একদিক আলো, আরেকদিক অন্ধকারাচ্ছন্ন (পর্ব-৫)

0

হাটহাজারীর পাহাড়ঘেরা সোনাই ত্রিপুরা পাড়ায় সূর্য ডুবলেই একদিক আলো হয়, আরেকদিক থাকে অন্ধকারাচ্ছন্ন। যদিও মাত্র কিছুদিন আগে প্রধানমন্ত্রী এ উপজেলাকে শতভাগ বিদ্যুতায়িত উপজেলা হিসেবে ঘোষণা দেন।

সরেজমিনে দেখা যায়, পাড়ার ৫২টি ঘরের মধ্যে অর্ধেকেরও কম পরিবারে আলো জ্বলে। বাকিরা থাকে অন্ধকারে। তাই রাত হলে থমকে যায় বিদ্যুৎবিহীন ত্রিপুরা পল্লীর স্বাভবিক জীবনযাত্রা। পল্লীর বাসিন্দা শ্যাম কুমার জানান, সোনাই ত্রিপুরা পল্লীতে বিদ্যুৎ নেই ত্রিশোর্ধ্ব পরিবারে। বিদ্যুৎ নেই এখানকার একমাত্র ধর্মীয় উপাসনালয়ে। বিদ্যুৎ না থাকায় সন্ধ্যা নামলে পল্লীবাসীর মাঝে নানা ভয়ভীতি কাজ করে।

পল্লীর একদিকে আলো, আরেকদিকে অন্ধকার থাকায় স্বাভাবিক কাজকর্ম সন্ধ্যার পর থমকে যায় বলে জানান সুকুমার ত্রিপুরা। তিনি জানান, বিদ্যুৎ পেলে আমাদের সবারই উপকার হতো। তিনি জানান, তার দুই ছেলে ও এক মেয়ে স্কুলে পড়ে। বিদ্যুৎ না থাকায় সন্ধ্যার পর তারা ইচ্ছা থাকলেও পড়ালেখা করতে পারে না। তাই যাদের ঘরে আলো আছে, তাদের ঘরে গিয়েই পড়ালেখা করতে হয় আমাদের সন্তানদের।

পল্লীর ধন কুমার ত্রিপুরার কন্যা ইঞ্জিনিয়ার সুলতান আহাম্মদ সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের তৃতীয় শ্রেণির ছাত্রী মণি ত্রিপুরা (৯)। মণি জয়নিউজকে জানায়, সন্ধ্যা হলে ত্রিপুরা পল্লীর প্রায় ছেলেমেয়ে ঘুমিয়ে পড়ে। আমাদের ঘরে আলো না থাকায় রাতের বেলা পড়তে পারি না। যেসব ঘরে আলো আছে মাঝেমধ্যে তাদের ঘরে গিয়ে পড়ালেখা করি। বৃষ্টি থাকলে তাও পারি না।

কেরোসিন কিনে আলো জ্বালানোর সামর্থ্য নেই এখানকার মানুষের। এমনটা জানালেন ৫০ বছর বয়সী কৃষ্ণ কুমার ত্রিপুরা। তিনি জানান, সরকারি বিদ্যুৎ আনতে হলে আমাদের প্রত্যেককে চার-পাঁচ হাজার টাকা করে ফি দিতে হয়। এত টাকা খরচ করে বিদ্যুৎ আনা আমাদের পক্ষে সম্ভব নয়।

প্রধানমন্ত্রী শতভাগ বিদ্যুতায়িত উপজেলা ঘোষণার পরও কেন ত্রিপুরাপাড়ার অধিকাংশ ঘর বিদ্যুৎবিহীন- এ ব্যাপারে জানতে চাইলে হাটহাজারী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা আক্তারুন্নেছা শিউলী বলেন, সরকারি ফি দিয়ে তাদের মিটার কেনার মতো সামর্থ্য নেই। তাই বিনামূল্যে তাদের বিদ্যুৎ দেওয়া যায় কি না তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে। এ এলাকার সব মানুষ বিদ্যুৎ পেলে, তাদের জীবনধারা পাল্টে যাবে।

জয়নিউজ/আরসি

আরও পড়ুন
লোড হচ্ছে...