক আলপনা রায়। চিত্রাঙ্গদা, চণ্ডালিকা, শাপমোচন নৃত্যনাট্য থেকে কিছুটা করে অংশ নিয়ে নৃত্যাভিনয় ‘মানবকন্যা’-র বিষয় তৈরি হয়েছে। পাঠভবনের ৫০ জনেরও বেশি পড়ুয়া বিভিন্ন ভাবে এই নৃত্যাভিনয়ের সঙ্গে যুক্ত। প্রায় দেড়মাস ধরে পাঠভবনের উপনন্দ কুটিরে মহড়া চলছে ‘মানবকন্যা’-র।

ভারতের অনুসৃত বাংলা ক্যালেন্ডার অনুযায়ী আজ ৯ই মে তারিখকে ২৫শে বৈশাখ ধরা হয়। সেই হিসেবে কবিগুরু রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর ‘হে নূতন’ গানে চির নতুনের মধ্যে দিয়ে তার নিজের পৃথিবীকে আগমনের শুভক্ষণকে তুলে ধরা হয় আজ।

লেখক: ইলোরা চট্টরাজ, কলকাতার ফ্রিল্যান্স সাংবাদিক ও সংস্কৃতিকর্মী

আরও পড়ুন
লোড হচ্ছে...