চবিতে ‘উপজাতি’ কোটাকে ‘আদিবাসী’ বলায় প্রতিবাদ

0

চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের (চবি) প্রীতিলতা হলের আসন বরাদ্দে ‘উপজাতি’ কোটাকে ‘আদিবাসী’ কোটা উল্লেখ করে প্রকাশিত বিজ্ঞপ্তির প্রতিবাদ জানিয়েছে চবি পার্বত্য বাঙালি ছাত্র পরিষদ।

বৃহস্পতিবার (২৩ মে) দুপুরে পরিষদের দপ্তর সম্পাদক সাদাত হোসাইন স্বাক্ষরিত এক প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে এ প্রতিবাদ জানানো হয়।

প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, ‘সাম্প্রতিক সময়ে “আদিবাসী” শব্দটি বাংলাদেশের বহুল আলোচিত একটি বিষয়। বাংলাদেশের সংবিধান অনুযায়ী বাংলাদেশে কোনো আদিবাসী নেই, যারা আছেন তাদেরকে “উপজাতি” বা “ক্ষুদ্র-নৃগোষ্ঠী” হিসেবে সংবিধানে স্পষ্ট উল্লেখ করা হয়েছে। আমরা জানি পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয় স্বায়ত্তশাসিত প্রতিষ্ঠান। তার মানে কি এই যে পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয় বাংলাদেশ সংবিধান পরিপন্থী কর্মকাণ্ডকে সমর্থন করবে?’

বিজ্ঞপ্তিতে উল্লেখ করা হয়, ‘সংবিধানের কথা না হয় বাদ দিলাম, বিশ্ববিদ্যালয় পরিচালনার জন্য আলাদা একটা আইন আছে! সে আইন লঙ্ঘন করে নিজস্ব স্বার্থ হাসিলের পথ বেছে নেওয়া একজন শিক্ষিকার কাছ থেকে আমরা আশা করি না। চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ে ‘আদিবাসী’ নামে কোনো কোটা নেই। যারা এটি ব্যবহার করছে তারা নিজস্ব ভাবমূর্তি বৃদ্ধির অপপ্রয়াস চালাচ্ছে।’

বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, ‘বর্তমানে বিশ্ববিদ্যালয়ে যেসব কোটা চালু আছে তা হলো- মুক্তিযোদ্ধা কোটা, খেলোয়াড় কোটা, প্রতিবন্ধী কোটা, উপজাতি কোটা, অ-উপজাতি কোটা ও শিল্পী কোটা। কিন্তু প্রীতিলতা হলের প্রভোস্ট পারভীন সুলতানা হলের আবাসিক সিট বরাদ্দের সাক্ষাৎকার বিজ্ঞপ্তিতে “আদিবাসী কোটা” উল্লেখ করেন। যা বিশ্ববিদ্যালয় আইনের পরিপন্থী এবং সংবিধান লঙ্ঘনের পর্যায়ে অন্তর্ভুক্ত। আশ্চর্যের ব্যাপার হলো, হলের সিটের জন্য ‘প্রতিবন্ধী’ কোটার কোনো উল্লেখ নেই। দেশের আয়তনে বৃহত্তম বিশ্ববিদ্যালয়ে হলের এমন গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্বে থাকা অবস্থায়, একজন শিক্ষিকা, বিজ্ঞজনের কাছ থেকে এমনটা অপ্রত্যাশিত।’

বিজ্ঞপ্তিতে পরিষদের চবি শাখার সভাপতি আমির হোসাইনের বরাত দিয়ে বলা হয়, ‘বর্তমানে আদিবাসী শব্দটা একটা বিতর্কিত শব্দ। এই শব্দ ব্যবহারে নিষেধাজ্ঞা থাকা সত্ত্বেও বিশ্ববিদ্যালয়ের মতো এমন জায়গায় সাম্প্রদায়িক উস্কানি দেওয়ায় এবং সংবিধান বহির্ভূত কাজ করায় তীব্র নিন্দা ও ক্ষোভ প্রকাশ করছি এবং অনতিবিলম্বে এই শব্দ প্রত্যাহার করে নতুন করে পুনরায় বিজ্ঞপ্তি প্রদান করার জন্য আহ্বান করছি।’

এ ব্যাপারে প্রীতিলতা হলের প্রভোস্ট পারভীন সুলতানা জয়নিউজকে বলেন, এটা উপজাতিই হবে। তবে এটা অনেক আগের বিজ্ঞপ্তি, আর এখনতো অফিস বন্ধ। অফিস খুললে দেখে বলতে পারব এরকমটা কেন হয়েছে! এগুলো কর্মচারীরা লিখে থাকে, তারা আগের নোটিসগুলো দেখে দেখে লিখতে গিয়ে হয়তো এরকমটা করেছে।

জয়নিউজ/নবাব/এমজেএইচ
আরও পড়ুন
লোড হচ্ছে...