ব্যারিস্টার আনিস, আপনি কি শুনছেন?

0

সাম্প্রতিক সময়ে নানা কারণে সংবাদের শিরোনামে হচ্ছে চট্টগ্রামের হাটহাজারী উপজেলা। অধিকাংশ খবরই নেতিবাচক। উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) রুহুল আমিন শত অন্যায়ের বিরুদ্ধে একরকম একাই একের পর এক অভিযান চালিয়ে যাচ্ছেন। পুরো বিষয়টি নিয়ে হাটহাজারীর বর্তমান সাংসদ ব্যারিস্টার আনিসুল ইসলাম মাহমুদের দৃষ্টি আকর্ষণ প্রয়োজন। তাই জয়নিউজের হাটহাজারী প্রতিনিধি আবু তালেবের পাঠানো তথ্যের উপর ভিত্তি করে খোলা চিঠি লিখেছেন মুহাম্মদ জুলফিকার হোসেন

ব্যারিস্টার আনিসুল ইসলাম মাহমুদ।

আজ আপনার কাছে আপনারই নির্বাচনি এলাকার কিছু সমস্যার খণ্ডচিত্র তুলে ধরতে এই খোলা চিঠি।

হাটহাজারীর সাংসদ হিসেবে আপনার নিশ্চয়ই এসব বিষয় জানার কথা। জানা সত্ত্বেও হাটহাজারীজুড়ে সাম্প্রতিক সময়ে যে অনিয়ম-দুর্নীতি-অপকর্ম চলে আসছে তার লাগাম টেনে ধরতে শক্ত ব্যবস্থা কেন নেওয়া হচ্ছে না, সে প্রশ্ন কিন্তু উঠতেই পারে।

গত কয়েকমাসে সংবাদমাধ্যমের পাতাজুড়ে চট্টগ্রামের ১৫টি উপজেলার মধ্যে আপনার নির্বাচনি এলাকার খবরের সংখ্যাই বেশি। তবে অধিকাংশই উদ্বেগজনক।

আপনার এলাকায় খাদ্যে ভেজাল আর নকল পণ্যের কারখানার সন্ধান নিত্যচিত্র হয়ে দাঁড়িয়েছে। হালদায় মরছে মাছ-শুশুক, দালালের বাসায় মিলছে ভূমি অফিসের নথি। এ উপজেলায় যেন সমস্যার শেষ নেই।

তবে এত অন্ধকারে প্রতিবাদের প্রতীক হয়ে আছেন একজন রুহুল আমিন। আপনার উপজেলার এই ইউএনও একের পর এক অভিযানে তুলে আনছেন অনেক অপ্রিয় সত্য। অপকর্মের হোতাদের ধরছেন, শাস্তি দিচ্ছেন। পুড়িয়ে দিয়ে-ডাস্টবিনে ফেলে ধ্বংস করছেন বিপুল পরিমাণ ভেজাল-নকল পণ্য।

প্রশ্ন হলো, যুদ্ধটা রুহুল আমিনের একার কেন হবে? একা তিনি কতটাই বা কী করতে পারবেন?

হাটহাজারীর পুলিশ, এসি ল্যান্ড থেকে শুরু করে প্রশাসনের অন্য কর্তারা কী করছেন?

তাই এসব অনিয়ম-অপকর্মের বিরুদ্ধে ‘যুদ্ধে’ আপনার শক্ত অবস্থান দেখতে চায় সচেতন নাগরিক সমাজ। নেতৃত্ব ও নির্দেশনা আপনাকেই দিতে হবে। একইসঙ্গে উপজেলা প্রশাসনের অন্যান্য কর্তাদেরও এতে সামিল করা চাই।

একজন সংবাদকর্মী হিসেবে এটুকুই শুধু বলার ছিল। আপনার দৃষ্টি আকর্ষণের জন্য সাম্প্রতিক সময়ে হাটহাজারীতে ঘটে যাওয়া বেশ কিছু অনিয়ম-সমস্যার খণ্ডচিত্র তুলে ধরা হলো-

এক কক্ষেই ২৮ ব্র্যান্ডের পণ্য!

১৪ মে ধলই ইউনিয়নের ৮নং ওয়ার্ডের বালুর টাল এলাকায় ১২০ বর্গফুটের একটি কক্ষে ২৮টি ব্র্যান্ডের ভেজাল পণ্য তৈরির কারখানার সন্ধান পাওয়া যায়। ওই কারখানায় তৈরি হচ্ছিল দেশি-বিদেশি ব্র্যান্ডের চা, ঘি, মসলা, তেল থেকে শুরু করে অনেক ভেজাল পণ্য।

কলার হালি ১০০ টাকা, পাকাতে বিষাক্ত কেমিক্যাল

১০ মে উপজেলার কাটিরহাট বাজারে প্রতি হালি বাংলা কলা ১০০ টাকা পর্যন্ত দরে বিক্রি হতে দেখা যায়। ১৯ মে হাটহাজারী পৌরসভার কবুতর হাট এলাকায় কলার আড়তে বিষাক্ত কেমিক্যাল মিশিয়ে কলা পাকানোর অভিযোগে এক ব্যক্তিকে আটক করা হয়।

হালদায় মরা মাছ-শুশুক, ড্রেজার-ঘেরা জাল জব্দ

দক্ষিণ এশিয়ার একমাত্র প্রাকৃতিক মিঠাপানির মৎস্য প্রজনন ক্ষেত্র হালদায় জীববৈচিত্র্য দীর্ঘদিন থেকেই হুমকির মুখে। গত কয়েকমাসে হালদায় মরা মাছ, শুশুক ভেসে ওঠা নিয়মিত খবর হয়ে দাঁড়িয়েছে। এছাড়া গত এক বছরে হালদা নদী থেকে অবৈধভাবে বালু উত্তোলনের অভিযোগে বেশ কয়েকটি ড্রেজার ও বিপুল পরিমাণ অবৈধ ঘেরা জাল জব্দ করা হয়।

দালালের বাসায় ভূমি অফিসের নথি!

১১ এপ্রিল উপজেলার চারিয়া গ্রামের শফিউল আজম নামে এক দালালের বাসা থেকে ভূমি অফিসের বিপুল পরিমাণ নামজারি খতিয়ান, দাখিলা ও ডিসিআর উদ্ধার করা হয়।

কর্ণফ্লাওয়ারের কৌটায় রঙ, সোডা, এমোনিয়া!

১১ মে পৌরসভার বিভিন্ন হোটেলে অভিযান চালিয়ে কর্ণফ্লাওয়ারের কৌটায় মেলে রঙ, সোডা ও এমোনিয়া, যা দিয়ে তৈরি হচ্ছিল ইফতারি।

ভণ্ড বাবার আস্তানা, ওরশের নামে তোলা হতো চাঁদা

গত ২৮ এপ্রিল পৌরসভার আদর্শ গ্রামের উত্তর পাহাড় থেকে এক ভণ্ড বাবার আস্তানা গুঁড়িয়ে দেওয়া হয়। গত ছয় বছর ধরে ওই বাবার ওরশের নামে তোলা হতো চাঁদা, আস্তানাকে ঘিরে চলতো নানা অপকর্ম।

৮০ লিটার দুধ হয়ে যায় ২৪০ লিটার!

২৮ মার্চ উপজেলার আমান বাজার এলাকায় একটি ভেজাল দুধ তৈরির কারখানার সন্ধান মেলে। ওই কারখানায় ৮০ লিটার দুধ কিনে ভেজাল মিশিয়ে বিক্রি করা হতো ২৪০ লিটার।

ডালডা-ফ্লেভার-রঙ দিয়ে বাঘাবাড়ি ঘি!

১১ ফেব্রুয়ারি, ১৫ ফেব্রুয়ারি, ২৭ মার্চ, ২ এপ্রিল ও ১০ মে পৃথক পৃথক অভিযানে প্রচুর পরিমাণে ভেজাল ঘি উদ্ধার করা হয়। এসব অভিযানে ডালডা, ফ্লেভার ও হলুদ রঙ দিয়ে ভেজাল ঘি তৈরিকৃত বাঘাবাড়ি, গোল্ডেন এসপিসহ বিভিন্ন নামকরা ব্র্যান্ডের নকল ঘি জব্দ করা হয়।

ছাড়্পত্র ছাড়াই করাতকল

৩০ মার্চ মির্জাপুর ও ধলই ইউনিয়নে ছাড়পত্র ছাড়াই করাতকল স্থাপনের অভিযোগে পাঁচটি প্রতিষ্ঠানকে ৪৫ হাজার টাকা জরিমানা এবং কাঠ ও মেশিন জব্দ করা হয়।

আরও পড়ুন
লোড হচ্ছে...