সন্তান মন খারাপ করলেও বাড়ি ফেরা হয়নি মঞ্জুদের

0

মা পথ চেয়ে আছে ছেলে বাড়ি ফিরবে। স্বামীর প্রতীক্ষায় থাকে গৃহবধূ। আর সন্তানরাতো অস্থির থাকে বাবার সঙ্গে ঈদ করবে বলে।

পথের ক্লান্তি পেরিয়ে প্রায় সবাই বাড়ি ফিরেছেন। মা-বাবা-স্ত্রী-সন্তানের সঙ্গে আনন্দে কাটাচ্ছেন খুশির ঈদ। কিন্তু এর মাঝেও অনেকেই রয়েছেন যাদের বাড়ি ফেরা হয়নি। মূলত পেশাগত কারণেই তাদের বাড়ি ফেরা হয়নি।

বিশেষ করে দেশের আইনশৃঙ্খলা ও নিরাপত্তায় নিয়োজিতদের অনেকেরই পরিবারের সঙ্গে ঈদ করা হচ্ছে না। চিকিৎসা কিংবা গণমাধ্যম কর্মীদের অনেকেরই ঈদ উদযাপন করতে হচ্ছে অফিসে কিংবা রাজপথে। এর বাইরে একটি পেশার মানুষের বাড়ি ফেরা হয়নি। তারা হলেন ‘সিকিউরিটি গার্ড’।

দেওয়ানবাজারের আফনান ভিলার দারোয়ান হামিদ। ডিউটি থাকায় ঈদে বাড়ি যেতে পারেননি। হামিদ জয়নিউজকে বলেন, নামাজ পরেই কর্মস্থলে ছুটে এলাম। ঈদের ছুটিতে সবাই বাড়ি চলে গেছে। পুরো বিল্ডিংয়ে দুই-তিনটি পরিবার ছাড়া আর কেউ নেই। তাই নিরাপত্তার দিকটা তো আমাকেই দেখতে হবে।

বাড়ির কথা উঠলে তিনি বলেন, ‘আমার বাড়ি বাঁশখালি। বাড়িতে মা, বউ , এক মেয়ে ও এক ছেলে আছে। মেয়ে এসএসসি পরীক্ষা দিবে, ছেলে পড়ে পঞ্চম শ্রেণিতে। সবার জন্য জামা-কাপড় কিনে পাঠিয়ে দিয়েছি। সঙ্গে কিছু টাকাও পাঠিয়েছি। আত্মীয়-স্বজনরা আসবে। তাই বাজারও করতে হবে।’

গত ঈদে ছুটি পেলেও এবারের ঈদে ছুটি পাননি চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের পরিচ্ছন্নতাকর্মী নোমান। তিনি জয়নিউজকে বলেন, আমাদের কাজ তো নগর সুন্দর রাখা। আমি চাই সুন্দর পরিবেশের মধ্যে সবার ঈদ ভালো কাটুক।

এদিকে কর্মচারীদের পাশাপাশি ঈদে বাড়ি ফেরা হয়নি অনেক কর্মকর্তারও। চার বছর ধরে স্ট্যান্ডার্ড ব্যাংকে চাকরি করা এটিএম বুথের কর্মকর্তা মঞ্জুও এবার বাড়ি যেতে পারেননি।

মঞ্জু জয়নিউজকে বলেন, ‘আমার গ্রামের বাড়ি আনোয়ারা। স্ত্রী, দুই ছেলে ও এক মেয়ে বাড়িতেই থাকে। মেয়ে ষষ্ঠ শ্রেণিতে, বড় ছেলে তৃতীয় শ্রেণিতে এবং ছোট ছেলে প্রথম শ্রেণিতে পড়ে। এবার ঈদের ছুটিতে বাড়িতে যেতে পারিনি তাই মন খারাপ করে আছে সন্তানরা।’
ঈদে স্বজনদের ছেড়ে থাকার অনুভূতি জানতে চাইলে তিনি বলেন, পরিবার ছেড়ে আছি এটা বেশ কষ্টের। কিন্তু চাকরি করছি দায়িত্ব পালনটাই সবচেয়ে বড় কথা।

বাড়ি যেতে পারেননি এবি ব্যাংকের এটিএম বুথের কর্মকর্তা সুজনও। তিনি জয়নিউজকে বলেন, আমি দু’বছর ধরে এখানে কাজ করছি। আমাদের কোম্পানিতে লোকবল সংকট থাকায় ঈদেও দায়িত্ব পালন করতে হচ্ছে।

বাড়ির কথা জানতে চাইলে তিনি বলেন, আমার বাড়ি পটিয়ায়। বাড়িতে মা, বাবা, ভাই, বোন রয়েছে। ইচ্ছে হলেও যেতে পারছি না। চাকরি করছি, অফিসের আদেশতো মানতেই হবে। অবশ্য এজন্য বাড়তি কিছু টাকাও পাচ্ছি।

জয়নিউজ/বিশু

আরও পড়ুন
লোড হচ্ছে...