জিনের ভয়ে অমিত মুহুরীকে খুন করেছিল রিপন!

0

শীর্ষ সন্ত্রাসী অমিত মুহুরী নৃশংসভাবে খুন হয়েছে চট্টগ্রাম কেন্দ্রীয় কারাগারে। অমিত খুন হওয়ার পর জনমনে ঘোরপাক খাচ্ছে অজস্র প্রশ্ন। সবচেয়ে সুরক্ষিত স্থান কারাগারে কীভাবে এক আসামির হাতে খুন হলো আরেক আসামী? এটি কি শুধু হত্যাকাণ্ড, নাকি পরিকল্পিত খুন? এ খুনের অন্তরালে কী গডফাদারের হাত আছে? যোগসাজশ আছে কারাগারের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট কারো?

তবে রিমান্ডে খুনি রিপন নাথ যে তথ্য জানালো তাতে চোখ কপালে উঠার মতো অবস্থা। জিনের ভয় দেখানোয় ঘুমন্ত অমিত মহুরীর মাথায় ইট দিয়ে আঘাত করেছিলাম- বলছে রিপন।

রিমান্ডের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট এক কর্মকর্তার সঙ্গে বলে জানা গেছে এ তথ্য।

রিপনকে কেন অমিতের সেলে স্থানান্তর করা হয়েছিল- এ প্রশ্ন সামনে রেখেই তদন্ত শুরু করে নগর গোয়েন্দা পুলিশ।

খুন করার পর চুপচাপ থাকলেও নগর গোয়েন্দা শাখার তদন্ত দলের রিমান্ডে রিপন অকপটে স্বীকার করেছে- সে নিজেই খুন করেছে অমিত মহুরীকে। আর এর পেছনে কারণ ছিল ঘুমানো নিয়ে কথা কাটাকাটি এবং তাকে জিনের ভয় দেখানো।

নগর গোয়েন্দা শাখার তদন্ত দলকে দেওয়া স্বীকারোক্তিতে রিপন বলে, ৩২ নাম্বার সেলের ৬ নম্বর কক্ষে নিয়ে যাওয়ার পর থেকেই অমিত তাকে নানাভাবে টিটকারি মারছিল। রাতে পাশাপাশি কিছুতেই শুতে দিচ্ছিল না। বারবার বলছিল, থাকতে হলে তাকে অমিতের পায়ের কাছেই থাকতে হবে। অমিতের কাছে জিন আছে । জিন শোয়ার হলে সে যাকে-তাকে গুম করে দিতে পারে। এসব তর্কাতর্কিতে সে আর মাথা ঠিক রাখতে পারেনি। তাই অমিত ঘুমিয়ে পরলে ইট দিয়ে তাকে উপর্যপুরি আঘাত করতে থাকে সে।

মামলার তদন্ত কর্মকর্তা নগর গোয়েন্দা শাখার পুলিশ পরিদর্শক আজিজ আহমেদ জয়নিউকে বলেন, রিপন আমাদের জানিয়েছে অমিত জিনের কথা বলে তাকে ভয় দেখিয়েছিল। এটা হয়ত কথার ছলে বলেছিল অমিত। এটা নিছক মজা ছাড়া কিছু নয়। রিপনকে জিজ্ঞাসাবাদ অব্যাহত আছে। এখন পর্যন্ত সে একাই খুন করেছে বলে আমাদের জানিয়েছে।

তিনি আরও বলেন , আদালতের কাছে শিগগির তদন্ত রিপোর্ট দাখিল করবো। কিন্ত আমরা এর আগে সম্ভাব্য সব কারণ খুঁজে দেখছি। রিপন এ পর্যন্ত যা তথ্য দিয়েছে, খুনের কারণ যে সেটাই এমনটিও বলতে পারছি না। এক্ষেত্রে আমরা ঘটনার দিন ২৯ মে এবং পরদিন ৩০ মে’র সিসিটিভি ফুটেজ চেয়েছিলাম কারা কর্তৃপক্ষের কাছে। প্রথমদিনের ভিডিও ফুটেজে ঠিক কী ঘটেছিল তা পাওয়া যেত। আর দ্বিতীয় দিনের ফুটেজ চেয়েছিলাম, ঘটনার পর ওই কক্ষ থেকে কোনো আলামত সরানো হয়েছিল কিনা তা বুঝতে। কিন্তু সরবরাহ করা ফুটেজে ২৯ তারিখের বিকেল ৪টা ৫৭ মিনিট থেকে ৫টা ৭ মিনিট পর্যন্ত ফুটেজ নেই। আবার পরদিন অর্থাৎ ৩০ মে সকাল ১১টা ৯ মিনিট থেকে সকাল ১১টা ২৩ মিনিট পর্যন্ত ১৪ মিনিটের ফুটেজ নেই। ফুটেজের ধারাবাহিকতা থাকলে তদন্তে সুবিধে হতো। কারা কর্তৃপক্ষের দেওয়া দু’দিনের সিসি ক্যামেরা ফুটেজে ১০ মিনিট ও ১৪ মিনিটের ভিডিও মিসিং। এর কারণটাও খতিয়ে দেখছি আমরা।

এদিকে অমিত মহুরীর বাবা অরুণ মুহুরীর জয়নিউজকে বলেন, পরিকল্পিত হত্যাকাণ্ড ঢাকতে জিন নয় আরো অনেক কিছুই বলবে। কথা কাটাকাটির জের, জিনের ভয় দেখানো, এসব কারণে কেউ কাউকে খুন করে না।

আসামিদের সুরক্ষিত রাখতে জেলখানা মন্তব্য করে অরুণ মুহুরী বলেন, অমিত অপরাধী, তাকে ফাঁসি দেবে, সাজা দেবেন আদালত। কিন্ত জেলখানায় আসামীকে এভাবে খুন হতে হবে তা কখনও কাম্য নয়। অমিতকে কোটি টাকার বিনিময়ে খুন করা হয়েছে । আর এ পরিকল্পনায় জড়িত আছে পুরো জেলখানার কর্মকর্তারা। আর এসব ঘটনা ও তথ্য আড়াল করতে দু’দিনের খুনের ঘটনার প্রস্তুতি ও আলামতের সিসি ক্যামেরার ফুটেজ গায়েব করে দিয়েছে তারা।

উল্লেখ্য, গত ২৯ মে রাত ১১টার দিকে চট্টগ্রাম কেন্দ্রীয় কারাগার থেকে অমিতকে গুরুতর জখম অবস্থায় চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়া হয়। রাত ১টার দিকে তাকে মৃত ঘোষণা করেন দায়িত্বরত চিকিৎসক। অমিত মুহুরী নিহতের ঘটনায় পরদিন নগরীর কোতোয়ালি থানায় মামলা দায়ের করেন চট্টগ্রাম কেন্দ্রীয় কারাগারের জেলার নাশির আহমেদ। মামলায় অমিত যে কক্ষে আহত হয়েছেন অর্থাৎ ৩২ নম্বর সেলের ৬ নম্বর কক্ষের হাজতি রিপন নাথকে (২৭) আসামি করা হয়।

জয়নিউজ/বিআরসি

আরও পড়ুন
লোড হচ্ছে...