যেমন ছিল মেয়র নাছিরের শৈশবের ঈদ

0

‘ছোটবেলায় ঈদ মানে ছিল ভোরে ভোরে ঘুম থেকে ওঠা। নতুন কাপড় পড়ে বড়দের সঙ্গে নামাজে যাওয়ার জন্য প্রস্তুতি নেওয়া। তখন নতুন নতুন পোশাক পাওয়া, বড়দের সালাম করে সেলামি নেওয়া আর নিকট আত্মীয়দের বাসায় বেড়াতে যাওয়ার মধ্যেই সীমাবদ্ধ ছিল ঈদ আনন্দ।’

বলছিলেন চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের মেয়র ও চট্টগ্রাম নগর আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক আ জ ম নাছির উদ্দিন।

ঈদ উদযাপন নিয়ে কথা বলতে জয়নিউজের যুগ্ম সম্পাদক বিপ্লব পার্থ মুখোমুখি হয়েছিলেন মেয়র নাছিরের। একান্ত আলাপচারিতায় উঠে এসেছে অনেক কথাই।

শৈশবের ঈদ উদযাপন নিয়ে স্মৃতিচারণ করতে গিয়ে আ জ ম নাছির বলেন, ‘আমার জন্ম ১৯৫৭ সালে। তখন এদেশের নাম ছিল পূর্ব পাকিস্তান। ওই সময় দেশের অর্থনৈতিক অবস্থা এখনকার মতো ছিল না। আমরা পরাধীন অবস্থায় ছিলাম। অনেক দিক দিয়ে আমরা শোষিত ছিলাম, বঞ্চিত ছিলাম। এ অবস্থার মধ্যেই আমরা ঈদ উদযাপন করতাম।’

মেয়র বলেন, ‘আমরা একটা বড় পরিবার ছিলাম। ভাই-বোন অনেক বেশি। আমরা ছিলাম ছয় ভাই, তিন বোন। চাচাতো ভাই-বোন, জ্যাঠাতো ভাই-বোন ও ফুফাতো ভাই-বোনরাও ছিল। আমরা সবাই মিলে ঈদ উদযাপন করতাম।’

তিনি বলেন, ‘তখন আমরা ঈদের দিন নিকটাত্মীয়দের বাসায় যেতাম, সেখানে সময় কাটাতাম। নানা পদের মজার মজার খাবার খেয়ে সেলামি নিতাম। বেড়াতে যাওয়া একটা বড় আনন্দের বিষয় ছিল। আত্মীয়-স্বজন সবাই একত্র হওয়া, সবাইকে সালাম করে সেলামি নেওয়ার মধ্যে অন্য ধরনের আনন্দ ছিল।’

রাজনীতিবিদ, পিতা ও স্বামী হিসেবে ঈদ উদযাপন

‘শৈশবে যেভাবে ঈদ আনন্দ উপভোগ করা যায়, পরিণত বয়সে কিন্তু তা করা যায় না। তখন অনেক দায়িত্ব চলে আসে। শৈশবে ঈদের আনন্দ ছিল নেওয়ার মধ্যে আর পরিণত বয়সের আনন্দ দেওয়ার মধ্যে।’

রাজনীতিবিদ, পিতা ও স্বামী হিসেবে ঈদ উদযাপন সম্পর্কে জানতে চাইলে মেয়র বলেন এমনটাই।

মেয়র যোগ করেন, ‘পরিবারের কর্তা হিসেবে আমাকে অনেক বিষয় চিন্তা করতে হয়। এছাড়া এখন আমি আওয়ামী লীগের নগর কমিটির সাধারণ সম্পাদক এবং সিটি মেয়র। সে হিসেবে দায়িত্বের পরিধিও অনেক বিস্তৃত। এখন আমাকে নগরবাসীকে নিয়ে চিন্তা করতে হয়। আবার দলীয় নেতাকর্মীদেরও খবর নিতে হয়।’

মেয়র হিসেবে নিজের দায়িত্বের কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, ‘নগরবাসীকে সিটি করপোরেশনের পক্ষ থেকে যে সেবা দেওয়া উচিত, তা পুরোপুরি দিতে পারছি কি-না, নগরবাসীর ঈদ আনন্দ স্বাচ্ছন্দ্যময় হচ্ছে কি-না এসব চিন্তাও করতে হয়। যদি নগরবাসী কোনো কারণে মনক্ষুন্ন হয়, আনন্দ উপভোগ করতে না পারে, তবে তা আমার জন্য কষ্টের হবে।’

জয়নিউজ/এমজেএইচ
আরও পড়ুন
লোড হচ্ছে...