বিদ্যালয় বিমুখ ত্রিপুরা পল্লীর শিশু (পর্ব-২)

0

অর্ধশত পরিবার নিয়ে হাটহাজারী ফরহাদাবাদ ইউনিয়নের উদালিয়া গ্রামের সোনাই ত্রিপুরা পল্লী। এদের অর্ধেকই শিশু-কিশোর। অথচ এখনও এই পল্লীতে পৌঁছায়নি শিক্ষার আলো। পল্লীতে নেই কোনো শিক্ষা প্রতিষ্ঠান। শিক্ষার দিক থেকে পার্শ্ববর্তী বাঙালি পাড়ার চেয়ে অনেক পিছিয়ে আছে তারা। প্রায় দেড়-দুই কিলোমিটার পাড়ি দিয়ে হাতে গোণা ক’জন মাত্র শিক্ষার্থী বিগত কয়েক বছর ধরে বিভিন্ন বিদ্যালয়ে অধ্যায়ন করছে।

ত্রিপুরা পল্লীতে এখনো গড়ে ওঠেনি কোনো প্রাথমিক-মাধ্যমিক স্তরের বিদ্যালয়। ফলে এই জনপদের ছেলেমেয়েরা শিক্ষার আলো থেকে বঞ্চিত। দেড় কিলোমিটার দূরের ইঞ্জিনিয়ার সুলতান আহাম্মদ সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, দুই কিলোমিটার দূরের হাজী মফজল মিয়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় ও উদালিয়া উচ্চ বিদ্যালয়ে এই পল্লীর শিশুদের তেমন চোখে পড়ে না।

পল্লীর দরিদ্র জনগোষ্ঠীর অর্ধেকই শিশু-কিশোর। কিন্তু সচেতনতার অভাবে পল্লীর শিশু-কিশোররা বিদ্যালয়মুখি হয়নি। এক পরিসংখ্যান থেকে জানা যায়, ইঞ্জিনিয়ার সুলতান আহাম্মদ সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে ত্রিপুরা পল্লীর সবচেয়ে বেশি ৩০ জন শিক্ষার্থী পড়াশুনা করে। এতে প্রাক প্রাথমিকে পড়ে ৫ জন, প্রথম শ্রেণিতে পড়ে ৪ জন, দ্বিতীয় শ্রেণিতে ২ জন, ৩য় শ্রেণিতে ১৪ জন, ৪র্থ শ্রেণিতে ২ জন এবং ৫ম শ্রেণিতে পড়ে ৩ জন। হাজী মফজল মিয়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে আসছে পল্লীর ৯ জন শিক্ষার্থী। এর মধ্যে ২য় শ্রেণিতে ৫ জন, ৪র্থ শ্রেণিতে ১ জন ও ৫ম শ্রেণিতে ৩ জন পড়াশুনা করছে। উদালিয়া উচ্চ বিদ্যালয়ে পড়াশুনা করে ১৮ শিক্ষার্থী। এরমধ্যে ছাত্র ১৩ জন এবং ছাত্রী ৫ জন। এছাড়া উপজেলার বাইরে চট্টগ্রাম শহরে কারিগরি বোর্ডের অধীনে পড়াশুনা করছে ৩ জন।

বিদ্যালয় তিনটি সূত্রে জানা গেছে, সম্প্রতি ভাইরাসজনিত সংক্রামক ব্যাধি হাম-এ অক্রান্ত হয়ে পল্লীর ৪ শিশুর মৃত্যু এবং ১ প্রসূতিসহ ৮ মাস থেকে ১০ বছরের ২৪ শিশুর অসুস্থ হওয়ার পর বিদ্যালয়গুলোতে অধ্যয়নরতরা অনুপস্থিত রয়েছে। অনেক শিক্ষার্থী অসুস্থ হয়ে পড়েছে। ত্রিপুরা পল্লী শিক্ষার আলো থেকে কেন বঞ্চিত জানতে চাইলে ১৯৮৬ সালে নাজিরহাট কলেজ থেকে এইচএসসি পাস করা পল্লীর সর্দার ও এক সময়ের ছাত্রলীগ নেতা তাকিধন ত্রিপুরা (৫৫) জয়নিউজকে জানান, পাহাড়ে জুম চাষ করে কিংবা কাঠ কেটে জীবিকা নির্বাহ করি আমরা। সচেতনতার অভাবে এখানকার বেশিরভাগ শিশুই বিদ্যালয়ে যায় না।

তিনি আরো জানান, কর্দমাক্ত রাস্তা পেরিয়ে এক থেকে দেড় কিলোমিটার দূরের সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় ও উচ্চ বিদ্যালয়ে ছেলেমেয়েরা যেতে চায় না। অভিভাবকরা সকাল হলেই জীবন-জীবিকার তাগিদে পাহাড়ে চলে যায়। ফলে শিশুরা বিদ্যালয় বিমুখ হচ্ছে। যদি ত্রিপুরা পল্লীতে একটি বিদ্যালয় স্থাপন করা যেত, তাহলে উপকৃত হত পল্লীর জনগোষ্ঠী।

এ ব্যাপারে জানতে চাইলে উপজেলার শিক্ষা অফিসার সাইদা আলম মুঠোফোনে এ প্রতিবেদককে জানান, দেড় কিলোমিটার দূরের ইঞ্জিনিয়ার সুলতান আহাম্মদ সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়টি ত্রিপুরা জনপদে হওয়ার কথা ছিল। কিন্তু পর্যাপ্ত জমি না পাওয়ায় বিদ্যালয়টি স্থাপন করা হয়েছে অন্যত্র। তবে বিদ্যালয়টি স্থাপনের পর ওই পল্লীর শিশুরা বিদ্যালয়ে আসছে। তবে তাদের মধ্যে সচেতনতার অভাব রয়েছে। এ লক্ষ্যে আমরা কাজ করে যাচ্ছি। আগামী দুই-এক বছরের মধ্যে এ সংখ্যা আরো বাড়বে।

জয়নিউজ/আরসি

আরও পড়ুন
লোড হচ্ছে...