লবিং রাজনীতিতে বঞ্চিত চবি ছাত্রলীগ

ছাত্রলীগের কেন্দ্রীয় কমিটি

0

চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় (চবি) ছাত্রলীগের অনেক ত্যাগী নেতাকর্মী লবিং রাজনীতির কারণে কেন্দ্রীয় কমিটিতে বরাবরই বঞ্চিত। রাজধানীকেন্দ্রিক লবিং রাজনীতির অঙ্কে চবি ছাত্রলীগের ত্যাগী সিনিয়রদের পদবি না পাওয়া আবার তাদের ডিঙ্গিয়ে জুনিয়র কর্মী রাতারাতি কেন্দ্রের বড় নেতা বনে যাওয়া রীতিমতো বিব্রতকর বলে দাবি করেছেন এই ইউনিটের নেতাকর্মীরা।

এদিকে কেন্দ্রীয় ছাত্রলীগের আংশিক কমিটি ঘোষণার প্রায় ১০ মাস পর গত ১৩ মে পূর্ণাঙ্গ কমিটির অনুমোদন দেন কেন্দ্রীয় ছাত্রলীগ। ৩০১ সদস্যের বিশাল এই কমিটিতে ঠাঁই পেয়েছেন চবি ছাত্রলীগ থেকে শুধুমাত্র একজন নারীনেত্রী। তিনি হলেন ফৌজিয়া নিজাম তামান্না। তবে তামান্না ছাড়াও এবার বেশ কয়েকজন সিনিয়র নেতা পদপ্রত্যাশী ছিলেন বলে জানা যায়।

তাই কমিটি ঘোষণার পরপরই ক্ষোভে ফেটে পড়েন চবি ছাত্রলীগের পদপ্রত্যাশী একাধিক নেতাকর্মী। কমিটি ঘোষণার পর থেকেই ক্যাম্পাসে এখনও চলছে আলোচনা-সমালোচনা। নেতাকর্মীদের মাঝে বিরাজ করছে ক্ষোভ-হতাশা। অনেকেই আবার সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকেও নিজেদের প্রতিক্রিয়া ব্যক্ত করেছেন।

এছাড়া চবি শাখা ছাত্রলীগের একাধিক নেতারা বলছেন, বরাবরের মতো এবারও বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রলীগ বঞ্চিত হয়েছে। এভাবে চলতে থাকলে ভবিষ্যতে মেধাবী ও ত্যাগীরা রাজনীতিতে আগ্রহ হারাবে। চবি ছাত্রলীগকে জমায়াত-শিবির মোকাবেলা করে ক্যাম্পাসে টিকে থাকতে হয়। আর এসব কারণে চবি ক্যাম্পাসের অনেক ত্যাগী নেতা কেন্দ্রের সঙ্গে লবিং রাজনীতিতে পিছিয়ে থাকেন। তাই অনেকে ত্যাগ স্বীকারের পরেও কেন্দ্রীয় কমিটিতে যথাযথ মূল্যায়ন পাননি।

ছাত্রলীগের এ ইউনিটে অতীতে অনেক নেতাকর্মী শিবিরের হামলার শিকার হয়েছেন, অনেকে আবার পঙ্গুত্বও বরণ করেছেন। এদের মধ্যে কাউকে সন্তোষজনক কোনো পদে মূল্যায়ন করেনি কেন্দ্রীয় ছাত্রলীগ, এমনটাই দাবি করেছেন তারা।

এনিয়ে চবি ছাত্রলীগ নেতা প্রদীপ চক্রবর্তী দুর্জয় নিজের ফেইসবুক ওয়ালে লিখেছেন, ‘জালাল আহমেদ চৌধুরীর রক্তের বিনিময়ে চবি ক্যাম্পাস শিবিরমুক্ত হয়। তার চেয়ে বড় ত্যাগী চবিতে গত ১০ বছরে আর একজনও নেই। আর উনার মত ত্যাগী ও দক্ষ সংগঠককে যখন ছাত্রলীগ মূল্যায়ন করল না, তখন কেন্দ্রীয় ছাত্রলীগ চবি থেকে আর কাকে মূল্যায়ন করল আর না করল, সেটা নিয়ে এখন আর ভাবি না।’

সর্বশেষ এই বৈষম্যের বলি শিবিরের হামলার শিকার হওয়া চবি ছাত্রলীগের মামুন-খালেদ কমিটির দপ্তর সম্পাদক জালাল আহমেদসহ অনেকেই ক্ষোভে দেশ ত্যাগ করেছেন। যা ছাত্রলীগের রাজনীতির জন্য অশুভ ইঙ্গিত।

চবি ছাত্রলীগের সাবেক দপ্তর সম্পাদক (প্রবাসী) জালাল আহমেদ জয়নিউজকে মুঠোফোনে বলেন, দেশের অন্য যে কোনো ক্যাম্পাসের তুলনায় চবির রাজনীতিতে টিকে থাকা অত্যন্ত কঠিন। এ ক্যাম্পাসে শিবিরের আধিপত্য ও সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড কতটা শক্তিশালী ছিল, সেটা কারো অজানা নয়। কিন্তু এ ক্যাম্পাস আজ শিবিরমুক্ত। এর পিছনে যাদের ত্যাগ ছিল তাদের বেশিরভাগকে কেন্দ্রীয় ছাত্রলীগ মূল্যায়ন করেনি। কেন্দ্রীয় ছাত্রলীগের কমিটিতে নিস্ক্রিয় জুনিয়ররা লবিং দিয়ে বড় পদবি পাবে, সেখানে ত্যাগীরা কিছুই পাবেন না তা হতাশাজনক। তাছাড়া এ ক্যাম্পাসে যেসব নেতা দলের জন্য ত্যাগ স্বীকার করেছেন তাদের মূল্যায়ন না করার কারণে পরবর্তী সময়ে তারা আর দলের জন্য কাজ করতে আগ্রহ পান না।

এ ব্যাপারে চবি ছাত্রলীগের বিলুপ্ত কমিটির সাবেক সাধারণ সম্পাদক ফজলে রাব্বি সুজন বলেন, ছাত্রলীগের ইতিহাসে সবচেয়ে মেরুদণ্ডবিহীন কমিটি এটি। ত্যাগীদের মূল্যায়ন না করে কমিটি গঠন করায় চবি ছাত্রলীগ হতাশ।

তিনি আরো বলেন, চবি ক্যাম্পাসে প্রত্যেক নেতাকর্মীকে জামায়াত-শিবিরের বিরুদ্ধে সংগ্রাম করে রাজনীতি চর্চা করতে হয়। কিন্ত সদ্যঘোষিত ছাত্রলীগের পূর্ণাঙ্গ কমিটিতে যেসব হাইব্রিড, বিতর্কিত নেতা স্থান পেয়েছে, তাদের বাদ দিয়ে যে পুর্নগঠিত কমিটি ঘোষণা করা হবে তাতে চবি ছাত্রলীগকে যথাযথ মূল্যায়ন করার জন্য কেন্দ্রীয় নেতাদের কাছে দাবি জানাই।

চবি ছাত্রলীগের বিলুপ্ত কমিটির আরেক সাবেক সহসভাপতি মো. মামুন বলেন, কেন্দ্রীয় ছাত্রলীগের পূর্ণাঙ্গ  কমিটি দেখে হতাশ হয়েছি। ৩০১ সদস্যবিশিষ্ট কমিটি হওয়ার পরও চবি ছাত্রলীগের অনেক যোগ্য নেতা বরাবরের মতো বঞ্চিত হয়েছেন। তাই কেন্দ্রীয় ছাত্রলীগ নেতাদের কাছে অনুরোধ থাকবে, চবি ছাত্রলীগের অতীত বর্তমান ইতিহাস বিবেচনা করে ত্যাগীদের বিবেচনা করবেন।

কেন্দ্রীয় ছাত্রলীগের কমিটিতে উপ-ছাত্র বৃত্তি বিষয়ক পদ পাওয়া ফৌজিয়া নিজাম তামান্না জয়নিউজকে বলেন, নেতৃত্ব আল্লাহর দান, এটি সবার কপালে থাকেনা। আর নেতৃত্বে সিনিয়র-জুনিয়র কোনো বিষয় নয়।

চবি থেকে একমাত্র পদ পাওয়া প্রসঙ্গে তিনি বলেন, আমি আশা করেছিলাম চবি থেকে আরো কিছু নেতা পদে আসবে। কিন্তু তারা কেন আসেনি তা কেন্দ্রীয় ছাত্রলীগ ভালো জানবে।

জয়নিউজ/পলাশ/আরসি
আরও পড়ুন
লোড হচ্ছে...