দোভাষের সামনে ৮ চ্যালেঞ্জ

0

হাজার হাজার কোটি টাকার মেগা প্রকল্পের গুরুভার নিয়ে চট্টগ্রাম উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের চেয়ারম্যানের দায়িত্ব নিয়েছেন জহিরুল আলম দোভাষ (ডলফিন)। উন্নত বন্দরনগরীর স্বপ্ন ছোঁয়ার পথে তাঁকে এগিয়ে যেতে হবে অনেকগুলো চ্যালেঞ্জের পথ পেরিয়ে। এই চ্যালেঞ্জগুলোর মধ্যে প্রধান আটটি উঠে এসেছে মুহাম্মদ জুলফিকার হোসেনের বিশেষ প্রতিবেদনে

চট্টগ্রাম উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের (চউক) চেয়ারম্যানের কাছে নগরবাসীর দাবি অনেক। আগের চেয়ারম্যান আবদুচ ছালাম বেশকিছু উন্নয়ন প্রকল্প শেষ করে গেছেন। কিছু আছে চলমান এবং কিছু পরিকল্পনাধীন। এর মধ্যে কয়েকটি আবার হাজার কোটি টাকার মেগা প্রকল্প।

ফিরিঙ্গিবাজার ওয়ার্ডে চারবার নির্বাচিত কাউন্সিলর ও চট্টগ্রাম মহানগর আওয়ামী লীগের সহসভাপতি জহিরুল আলম দোভাষ তাই বড় পরীক্ষার সামনেই পড়তে যাচ্ছেন। নির্দিষ্ট সময়ে চলমান প্রকল্পগুলো শেষ করতে হবে। নতুন প্রকল্প পরিকল্পনা ও তা বাস্তবায়নে অর্থ সংগ্রহের বিষয়টিতো রয়েছেই।

সংশ্লিষ্টদের মতে, নতুন চউক চেয়ারম্যানের প্রশাসনিক কাজে অভিজ্ঞতা দীর্ঘদিনের। তাই প্রবীণ এই রাজনীতিক তাঁর অভিজ্ঞতা, মেধা ও নেতৃত্বগুণে পরিকল্পিতভাবে কাজ চালিয়ে গেলে লক্ষ্য অর্জন খুব কঠিন কিছু হবে না।

এ বিষয়ে যোগাযোগ করা হলে জহিরুল আলম দোভাষ জয়নিউজকে বলেন, চলমান উন্নয়ন প্রকল্পগুলো নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে শেষ করার চেষ্টা করব। বিশেষ করে চট্টগ্রামের উন্নয়নে যেসব প্রকল্প অগ্রাধিকার ভিত্তিতে বাস্তবায়ন করা দরকার সেগুলো বেশি প্রাধান্য পাবে।

তিনি বলেন, নগরের জলাবদ্ধতা নিরসনে মাস্টারপ্ল্যান বাস্তবায়নাধীন রয়েছে। বাকলিয়া এক্সেস রোডের প্রায় ৬০ ভাগ কাজ শেষ হয়েছে। এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়ের কাজ শুরু হয়েছে। এছাড়া বেশকিছু মেগা প্রকল্পের কাজ বর্তমানে চলমান রয়েছে।

সেবাসংস্থার সঙ্গে সমন্বয়

দোভাষের সামনে সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ হচ্ছে নগরের সরকারি সেবাসংস্থাগুলোর সঙ্গে সমন্বয়। এক্ষেত্রে চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের সঙ্গে সমন্বয়ের মাধ্যমে উন্নয়ন প্রকল্প বাস্তবায়নকেই তাঁর সামনে সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা। এছাড়া ওয়াসা, কর্ণফুলী গ্যাস, পিডিবিসহ সরকারি ও স্বায়ত্বশাসিত অন্যান্য সেবাসংস্থাগুলোর সঙ্গে সমন্বয়ের ক্ষেত্রে দক্ষতা তাঁর সাফল্যের ক্ষেত্রে অন্যতম নিয়ামক হবে।

উন্নয়ন প্রকল্পে অর্থছাড়

চট্টগ্রাম উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের উদ্যোগে বেশকিছু উন্নয়ন প্রকল্প প্রক্রিয়াধীন রয়েছে। এসব প্রকল্পে সরকারি তহবিল থেকে অর্থ সংগ্রহ দোভাষের জন্য বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়াবে। আবদুচ ছালাম চেয়ারম্যান থাকাকালীন চট্টগ্রামের উন্নয়নে জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদ (একনেক) থেকে কয়েক হাজার কোটি টাকার অর্থ বরাদ্দ দেওয়া হয়। সেই ধারাবাহিকতা ধরে রাখতে হবে দোভাষকে।

জলাবদ্ধতা নিরসন প্রকল্প

প্রতি বছর বর্ষা মৌসুমে বন্দরনগরীর নিম্নাঞ্চলে জলাবদ্ধতা স্বাভাবিক চিত্র হয়ে দাঁড়িয়েছে। বিশেষ করে চাক্তাই-খাতুনগঞ্জসহ চট্টগ্রামের শিল্প ও রপ্তানি প্রক্রিয়াজাতকরণ এলাকাগুলোতে কোটি কোটি টাকার ক্ষতি হয়। জলাবদ্ধতা নিরসনে প্রায় ৮ হাজার কোটি টাকা ব্যয়ে দুটি বৃহৎ প্রকল্প বাস্তবায়ন করছে চউক। এই প্রকল্পগুলোকে ঘিরে নগরবাসীর প্রত্যাশার পারদ অনেক উঁচুতে।

এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়ে

নগরের লালখান বাজার থেকে বিমানবন্দর পর্যন্ত ৩৩০০ কোটি টাকা ব্যয়ে ১৮ কিলোমিটারের এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়ে নির্মাণ প্রকল্প শুরু হয়েছে। তবে এক্সপ্রেসওয়ের শুরুর স্থান নিয়ে শুরু হয়েছে বিতর্ক। পরিবেশপ্রেমিদের দাবি, টাইগারপাস নয়, বারিক বিল্ডিং থেকে শুরু হোক এক্সপ্রেসওয়ে। সিটি মেয়র আ জ ম নাছির উদ্দীনও এ বিষয়ে দোভাষের দৃষ্টি আকর্ষণ করেছেন। সেভ টাইগারপাস মুভমেন্ট নামে একটি সংগঠন গত কিছুদিন ধরে এ দাবিতে বেশ কিছু কর্মসূচি পালন করেছে। প্রধানমন্ত্রী, সিটি মেয়র ও চউক চেয়ারম্যান বরাবরে দেওয়া হয়েছে স্মারকলিপিও। এ বিষয়টি দোভাষ কীভাবে দেখছেন তা নিয়েও আছে কৌতূহল।

অভ্যন্তরীণ সড়ক যোগাযোগ

চট্টগ্রাম সিটি আউটার রিং রোড, বাইপাস রোডসহ চট্টগ্রামের বেশকিছু গুরুত্বপূর্ণ সড়কের নির্মাণ কাজ ইতোমধ্যেই শেষ হয়েছে। কয়েকটি আছে শেষ পর্যায়ে। এছাড়া বহদ্দারহাট থেকে অনন্যা আবাসিক এলাকার সড়ক উন্নয়ন ও সম্প্রসারণ, চাক্তাই-খাতুনগঞ্জ এপ্রোচ রোডসহ প্রক্রিয়াধীন সড়ক উন্নয়ন প্রকল্পগুলো বাস্তবায়িত হলে নগরের যোগাযোগ ব্যবস্থা অনেক উন্নত হবে।

অনন্যা উপশহর প্রকল্প

চট্টগ্রামের সর্ববৃহৎ এই আবাসিক প্রকল্পে প্লট থাকছে ৩০০০টি। স্কুল, কলেজ, মেডিকেল, পুলিশ স্টেশন, ফায়ার সার্ভিস, শপিংমল, মসজিদ, মন্দির, স্টেডিয়াম, কবরস্থানসহ একটি নান্দনিক ও আধুনিক শহরের সব সুযোগ-সুবিধাই থাকার কথা রয়েছে অনন্যা উপশহরে।

বাকলিয়া এক্সেস রোড

বৃহত্তর বাকলিয়ার যোগাযোগ ব্যবস্থার উন্নয়নে ২২১ কোটি টাকা ব্যয়ে চলছে বাকলিয়া এক্সেস রোডের নির্মাণকাজ। দেড় কিলোমিটার দীর্ঘ ও চার লেইনের এই সড়কটির নির্মাণ কাজ শেষ হলে বাকলিয়া এলাকার যোগাযোগ ব্যবস্থা আগের চেয়ে অনেক উন্নত হবে।

কর্ণফুলী আবাসিক প্রকল্প

১৯৯৪ সালে তৃতীয় কর্ণফুলী সেতুর পাড়ে ৫০ একর জায়গার উপর গড়ে তোলা হয় কর্ণফুলী আবাসিক এলাকা। কিন্তু নাগরিক সুবিধার অভাবে এই এলাকায় এত বছরেও গড়ে উঠেনি আবাসন। এই প্রকল্পে আবাসন গড়ে তোলা নতুন চউক চেয়ারম্যানের সামনে একটি বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে থাকবে।

আরও পড়ুন
লোড হচ্ছে...