শোভাযাত্রায় কৃষ্ণকে হত্যা করতে এল কংস

0

নিজের আপন বোনের পুত্রই হত্যা করবে কংসকে- এমনই ছিল দৈববাণী। তাই স্বামীসহ নিজ ভগ্নি দেবকীকে কারাগারে বন্দি করেন অত্যাচারী রাজা কংস। একে একে কংস হত্যা করে দেবকীর সাত সন্তানকে।

আবারও সন্তান জন্ম দিলেন দেবকী। অষ্টম গর্ভের সেই সন্তানকেও হত্যা করতে উদ্যত কংস। কিন্তু তখনই দৈববাণী- ‘তোমারে বধিবে যে, গোকুলে বাড়িছে সে।’

যাকে হত্যা করতে উদ্যত কংস সে তো দেবকীর অষ্টম গর্ভের সন্তান নয়। দেবকীর অষ্টম সন্তান ভগবান শ্রীকৃষ্ণ, যিনি রয়েছেন বৃন্দাবনে যশোদা নন্দনরূপে।

দেবকীর অষ্টম সন্তানকে অত্যাচারী রাজা কংস কর্তৃক হত্যার জন্য উদ্যত হওয়ার সেই কাহিনীই তুলে ধরা হয়েছে জন্মাষ্টমীর শোভাযাত্রায়। রোববার (২ সেপ্টেম্বর) সকাল ১০টায় নগরের আন্দরকিল্লার জেএমসেন হল থেকে শুরু হয় এই শোভাযাত্রা।

জন্মষ্টমী উপলক্ষে নগরজুড়ে চলছে দিনব্যাপী আয়োজন। এ আয়োজনের মধ্যে রয়েছে শোভাযাত্রা, মাতৃ সম্মেলন, ঋষি-বৈষ্ণব সম্মেলন, সনাতন ধর্ম মহাসম্মেলন, ষোড়শ প্রহরব্যাপী মহানামযজ্ঞ ও লীলা প্রদর্শনী, সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান ও প্রসাদ বিতরণ।

শোভাযাত্রার শুরুতে আলোচনা সভায় চট্টগ্রাম মহানগর পুলিশ কমিশনার মাহবুবর রহমান বলেন, প্রায় সাড়ে পাঁচ হাজার বছর আগে অত্যাচারী ও দুর্জনের বিরুদ্ধে শান্তিপ্রিয় সাধুজনের অধিকার প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে মহাবতার শ্রীকৃষ্ণ আবির্ভূত হন। ন্যায় প্রতিষ্ঠার জন্য তাঁর আবির্ভাব অত্যাবশ্যকীয় ছিল।

হাজারো সনাতন ধর্মাবলম্বীর উপস্থিতিতে মুখরিত ছিল চট্টগ্রামের নানা সড়ক। বিভিন্ন এলাকা থেকে শোভাযাত্রা হাজির হয় জেএমসেন হল প্রাঙ্গণে। শোভাযাত্রায় সবার হাতে হাতে ছিল ব্যানার-ফেস্টুন। মাথায় ছিল শ্রীকৃষ্ণের বাণী সম্বলিত ক্যাপ। তরুণদের গায়ে ছিল সাদা-রঙিন পাঞ্জাবি। তরুণীদের কেউ কেউ এসেছিলেন রাধা সেজে।

জেএমসেন হলে দিনব্যাপী অনুষ্ঠানমালায় দুপুর ১২ থেকে শুরু হয়েছে মাতৃ সম্মেলন। বিকাল ৩টায় টিভি ও বেতার শিল্পীদের পরিবেশনায় ধর্মীয় সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান, বিকাল ৫টায় সনাতন ধর্ম মহাসম্মেলন, রাতে জন্মাষ্টমীর পূজা।

জন্মাষ্টমী উদযাপন পরিষদ কেন্দ্রীয় কমিটির সাংগঠনিক সম্পাদক ড. কথক দাশ বলেন, জন্মাষ্টমীর উৎসবকে কেন্দ্র করে পুলিশ প্রশাসনের সার্বিক সহযোগিতা পাচ্ছি। এ উপলক্ষে বিনামূল্যে চিকিৎসা ক্যাম্প, রক্তদান কর্মসূচি ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানেরও আয়োজন রয়েছে।

কোতোয়ালী থানার ওসি মোহাম্মদ মহসিন বলেন, জন্মাষ্টমী উৎসবকে ঘিরে পুলিশ সর্বোচ্চ সতর্ক অবস্থানে রয়েছে। কয়েক স্তরবিশিষ্ট নিরাপত্তা বলয় তৈরি করা হয়েছে। পুলিশের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা শোভাযাত্রাসহ অন্যান্য কর্মসূচিতে উপস্থিত রয়েছেন। ইতোমধ্যে শোভাযাত্রাটি নিরাপদে শেষ হয়েছে।

জয়নিউজ/আরসি

আরও পড়ুন
লোড হচ্ছে...