কেমন আছেন খালেদা জিয়া

0

বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়া কারাবন্দি হিসেবে এখন উন্নত চিকিৎসার জন্য বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি আছেন। সেখানে তাঁর নিয়মিত চেকআপ চলছে। বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকদের তত্ত্বাবধানে আছেন তিনি ।

জানা গেছে, বেগম জিয়াকে শীঘ্রই কেরানীগঞ্জের কারাগারে নেওয়া হবে। সেখানে তাঁর থাকার উপযোগী করে বিশেষ কক্ষ তৈরি করা হয়েছে।বাড়ানো হয়েছে সুযোগ-সুবিধা। হাসপাতাল থেকে ছাড়া পেলেই তাঁকে সরাসরি নবনির্মিত কেরানীগঞ্জ কারাগারে নেওয়া হতে পারে। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামাল এ বিষয়ে জয়নিউজকে বলেছেন, যেহেতু কেরানীগঞ্জের কারাগারে খালেদা জিয়ার জন্য সব ধরনের সুযোগ-সুবিধা আর প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে, তাই কারাকর্তৃপক্ষ চাইলে বেগম জিয়াকে সেখানেই রাখা হবে। তবে সবকিছু নির্ভর করবে তাঁর হাসপাতাল থেকে ছাড়পত্র পাওয়ার পর।

এদিকে বেগম জিয়ার চিকিৎসাসহ নানান বিষয়ে লোকমুখে নানান গল্প-কাহিনী প্রচার হচ্ছে। আসলে কেমন আছেন বিএনপি প্রধান খালেদা জিয়া । বেগম জিয়া একটি গুরুত্বপূর্ণ দল ও জোটের প্রধান । সে হিসেবে দেশের রাজনৈতিক ইতিহাসে বেগম জিয়ার যে কোনো সংবাদ গুরুত্ব বহন করে। তাই বিষয়টি অনেকেই জানতে চান। আবারও কেউ কেউ খালেদা জিয়ার মুক্তি ও প্যারোলের বিষয় নিয়েও নানান গুজব ছড়াচ্ছেন।অসুস্থ হয়ে এখন হাসপাতালে থাকলেও প্রায় দেড় বছরের মতো সময় পুরানো কারাগারের একটি কামড়ায় কেটেছে সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার দিন। বিষয়টি আবেগ ও স্পর্শকাতর হলেও অনেকেরই এ বিষয়ে জানার আগ্রহ বেশ । এ বিষয়ে আজ জয়নিউজের বিশেষ প্রতিবেদন ।

কোথায় থাকেন
বর্তমানে বেগম খালেদা জিয়ার জন্য বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ের (বিএসএমএমইউ) ৬২১ ও ৬২২ নম্বর কেবিন বরাদ্দ রয়েছে। বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া চিকিৎসাকালীন সময়টাতে এই হাসপাতালের ভিআইপি কেবিন ৬২১-এ থাকছেন।আর ৬২২ নম্বর কেবিনটি তাঁর জন্য বরাদ্দ হলেও সেখানে থাকেন তাঁর গৃহকর্মী ফাতেমাসহ আরো দুইজন । তারা মহিলা কারারক্ষী।

কারাগারে যেমন ছিলেন
নাজিম উদ্দিন রোডের পরিত্যক্ত কারাগারে নারী বন্দিদের একটি বিশাল সেলকে খালেদা জিয়ার থাকার উপযোগী করা হয়। কারাবিধির ৬১৭ ধারা অনুযায়ী সর্বোচ্চ ডিভিশন পাচ্ছেন বেগম জিয়া। সেখানে তিনি নিয়মিত একটি পত্রিকা ও টেলিভিশন দেখার সুযোগ পেলেও তিনি টিভি দেখতেন না। তবে খালেদা জিয়া আরো তিনটি পত্রিকা তাঁর টাকা দিয়ে প্রতিদিন কিনতেন বলে জানা গেছে। তবে পত্রিকাগুলোর নাম জানা যায়নি।

প্রথম শ্রেণির বন্দিদের জন্য কারাগারে যেসব খাবার বরাদ্দ তার থেকেও বেশি খালেদা জিয়া চাইলে দেওয়া হতো।এক্ষেত্রে কারা কর্তৃপক্ষ খালেদা জিয়ার চাহিদামতো খাবার দেওয়ার চেষ্টা করে।এছাড়া যে কক্ষে খালেদা জিয়া থাকতেন, সেখানে উন্নতমানের চেয়ার-টেবিল, খাট, নিয়ম অনুযায়ী অন্যান্য আসবাবপত্র ও মশারি দেওয়া হয়। শুধু তাই নয়, খালেদা জিয়ার কক্ষে নতুন এসিও সংযুক্ত করা হয়। রুমটি গুছিয়ে রাখতেন খালেদা জিয়ার ব্যক্তিগত পরিচারিকা ফাতেমা।

ঢাকার বিশেষ জজ আদালত-৫ এর বিচারক আখতারুজ্জামান মানবিক দিক বিবেচনা করে ফাতেমাকে খালেদা জিয়া যতদিন চাইবেন ততদিন রাখতে পারবেন-এমন আদেশ দিয়েছেন। ফাতেমাই ছিলেন খালেদা জিয়ার একমাত্র সঙ্গী। গল্প-গুজব, পুরানো দিনের স্মৃতিচারণ, পত্রিকা ও নামাজ পড়ে সময় কাটতো তাঁর।

খালেদা জিয়া যে কক্ষে ছিলেন সেখানে একটি ফ্রিজও দেওয়া হয়। খাবার হিসেবে কারাগার থেকে বেগম জিয়ার জন্য চিকন চালের ভাত, মাছ বা মাংস, সবজি, শাক, ভাজি, ও মশুর ডাল থাকতো প্রতিদিন। চা-কফিও চাহিদামাফিক দেওয়া হতো। সকালের নাস্তা দেওয়া হতো বেগম জিয়ার পছন্দ অনুযায়ী। বিকালের নাস্তায় থাকতো মৌসুমী ফল ও আচার।

জানা গেছে, হাসপাতালে ও কারাগারে বেগম জিয়া প্রতিদিন দুই গ্লাস পেঁপের জুস খান। যেহেতু তিনি খুব একটা চলাচল করতে পারেন না, এ ব্যাপারে বেগম জিয়াকে সবসময় সাহায্য করেন ফাতেমা। বেগম জিয়ার পায়ে ব্যথাটা খুব বেশি। এ কারণে চলাফেরায় সমস্যা হয় তাঁর।

এখন তিনি রোজা রাখছেন এবং সেহরির সময় উঠে নামাজ পড়েন। একটু খাবার খেয়ে শুয়ে পড়েন। ইফতারে তেলজাতীয় খাবার পরিহার করেন।

বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী বলেন, তিলে তিলে বেগম জিয়াকে মৃত্যুর মুখে ঠেলে দিচ্ছে সরকার। তবে হাসপাতালে বেগম জিয়ার চিকিৎসার দায়িত্বে নিয়োজিত এক চিকিৎসক এ প্রতিবেদককে বলেন, এ ধরনের কোনো আশঙ্কা নেই। বয়স ও হতাশা ছাড়াও পায়ে তাঁর জটিল সমস্যা। চিকিৎসা চলছে। আসলে বয়স অনুপাতে এগুলো স্বাভাবিক বলে তিনি মন্তব্য করেন।

জয়নিউজ/আরসি

আরও পড়ুন
লোড হচ্ছে...