এই বছর না সেই বছর, জলাবদ্ধতা থেকে মুক্তি কবে!

0

চট্টগ্রাম উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের সাবেক চেয়ারম্যান আবদুচ ছালাম গণমাধ্যমকে গতবছর জানিয়েছিলেন, ২০১৯ সালের বর্ষায় জলাবদ্ধতা প্রকল্পের সুফল পাবে জনগণ। কিন্তু সুফলতো দূরের কথা, সামান্য বৃষ্টিতে নগরের অধিকাংশ জায়গায় পানি জমে সৃষ্টি হয়েছে জলাবদ্ধতা। কোথাও হাঁটু পানি, কোথাও আবার কোমর পানি।

শুক্রবার (২৪ মে) রাতে অল্প বৃষ্টিতে অন্যান্য বছরের চেয়ে এবার বেশি পানি জমেছে বলে জানিয়েছেন স্থানীয়রা।

হাজার কোটি টাকার জলাবদ্ধতা প্রকল্প শুরুর দেড় বছর অতিক্রান্ত হলেও এখনো কোনো সুফল পাচ্ছে না নগরবাসী। এ নিয়ে জনমনে সুষ্টি হয়েছে ক্ষোভ। জলাবদ্ধতার দায় চট্টগ্রাম উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ এড়াতে পারে না বলে মত প্রকাশ করেছেন নগর পরিকল্পনাবিদরা।

এদিকে প্রকল্প পরিচালক বলছেন, প্রকল্পের ১৫ শতাংশ কাজ শেষ হয়েছে। সুফল পেতে আরো আড়াই বছর অপেক্ষা করতে হবে। কিন্তু প্রকল্পের মেয়াদ তিন বছর। এরমধ্যে দেড় বছর শেষ হয়েছে।

তথ্যমতে, শুক্রবারের বৃষ্টিতে ওয়াসার মোড়ে কোমর সমান পানি হয়েছে। জিইসির মোড়, প্রবর্তক মোড়, সিঅ্যান্ডবি কলোনির মোড়, হালিশহর, ঈদগাঁহ এলাকা পানিতে থইথই করছিল। পানি জমেছে নাসিরাবাদেও। চকবাজারে কোমর সমান পানি ছিল।

এছাড়া কাপাসগোলা, শুলকবহর, কাতালগঞ্জ, বাদুরতলা, জাকির হোসেন রোড, ষোলশহর, খুলশি কলোনি, বহদ্দারহাট ফরিদারপাড়া, তালতলা, খলিফাপট্টি, ঘাটফরহাদবেগ, বিআরটিসি ফলমণ্ডি, নাসিরাবাদ হাউজিং সোসাইটি, মুরাদপুর, খাতুনগঞ্জ, আগ্রাবাদ সিডিএ আবাসিক, চৌমুহনি, উত্তর কাট্টলিসহ নগরের অনেক এলাকায় জলাবদ্ধতা সৃষ্টি হয়। অল্প বৃষ্টিতে অন্যান্য বছরের চেয়ে নগরে এবার বেশি পানি জমেছে বলে জানিয়েছেন স্থানীয়রা।

ওয়াসা এলাকার বাসিন্দা আবদুল মালেক জয়নিউজকে বলেন, ‘গতবছর সিডিএ’র সাবেক চেয়ারম্যান ছালাম সাহেব আমাদেরকে আশার বাণী শুনিয়েছিলেন। কিন্তু এ বছর এসে আরো বেশি পানি উঠেছে। সামান্য বৃষ্টিতে যদি এ অবস্থা হয়, তবে ভরা বর্ষায় আমাদের কি অবস্থা হবে, আপনি বলেন?’

বহাদ্দারহাট এলাকার ফল ব্যবসায়ী শাহাদাত হোসেন জয়নিউজকে বলেন, ‘গতকালের বৃষ্টিতে রাস্তায় অনেক পানি জমেছে। এতে আমাদের ব্যবসার অনেক ক্ষতি হয়েছে। আমার মনে হচ্ছে, বেশি বৃষ্টি হলে আমাদের দোকানেও পানি ঢুকবে।

সুফল পেতে সময় লাগবে আরো আড়াই বছর

সিডিএ’র জলাবদ্ধতা প্রকল্পের পরিচালক আহমেদ মঈনুদ্দিন জয়নিউজকে বলেন, ‘জলাবদ্ধতা হয়েছে সেটি মিথ্যা নয়। তবে আমরা কাজ করে যাচ্ছি। এরমধ্যে ১৫ শতাংশ কাজ শেষ হয়েছে। আশা করি আগামী দুই থেকে আড়াই বছর পর নগরবাসী এর সুফল পাবেন।’

প্রকল্প মেয়াদের অর্ধেক সময় চলে যাওয়ার পরও কেন ১৫ শতাংশ কাজ হয়েছে এমন প্রশ্নে তিনি কোনো উত্তর দিতে পারেননি। প্রকল্প পরিচালক বিষয়টি বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর উপর চাপিয়ে দেন। বলেন, ‘আমরা অর্থ ছাড় করে দিই, বাকি কাজ করছে সেনাবাহিনী।’

প্রধানমন্ত্রীর সদিচ্ছার অপচয় করছে সিডিএ

জলাবদ্ধতা প্রকল্প নিয়ে সিডিএ দায় এড়াতে পারে না উল্লেখ করে নগর পরিকল্পনাবিদ প্রকৌশলী দেলোয়ার মজুমদার জয়নিউজকে বলেন, ‘প্রকল্পের অর্ধেক সময় শেষ হওয়ার পরও মাত্র ১৫ শতাংশ কাজ শেষ হওয়াটা হাস্যকর। তারা গতবছর বলেছিল, এ বছর মানুষ সুফল পাবে। কিন্তু এখন বলছে, আরো ‍দুই থেকে আড়াই বছর সময় লাগবে। আসলেই তারা এ সমস্যার সমাধান করতে পারবে কি না সন্দেহ আছে। তারা জনগণের সঙ্গে প্রতারণা করছে। এ বছর না সেই বছর, মানুষ বাঁচে কত বছর ।’

তিনি আরো বলেন, ‘মাননীয় প্রধানমন্ত্রী চট্টগ্রামের জলাবদ্ধতা সমস্যার সমাধানে খুবই আন্তরিক। কিন্তু সিডিএ প্রধানমন্ত্রীর সদিচ্ছার অপচয় করছে। কারণ চট্টগ্রাম উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ এ প্রকল্প বাস্তবায়নের জন্য উপযুক্ত নয়। নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে ড্রেনেজের কাজ শেষ করতে না পারলে, আগের কাজগুলো হারিয়ে যাবে। শুধু কাজ করলে হবে না, তা রক্ষণাবেক্ষণেরও বিষয় আছে। যার সামর্থ্য নেই সিডিএ’র।

আবহাওয়ার পূর্বাভাস

পতেঙ্গা আবহাওয়া অফিসের পূর্বাভাস কর্মকর্তা সেখ ফরিদ আহমেদ স্বাক্ষরিত এক বিজ্ঞপ্তিতে গতকাল সন্ধ্যা ৬টা থেকে আজ শনিবার সন্ধ্যা ৬টা পর্যন্ত চট্টগ্রাম ও পার্শ্ববর্তী এলাকার আবহাওয়ার পূর্বাভাসে বলা হয়, আকাশ আংশিক মেঘলা থেকে সাময়িকভাবে মেঘলা থাকতে পারে। সেইসাথে কোথাও কোথাও অস্থায়ী দমকা/ঝড়ো হাওয়াসহ সাময়িকভাবে বৃষ্টি অথবা বজ্রসহ বৃষ্টি হতে পারে। রাত ও দিনের তাপমাত্রা প্রায় অপরিবর্তিত থাকতে পারে।

বাতাসের গতিবেগ দক্ষিণ/দক্ষিণ-পশ্চিম দিক হতে ঘণ্টায় ১২-১৮ কিলোমিটার বেগে, যা অস্থায়ীভাবে দমকা/ঝড়ো হাওয়ার আকারে ৩৫-৪৫ কিলোমিটার পর্যন্ত বৃদ্ধি পেতে পারে। পরবর্তী ২৪ ঘণ্টায় আবহাওয়ার সামান্য পরিবর্তন হতে পারে।

লেখক: যুগ্ম সম্পাদক, জয়নিউজ।

আরও পড়ুন
লোড হচ্ছে...