বিদেশি ফলের দাম চড়া, দেশি ফলে স্বস্তি

0

পবিত্র মাহে রমজানে ইফতার ও সেহরিতে দেশি ফলের পাশাপাশি বিদেশি ফলের চাহিদা বৃদ্ধি পেয়েছে। তবে আমদানি স্বল্পতার অজুহাতে বিদেশি ফলের দাম এখন চড়া। ঘূর্ণিঝড় ফণীসহ নানা কারণে বন্দরে ফলবাহী জাহাজ ভিড়তে না পারায় বিদেশি ফলের দাম বৃদ্ধি পেয়েছে বলে জানিয়েছেন নগরের ফলমন্ডীর ব্যবসায়ী নেতৃবৃন্দ।

সরেজমিনে ফলমন্ডী এলাকায় গিয়ে দেখা যায়, প্রতি ২০ কেজি মালটা কার্টনে বিক্রি হচ্ছে ২ হাজার ৬০০ থেকে ৩ হাজার টাকায়। যা প্রতি কেজি দাঁড়ায় ১৩৫ থেকে ১৫০ টাকায়। তবে খুচরা বাজারে সে মাল্টা প্রতি কেজিতে বিক্রি হচ্ছে ১৯০ থেকে ২১০ টাকায়। একই অবস্থা আপেলের বাজারেও। প্রতি ২০ কেজি কার্টনের আপেল বিক্রি হচ্ছে ২ হাজার ৮০০ থেকে ৩ হাজার ২০০ টাকায়। যা প্রতি কেজিতে হয় ১৪০ থেকে ১৬০ টাকায়। কিন্তু খুচরা বাজারে তা বিক্রি হচ্ছে থেকে ১৮০ থেকে ২০০ টাকায়। আনার ২০ কেজি কার্টন বিক্রি হচ্ছে ২ হাজার ৬০০ থেকে ২ হাজার ৮০০ টাকায়। অর্থাৎ প্রতি কেজি আনারের দাম পড়ে ১৩০ থেকে ১৪০ টাকা। কিন্তু খুচরা বাজারে বিক্রি হচ্ছে ১৫০ থেকে ১৬০ টাকায়।

অভিযোগ রয়েছে, রমজান মাসে অধিক মুনাফা করতে চট্টগ্রামে ফলের পাইকারি ব্যবসায়ীরা কৃত্রিম সংকট সৃষ্টি করে বাজারে দাম বাঁড়িয়েছেন। তবে ব্যবসায়ীরা এসব অভিযোগ অস্বীকার করে বলছেন, চাহিদার তুলনায় আমদানি কম। ফলে বাড়তি দামেই তাদের কিনতে হচ্ছে। বিক্রিও করতে হচ্ছে বেশি দামে।

ফলমন্ডীর আলমগীর এন্টারপ্রাইজের স্বত্ত্বাধিকারী মো. আলমগীর বলেন, রমজান মাসে দেশি ফলের পাশাপাশি বিদেশি ফলেরও চাহিদা বেশি থাকে। কিন্তু আমদানি কম থাকায় দাম কিছুটা বাড়তি। তবে সেহেরি ও ইফতারে যেহেতু মানুষ ফল থেকে পছন্দ করে তাই বাড়তি দাম দিয়েই এখন কিনতে হচ্ছে তাদের।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে ফলমন্ডী ব্যবসায়ী সমিতির সভাপতি আব্দুল মালেক সওদাগর জয়নিউজকে বলেন, ঘুর্ণিঝড় ফণীর কারণে চট্টগ্রাম বন্দরে ফলবাহী জাহাজ যথাসময়ে পৌঁছাতে পারেনি। ফলে আপেল, মাল্টা, আনারের মতো বিদেশি ফলগুলোর দাম পাইকারি ও খুচরা বাজারে বৃদ্ধি পেয়েছে। তবে আমদানি বাড়লেই দাম কমে যেতে পারে।

কবে নাগাদ দাম কমতে পারে- এ প্রশ্নের উত্তরে তিনি বলেন, রমজানের শেষ দিকে গিয়ে দাম কমতে পারে। যদি এরমধ্যে সরবরাহ বাড়ে তাহলে অবশ্যই দাম কমে যাবে।

বাজারে কোনো কৃত্রিম সংকট নেই উল্লেখ করে তিনি বলেন, কৃত্রিম সংকটের কোনো অবকাশ নেই। কারণ দেশি ফলের সরবরাহ ভালো বিধায় এগুলোর দাম হাতের নাগালে। বিদেশি ফলের সরবরাহ বাড়লে সেগুলোরও দাম হাতের নাগালে চলে আসবে।

এদিকে বিদেশি ফলের দাম বাড়তি হলেও দেশি ফলের দাম স্বস্তি দিচ্ছে ক্রেতাদের। বাজারে দেশি ফল যেমন আম, কাঁঠাল, লিচু, তরমুজ ইত্যাদির সরবরাহ ভালো। বর্তমানে গোবিন্দভোগ আম পাইকারি পর্যায়ে বিক্রি হচ্ছে প্রতি কেজি ৭০ থেকে ৮০ টাকায়। যা খুচরা পর্যায়ে ১০০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। আবার ল্যাংড়া আম পাইকারি বাজারে বিক্রি হচ্ছে ১২০ টাকায়। যেটি খুচরা বাজারে বিক্রি হচ্ছে ১৪০ থেকে ১৫০ টাকায়। দিনাজপুরের বড় আকারের ১ হাজার লিচু পাইকারি বাজারে বিক্রি হচ্ছে দেড় হাজার টাকা। আর ছোট আকারের ১ হাজার লিচু বিক্রি হচ্ছে ১ হাজার ২০০ টাকায়।

জয়নিউজ/শহীদ
আরও পড়ুন
লোড হচ্ছে...