ফিফা বেষ্ট ২০১৮: সেরা দশে কারা?

0

আগামী ২৪ সেপ্টেম্বর লন্ডনে জমকালো অনুষ্ঠানের মাধ্যমে প্রদান করা হবে ‘ফিফা দ্য বেষ্ট’ পুরষ্কার। ফ্রান্স ফুটবল থেকে আলাদা হওয়ার পর ফুটবলের সর্বোচ্চ নিয়ন্ত্রণকারী সংস্থা ফিফা বছরের সেরা ফুটবলারের পুরষ্কার পদ্ধতিতে ব্যাপক পরিবর্তন আনে। অতীতে ফিফা ব্যালন ডি’অর পুরষ্কারই ছিলো ফিফা বর্ষসেরা ফুটবারের পুরষ্কার এবং এটি প্রদান করতো ফ্রান্স ফুটবল ম্যাগাজিন। ফিফা ২০১৬ সালে এ নিয়ম থেকে বেরিয়ে আসে এবং – নামক ফিফা ঘোষিত বর্ষসেরা ফুটবলার, কোচ, ফেয়ার প্লে পুরষ্কার চালু করে। এ পুরষ্কার প্রদান করা হয় বিভিন্ন ক্যাটাগরির ভোটের মাধ্যমে।

বিশ্বের সকল জাতীয় দলের অধিনায়ক, কোচ, বিশ্বজুড়ে মানুষদের অনলাইন ভোট এবং ফিফা অনুমোদিত ২০০ জন ক্রীড়া সাংবাদিকের ভোটে নির্ধারণ করা হয় ফিফা বর্ষসেরা ফুটবলার দ্য বেষ্টকে। গত দু’বারের মতো এবারও প্রদান করা হবে ফিফা বর্ষসেরা ফুটবলারের পুরষ্কার।

প্রথম দু’বার এ পুরষ্কার জি-এবং সাবেক রিয়াল মাদ্রিদ তারকা ক্রিস্টিয়ানো রোনালদো। ইতিমধ্যে ফিফা প্রকাশ করেছে এ বছরের দশ জনের সংক্ষিপ্ত তালিকা। রোনালদো, মেসির সাথে বিশ্বকাপ জয়ী এমবাপ্পে, গ্রিজম্যান কিংবা বিশ্বকাপ ফাইনালিস্ট মদ্রিচ থাকলেও নেই ব্রাজিলিয়ান তারকা ফুটবলার নেইমার জুনিয়র। এখন দেখা যাক তালিকায় স্থান পাওয়া ১০ জন ফুটবলারের গত মৌসুমের পরিসংখ্যান এবং ‘ফিফা দ্য বেষ্ট’ সম্ভবনা।

ক্রিস্টিয়ানো

সাবেক রিয়াল মাদ্রিদ নাম্বার সেভেন এবং রিয়াল মাদ্রিদের ইতিহাসের সর্বোচ্ছ গোলদাতা পর্তুগিজ উইঙ্গার ক্রিস্টিয়ানো রোনালদো ফিফা দ্য বেষ্ট পুরষ্কারের দৌড়ে সবচেয়ে এগিয়ে।

চ্যাম্পিয়ন্স লিগ ফুটবল প্রতিযোগিতা পরিচিত ইউরোপিয় ফুটবলের সবচেয়ে জনপ্রিয় প্রতিযোগিতা হিসেবে। আর এ প্রতিযোগিতায় দু’এক মৌসুমে সর্বোচ্চ গোল করা বিশ্ব ফু্বলের অনেক ফুটবলারের পক্ষে সম্ভব হলেও টানা ছয় মৌসুমে সর্বোচ্ছ গোল করা কয় জনের পক্ষে সম্ভব? কিন্তু ক্রিস্টিয়ানো রোনালদো তা করে দেখিয়েছেন।

গত মৌসুমে তিনি জিতেছেন মাত্র একটি শিরোপা তাও চ্যাম্পিয়ন্স লিগ। তার নামের পাশে গত মৌসুমের চ্যাম্পিয়ন্স লিগের সর্বোচ্চ গোল এবং ক্যারিয়ারের ৫ম শিরোপা। পেশাদার ফুটবলে মালদিনির সাথে যৌথভাবে সর্বোচ্ছ চ্যাম্পিয়ন্স লিগ শিরোপা জেতার রেকর্ডেও ভাগ বসিয়েছেন এ পর্তুগিজ তারকা।

চ্যাম্পিয়ন্স লিগে ১৫ গোল, লা লিগায় ২৬ গোল ছাড়াও গত মৌসুমের সর্বোচ্ছ গোলদাতা রোনালদো বিশ্বকাপে করেছেন ১টি হ্যাট্রিক সহ ৪ গোল। বিশ্বকাপে পর্তুগাল বেশিদূর যেতে না পারলেও রোনালদোর ব্যক্তিগত ৯.৮৭ রেটিং ছিলো যা রাশিয়া বিশ্বকাপের সর্বোচ্চ। গত মৌসুমে ৫৪ গোল করে তিনি মৌসুমের সর্বোচ্চ গোল স্কোরার। পরিসংখ্যান এবং ব্যক্তিগত পার্ফম্যান্স সবকিছুই সাবেক রিয়াল মাদ্রিদ এবং পর্তুগিজ তারকার পক্ষেই ইঙ্গিত দিচ্ছে। এবার ফিফা দ্য বেষ্ট জিতলে টানা তিনবার এ পুরষ্কার জেতার রেকর্ড গড়বেন রোনালদো।

এমবাপ্পে

 

ফুটবল ইতিহাসের সর্বকালের সেরা ফুটবলার পেলে ছিলেন সবচেয়ে কম বয়সী বিশ্বকাপ জয়ী ফুটবলার। অন্যদিকে এবার ২০১৮ সালে রাশিয়া বিশ্বকাপ জিতে পেলের রেকর্ডেও ভাগ বসালেন ১৯ বছর বয়সী এমবাপ্পে। শুধু এ রেকর্ডেই নয়! সবচেয়ে কম বয়সী ফুটবলার হিসেবে বিশ্বকাপ ফাইনালে এবং নক আউট পর্বে গোল করার মধ্য দিয়ে পেলের পথ অনুসরণ করছে এমবাপ্পে তা প্রমাণ করতে এমবাপ্পের বিশ্বকাপের পারফর্মেন্স লক্ষ করলেই বোঝা যায়।

বিশ্বকাপের ফাইনাল, নক আউট পর্ব সহ এবারের বিশ্বকাপে সর্বমোট ৪ গোল করে ফ্রান্সকে বিশ্বকাপ জেতানোর পাশাপাশি তিনি জিতেছেন সেরা উদীয়মান ফুটবলারের পুরষ্কার। ফ্রেঞ্চ লিগে পি.এস.জির হয়ে ট্রেবল শিরোপা জেতার পাশাপাশি ২০১৭/১৮ মৌসুমে জাতীয় দল এবং ক্লাবের হয়ে ২১ গোল করেছেন ১৯ বছর বয়সী এ প্যারিস সেন্ট জার্মেইন উইঙ্গার। ফুটবল কিংবদন্তীদের ভাষ্যমতে ফিফা দ্য বেষ্টের দৌড়ে রোনালদোর পর তার অবস্থান।

মেসি

যদি কাউকে জিজ্ঞাসা করা হয় গত মৌসুমে ইউরোপিয়ান টপ ফাইভ লিগের সর্বোচ্চ গোল স্কোরার কে তাহলে চোখ বন্ধ করে উত্তর আসবে বার্সেলোনা তারকা লিওনেল মেসির। তার পায়ের যাদুতেই গত মৌসুমে বার্সেলোনা জিতেছিলো লা লিগা এবং কোপা দেল রে শিরোপা।

৩৩ গোল করে ইউরোপিয়ান গোল্ডেন বুট জেতা লিও মেসি শুধু গোল করেই থেমে থাকেননি। লা লিগায় সর্বোচ্চ ১২টি এসিস্ট, ৮৪টি চান্স ক্রিয়েট যা লিগায় এক মৌসুমে সর্বোচ্ছ এবং ১৭৪টি সফল ড্রিবলিংও করেছেন তিনি। এছাড়াও ৫২টি গোল করে রোনালদোর পর মৌসুমের দ্বিতীয় সর্বোচ্চ গোল স্কোরার লিও মেসি। ব্যক্তিগত পারফর্মেন্স গত মৌসুমে মেসি ছিলেন অসাধারণ।

বিশ্বকাপে আর্জেন্টিনার হয়ে তেমন ভালো কিছু না করলেও লা লীগায় নিজের একক আধিপত্য বজায় রাখা ৫ বারের ব্যালনডি’অর জয়ী লিওনেল মেসি এবারও ফিফা দ্য বেষ্টের জন্য একজন যোগ্য এবং আদর্শ প্রতিদ্বন্দ্বী।

লুকা মদ্রিচ

নিঃসন্দেহে বর্তমান বিশ্বের অন্যতম সেরা মিডফিল্ডার রিয়াল মাদ্রিদ তারকা লুকা মদ্রিচ। রিয়াল মাদ্রিদের খেলা দেখলে অবশ্যই লক্ষ করবেন তাদের মিডফিল্ডের প্রধান ভরসাই হচ্ছে লুকা মদ্রিচ। রিয়াল মাদ্রিদের টানা ৫ মৌসুমে ৪টি চ্যাম্পিয়ন্স লিগ শিরোপা জেতার পেছনে ক্রিস্টিয়ানো রোনালদোর পর তার অবদানই সর্বোচ্চ। নীরবে থেকে মাঝ মাঠের ত্রুটিগুলো নিজের কাঁধে নিয়ে মাদ্রিদের মিডফিল্ডকে বিশ্বের সেরা মিডফিল্ড হিসেবে বিশ্ব ফুটবলে তুলে ধরে নিজের নামের পাশে জুড়েছেন ম্যাজিশিয়ান খেতাব।

মাদ্রিদের হয়ে তার গতীময় আক্রমণাত্মক ফুটবল, বল পাসিং সক্ষমতা এবং দলের প্রয়োজনে রক্ষণাত্মক খেলা সবকিছুই তাকে তৈরি করেছে বিশ্বের সেরা মিডফিল্ডার হিসেবে। রিয়াল মাদ্রিদের হয়ে করা অসাধারণ পারফর্মেন্স তিনি ধরে রেখেছেন রাশিয়া বিশ্বকাপেও। ক্রোয়েশিয়ান মিডফিল্ডে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে ইতিহাসে প্রথমবার তার নেতৃত্বে ক্রোয়েশিয়া খেলেছিলো বিশ্বকাপ ফাইনাল। বিশ্বকাপের সোনালী ট্রফিটা চুমু খেতে না পারলেও তার অল রাউন্ড পারফর্মেন্সের জন্য তিনি নির্বাচিত হয়েছেন এবারের বিশ্বকাপের সেরা ফুটবলার হিসেবে। গত মৌসুমে চ্যাম্পিয়ন্স লিগ এবং বিশ্বকাপের গোল্ডেন বল জেতা মদ্রিচ ফিফা বেষ্টের দৌড়ে অনেকটা এগিয়ে থাকবেন।

ভারান

একমাত্র ডিফেন্ডার হিসেবে এবারের ফিফা দ্য বেষ্টের শর্ট লিস্টে জায়গা করে নিয়েছে ফ্রান্সের বিশ্বকাপ জয়ী দলের রক্ষণভাগের প্রধান ডিফেন্ডার রিয়াল মাদ্রিদ তারকা রাফায়েল ভারান। ইতিহাস ঘাঁটলে দেখা যায় ডিফেন্ডারদের পক্ষে ফিফা বর্ষসেরা পুরষ্কার জেতা খুবই কষ্টকর। সর্বশেষ ২০০৬ সালে ফাবিও ক্যানভারো ডিফেন্ডার হিসেবে ফিফা ব্যালন ডি’অর জিতেছিলেন।

১৯ বছর বয়সে শতাব্দীর সেরা দল রিয়াল মাদ্রিদে যোগদান করা ভারান ইতিমধ্যে মাদ্রিদের হয়ে জিতেছে ৪টি চ্যাম্পিয়ন্স লিগ শিরোপা সহ ১৬টি শিরোপা। বহু বছর ধরে সার্জিও রামোসের সাথে মাদ্রিদ রক্ষণভাগে প্রধান ভূমিকা পালন করছেন এ ফরাসি ডিফেন্ডার। মাত্র ২৫ বছর বয়সে ১৬টি শিরোপা জেতা ফরাসি ডিফেন্ডার ফ্রান্সের বিশ্বকাপ জয়ী দলের রক্ষণভাগের প্রধান ভূমিকা পালন করেন।

তার অসাধারণ পারফর্মেন্সে  বিশ্বকাপের নক আউট পর্বে বেলজিয়াম এবং উরুগুয়ের বিপক্ষে ক্লিন শিট অর্জন করে ফ্রান্স। পরিসংখ্যান হয়তো অতীত, কিন্তু বর্তমান অনেক কিছুই ইঙ্গিত করে। ডিফেন্ডার হওয়ায় ফিফা বেষ্ট জেতার সম্ভাবনা কম থাকলেও যোগ্য হিসেবে সেরা ১০ এ তার নাম অবশ্যই প্রশংসনীয়।

হ্যারি কেইন

বিশ্বকাপে ইংল্যান্ডকে নেতৃত্ব দেয়া টটেনহাম ফরোয়ার্ড হ্যারি কেইন জিতেছেন রাশিয়া বিশ্বকাপের গোল্ডেন বুট পুরষ্কার। এর আগেও প্রিমিয়ার লিগে একাধিকবার গোল্ডেন বুট জেতা এ ইংরেজ ফরোয়ার্ড ক্লাবের হয়ে মৌসুম প্রতি গড় গোলের সংখ্যা ৩০ এরও বেশি।

 

গত মৌসুমের শেষ দিকে ইনজুরির কারণে প্রিমিয়ার লিগের গোল্ডেন বুট হাতছাড়া করলেও বিশ্বকাপে ৬ গোল করে নিজের দেশ ইংল্যান্ডকে বহু বছর পর তুলেছেন বিশ্বকাপের সেমিফাইনালে। তার ব্যক্তিগত পারফর্মেন্স তাকে ফিফা দ্য বেষ্টের শীর্ষ ১০ জনের তালিকায় রেখেছে যা প্রশংসনীয়।

গ্রিজম্যান

স্পেনিশ ক্লাব অ্যাথলেটিকো মাদ্রিদ এবং ফ্রান্স জাতীয় দলের ফুটবলার আতোয়ান গ্রিজম্যান সদ্য রাশিয়া বিশ্বকাপ জেতা দল ফ্রান্সের সেরা খেলোয়াড়। তার অলরাউন্ড পারফর্মেন্স ফ্রান্সের বিশ্বকাপ জেতায় বিরাট ভূমিকা পালন করেছে।

রাশিয়া বিশ্বকাপে গ্রিজম্যান ৪ গোল এবং ২টি এসিস্ট করেছিলেন। তার ৪ গোলের ৩টিই তিনি করেছেন নকআউট পর্বে। রাশিয়া বিশ্বকাপের গোল্ডেনবুট না জিতলেও ফ্রান্সকে তাদের ইতিহাসের দ্বিতীয় বিশ্বকাপ জেতানোর পেছনে সবচেয়ে বেশি অবদান গ্রিজম্যানের।

জাতীয় দলের হয়ে বিশ্বকাপ জেতার পাশাপাশি ক্লাব অ্যাথলেটিকোর হয়ে গত মৌসুমে তিনি জিতেছেন উয়েফা ইউরোপা কাপ ট্রফি। ঐ প্রতিযোগিতায় ৬ গোল করে সর্বোচ্ছ গোলদাতাও তিনি। গত মৌসুমে অ্যাথলেটিকোর হয়ে ২৯ গোল করা এ ফরাসি তারকা আগষ্টের ১৫ তারিখে রিয়াল মাদ্রিদের বিপক্ষে উয়েফা ইউরোপিয়ান সুপারকাপ জিতলে ফিফা বেষ্টের দৌড়ে আরো এগিয়ো যাবেন।

সালাহ

দীর্ঘ সময় ধরে চলমান এক মৌসুমে ইংলিশ প্রিমিয়ার লিগের সর্বোচ্চ ৩১ গোলের রেকর্ড ভেঙ্গে নতুন করে রেকর্ড গড়ে গত মৌসুমে প্রিমিয়ার লিগের গোল্ডেন বুট জেতা মিশরীয় তারকা ফুটবলার মোহাম্মদ সালাহ এবারের ফিফা দ্য বেষ্টের সেরা দশে থাকার যোগ্য দাবিদার।

লিভারপুলের হয়ে প্রিমিয়ার লিগে ৩২ গোলের পাশাপাশি চ্যাম্পিয়ন্স লিগে ১০ গোল করে লিভারপুলকে বহু বছর পর তুলেছেন ইউরোপিয়ান ক্লাব ফুটবলের সবচেয়ে মর্যাদাপূর্ণ প্রতিযোগিতার ফাইনালে। দুর্ভাগ্যক্রমে সালাহ ফাইনালে ইনজুরি আক্রান্ত হয়, যার ফলে লিভারপুল রিয়াল মাদ্রিদের কাছে হেরে চ্যাম্পিয়ন্স লিগ শিরোপা থেকে বঞ্চিত হয়।

লিভারপুলের সুদিন বয়ে আনা মিশরীয় রাজপুত্র মোহাম্মদ সালাহ ইনজুরির কারণে রাশিয়া বিশ্বকাপের প্রথম ম্যাচ খেলতে পারেননি। বাকি দুই ম্যাচ খেলে গোল করলেও মিশর বিশ্বকাপের দ্বিতীয় পর্বে কোয়ালিফাই করতে ব্যর্থ হয়। গত সিজনে ইউরোপিয় ফুটবলে আলো ছড়ানো সালাহ ফিফা দ্য বেষ্টের একজন যোগ্য প্রতিদ্বন্দ্বী।

হ্যাজার্ড

চেলসির হয়ে এ মৌসুমে আলো ছড়াতে পারেননি বেলজিয়ান প্লে মেকার ইডেন হ্যাজার্ড। প্রিমিয়ার লিগের সাবেক চ্যাম্পিয়ন চেলসি ব্যর্থ হয় চ্যাম্পিয়ন্স লিগে কোয়ালিফাই করতে। গত মৌসুমে চেলসির হয়ে ১২ গোল এবং ৪ এসিস্ট করা এ ফুটবলার চেলসির হয়ে জিতেছেন FA Cup শিরোপা। ম্যানচেস্টার ইউনাইটেডকে হারিয়ে চেলসি মৌসুমের একমাত্র শিরোপা জিতে।

চেলসির হয়ে খারাপ মৌসুম পার করলেও রাশিয়া বিশ্বকাপে বেলজিয়ান সোনালী প্রজন্মের নেতৃত্ব দিয়েছেন শক্ত হাতে। তার নেতৃত্ব গুণ এবং অসাধারণ পার্ফম্যান্সে ব্রাজিল, ইংল্যান্ডের মতো দলকে হারিয়ে বেলজিয়াম বিশ্বকাপের তৃতীয় স্থান অর্জন করে। ভাগ্য সহায় থাকলে হয়তো ফাইনাল খেলতে পারতো ইডেন হ্যাজার্ডের বেলজিয়াম। তবুও বেলজিয়ান সোনালী প্রজন্মের নেতৃত্ব দেয়া হ্যাজার্ড নিঃসন্দেহে বর্তমান বিশ্বের অন্যতম সেরা ফুটবলার।

ডি ব্রনেই

বেলজিয়ান সোনালী প্রজন্মের আরেক প্রতিভাবান ফুটবলার হচ্ছে বর্তমান বিশ্বের অন্যতম সেরা এ মিডফিল্ডার ম্যানচেস্টার সিটির হয়ে জিতেছেন প্রিমিয়ার লিগ শিরোপা। পেপ গার্দিওলার ম্যানসিটি এবার ১০০ পয়েন্ট নিয়ে ইংলিশ প্রিমিয়ার লিগ জেতার পেছনে প্রধান ভূমিকা পালন করে এ বেলজিয়ান মিডফিল্ডার।

ম্যানচেস্টার সিটির হয়ে ৮ গোল এবং ১৬ এসিস্ট করা ডি ব্রনেই বেলজিয়ামের হয়ে বিশ্বকাপেও খেলেছেন দুর্দান্ত। হ্যাজার্ডের পর বেলজিয়াম দলের সেরা খেলোয়াড় ডি ব্রনেই বিশ্বকাপের নক আউট পর্বে খেলেছেন দুর্দান্ত। প্রিমিয়ার লিগ জেতা এ মিডফিল্ডার ফিফা দ্য বেষ্টের সেরা দশে থাকা সত্যিই প্রশংসনীয়।

ফিফা প্রকাশিত সেরা দশ জন থেকে সেরা এক জনকে বাছাই করা সত্যিই কঠিন। এবার যেহেতু বিশ্বকাপ অনুষ্ঠিত হয়েছে সেহেতু ফিফা বেষ্ট ফুটবলারের পুরষ্কারে এর প্রভাব পড়বে। গত এক যুগ ধরে চলমান মেসি-রোনালদো লড়াই হয়তো শেষ হতে চলছে এবার। নতুবা আবারো থাকবে তাদের দু’জনের এক জনের হাতে ফিফা দ্য বেষ্ট ফুটবলারের পুরষ্কার। এখন দেখার বিষয় ৩৩ বছর বয়সী রোনালদো কিংবা মেসি নাকি ১৯ বছর বয়সী এমবাপ্পেকে বিশ্ব ফুুটবল প্রতিনিধিরা নির্বাচিত করে ফিফা দ্য বেষ্ট হিসেবে, অপেক্ষায় থাকতে হবে ২৪ সেপ্টেম্বর সন্ধ্যা পর্যন্ত।

 

আরও পড়ুন
লোড হচ্ছে...