হালদাপাড়ে উৎসব

0

প্রাকৃতিক মৎস্য প্রজননক্ষেত্র হালদা নদীতে ডিম ছেড়েছে মা মাছ। শনিবার (২৫ মে) মা মাছ ডিমের নমুনা ছাড়ে। এরপর ডিম সংগ্রহকারীরা হালদা নদীর বিভিন্ন স্পটে মা মাছ কবে ডিম ছাড়বে এই প্রতীক্ষায় নৌকা ও জাল নিয়ে বসে থাকে। রাত ৯টা থেকে রাত ১২টা পর্যন্ত সময়ে নদীতে ডিম ছাড়তে শুরু করে মা মাছ।

শত শত ডিম সংগ্রহকারী নৌকা ও জাল নিয়ে হালদা নদীর অংকুরীঘোনা, পশ্চিম গহিরা, বিনাজুরী,

কাগতিয়া, কাসেম নগর, আজিমের ঘাট, গোলজারপাড়া, মগদাই, নাপিতের ঘাট, পশ্চিম আবুরখীল, উরকিরচর, খলিফারঘোনা, সার্কদা, মোকামীপাড়া, কচুখাইন ও হাটহাজারীর গড়দুয়ারা, নয়াহাট, মাদার্সা, দক্ষিণ মাদার্সা, আমতুয়া, রামদাশ হাট, মাছুয়াঘোনা এলাকায় হালদা নদী থেকে ডিম সংগ্রহ করে। পশ্চিম গহিরা অংকুরীঘোনা এলাকার ডিম সংগ্রহকারী বিধান বড়ুয়া জানালেন, তার তিনটি নৌকা নিয়ে নাপিতের ঘাট এলাকায় নদী থেকে ২৪ বালতি ডিম সংগ্রহ করেছেন। ডিম সংগ্রহকারী রূপম বড়ুয়া বলেন, ৪টি নৌকা নিয়ে নদী থেকে ২০ বালতি ডিম সংগ্রহ করেছি । নেপাল বড়ুয়া ৪ বালতি ডিম সংগ্রহের কথা জানালেন। কাগতিয়ার খোরশেদ দু’টি নৌকা নিয়ে আজিমেরঘাট এলাকা থেকে দশ বালতি ডিম সংগ্রহ করার কথা জানান।

নদীর তীরে আগে থেকে খনন করা কুয়ায় ডিম ফোটানোর কাজে এখন ব্যস্ত সময় কাটাচ্ছে ডিম সংগ্রহকারীরা। হালদা প্রকল্পের টাকা দিয়ে নির্মিত হ্যাচারিগুলোর মধ্যে পশ্চিম গহিরা হ্যাচারি, কাগতিয়ায় হ্যাচারি নির্মাণের পর ডিম ফোটানোর কুয়াগুলোর বেশিরভাগে ফাটল ধরায় এসব কুয়ায় ডিম সংগ্রহকারীরা ডিম ফোটাতে পারছে না বলে জানা গেছে। রাউজানের মোবারকখীল হ্যচারিটি মেরামত করায় এখানে ডিম ফোটানোর কাজ চলছে।

ডিম সংগ্রহকারীরা জানায়, হালদা নদীতে গত বছরের তুলনায় এবার মা মাছ ডিম ছেড়েছে বেশি।

রাউজান উপজেলা মৎস্য অফিসের ফিল্ড অফিসার বোরহান উদ্দিন জানান, হালদা নদীতে প্রশাসনের কঠোর নজরদারির কারণে ডিম ছাড়ার মৌসুমে যান্ত্রিক নৌযান চলাচল ও ড্রেজার ও পাওয়ার পাম্প দিয়ে বালু উত্তোলন বন্ধ থাকায় মা মাছ ডিম ছেড়েছে অন্যান্য বছরের তুলনায় বেশি। তবে কি পরিমাণ ডিম ছেড়েছে তা জানতে চাইলে তিনি জানান, এটা নিশ্চিত করতে জরিপ চলছে। জরিপ শেষ হওয়ার পর সঠিক পরিমাণ বলা যাবে।

জয়নিউজ/শফি/আরসি

আরও পড়ুন
লোড হচ্ছে...