নানা পরিচয়ে ব্যবসায়ীদের সঙ্গে চাঁদাবাজি, অবশেষে গ্রেপ্তার

0

কর্ণফুলী ফিশ মার্চেন্টস এসোসিয়েশনের সদস্যদের কাছ থেকে দীর্ঘদিন যাবৎ বিকাশের মাধ্যমে চাঁদা আদায় করে আসছিল চক্রটি।

কখনো পুলিশের সোর্স, কখনো ডিবি পুলিশ, কখনো র‌্যাব এবং কোস্টগার্ডের পরিচয় দিয়ে চাঁদা দাবি করে তারা। চাঁদা না দিলে গাড়ি আটকে রাখাসহ বিভিন্ন কৌশলে ব্যবসায়ীদের হয়রানি এবং চলতি পথে ট্রাক ড্রাইভারকে গুলি করে হত্যা করার হুমকিও দেয়।

এভাবে হুমকি-ধমকি দিয়ে দীর্ঘদিন ব্যবসায়ীদের কাছ থেকে চাঁদা আদায় করে আসছিল তারা।

তবে কথায় আছে ‘চোরের দশ দিন, গেরস্তের এক দিন।’ ফলে ঠিকই পুলিশের হাতে ধরা পড়েছে এ প্রতারক চক্র। মঙ্গলবার (৪ জুন) এ চক্রের তিন সদস্যকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ।

গ্রেপ্তাররা হলেন শরীয়তপুরের ঝাউচর গ্রামের মৃত মুনাম উদ্দিনের ছেলে মো. হান্নান (৪২), কক্সবাজারের কুতুবদিয়ার মো. আবুল বশরের ছেলে মো. খোরশেদ আলম (৩৬) ও বরিশালের আমড়াগাছা গ্রামের মো. খালেকের ছেলে মো. সোহাগ (২৮)।

বাকলিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. নেজাম উদ্দিন জয়নিউজকে বলেন, আসামিদের চাহিদা মোতাবেক চাঁদার টাকা না দিলে আসামিরা চট্টগ্রাম থেকে ঢাকা পর্যন্ত সড়ক পথে বিভিন্নস্থানে মাছের গাড়ি ডিবি পুলিশ, থানা পুলিশ, হাইওয়ে পুলিশ কিংবা কোস্ট গার্ড ইত্যাদি পরিচয়ে তল্লাশির নামে ঘণ্টার পর ঘণ্টা আটকে রাখত।

যেহেতু মাছ পচনশীল দ্রব্য এবং নির্ধারিত সময়ে গন্তব্যস্থলে পৌঁছাতে ব্যর্থ হইলে নষ্ট হওয়ার আশঙ্কা আছে তাই বাধ্য হয়ে ব্যবসায়ীরা আসামিদের চাহিদা মোতাবেক চাঁদার টাকা দিয়ে দিত।

তিনি বলেন, আসামিদের ব্যবহৃত বিকাশ নম্বরের সিম কার্ড হারিয়ে গেলে তাদের বিকাশ একাউন্টটি ব্লক হয়ে যায়। বিকাশ একাউন্টটি সচল করার লক্ষ্যে আসামিরা মঙ্গলবার (৪ জুন) বাকলিয়া থানায় জিডি করতে আসে। তাদেরকে জিজ্ঞাসাবাদে তারা কর্ণফুলী ফিশ মার্চেন্টস এসোসিয়েশনে কাজ করে বলে জানায় এবং অসংলগ্ন কথা বার্তা বলতে থাকে। এসময় সন্দেহজনক মনে হলে কর্ণফুলী ফিশ মার্চেন্টস এসোসিয়েশনের সভাপতি এবং সাধারণ সম্পাদককে ডেকে পাঠালে তারা আসামিদের সনাক্ত করেন।

বিস্তারিত জিজ্ঞাসাবাদে আসামিরা তাদের অপকর্মের কথা স্বীকার করে। পরবর্তীতে বিকাশের সিম কার্ডটিসহ আসামিদের গ্রেপ্তার করা হয়।
এ ঘটনায় তাদের বিরুদ্ধে থানায় নিয়মিত মামলা রুজু করা হয়েছে বলে জানান ওসি নেজাম।

জয়নিউজ/রুবেল/বিশু
আরও পড়ুন
লোড হচ্ছে...