ছালামের কারণেই চসিককে হস্তান্তর করা হয়নি ফ্লাইওভার!

0

আইন বলছে, নগরের সড়ক ও ফ্লাইওভারগুলো রক্ষণাবেক্ষণের দায়িত্ব সিটি করপোরেশনের। সেই আইনের ব্যত্যয় ঘটিয়ে ফ্লাইওভারগুলো চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনকে হস্তান্তর করেনি চট্টগ্রাম উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ (চউক)। এজন্য চউকের সাবেক চেয়ারম্যান আবদুচ ছালামকে দায়ী করছেন সংশ্লিষ্টরা। খোদ চউকের সচিব ও প্রকৌশলীরাই বলছেন, ফ্লাইওভারগুলো তৈরির পর রক্ষণাবেক্ষণের জন্য সিটি করপোরেশনকে হস্তান্তর করা উচিত ছিল।

নগরবাসীর অভিযোগ, আবদুচ ছালামের এসব স্বেচ্ছাচারিতার কারণে দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে তাদের। হস্তান্তর না করা সড়কগুলোর অবস্থা শোচনীয়। আর অল্প বৃষ্টিতে পানি জমে থাকে ফ্লাইওভারে। ফ্লাইওভারের উপর-নিচের লাইটও চুরি হয়ে গেছে যথাযথ রক্ষণাবেক্ষণের অভাবে।

আইন কী বলছে

২০০৯ সালে প্রকাশিত বাংলাদেশ গেজেটের সিটি করপোরেশন সংক্রান্ত বিদ্যমান আইন ও অধ্যাদেশসমূহ একীভূত, অভিন্ন এবং সমন্বিতকরণকল্পে প্রণীত আইনের ১৮ নম্বর অনুচ্ছেদে বলা হয়েছে, করপোরেশন নগরীর অধিবাসী এবং নগরীতে আগন্তুকদের আরাম ও সুবিধার জন্য প্রয়োজনীয় রাস্তা এবং অন্যান্য ব্যবস্থা ও রক্ষণাবেক্ষণ করবে।

ফ্লাইওভারগুলোর বর্তমান অবস্থা

অপর্যাপ্ত নিরাপত্তা বেষ্টনি, ফ্লাইওভারের লাইট বন্ধ থাকা, অল্প বৃষ্টিতেই হাঁটু পরিমাণ পানি জমে থাকাসহ নানা অব্যবস্থাপনায় নগরের ফ্লাইওভারগুলো দিন দিন ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে উঠছে। এভাবে চলতে থাকলে জনকল্যাণে নির্মিত ফ্লাইওভারগুলো জনদুর্ভোগের কারণ হয়ে উঠবে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।

নগরের বহদ্দারহাট ফ্লাইওভারের ডিভাইডারে বসানো লোহার রেলিং খুলে নিয়ে যাচ্ছে দুর্বৃত্তরা। ইতোমধ্যে প্রায় শ’খানেক রেলিং হাওয়া হয়ে গেছে। এ ছাড়া ফ্লাইওভারের উপরের সড়কবাতির বেশিরভাগ সুইচ ভেঙে ফেলা হয়েছে। ফলে এটি এখন মাদকসেবী ও ছিনতাইকারীদের নিরাপদ আখড়ায় পরিণত হয়েছে। সন্ধ্যার পর ফ্লাইওভারটিতে অনেকটা নির্বিঘ্নেই চলে ছিনতাই ও মাদকসেবন। আর এসবের কারণ হিসেবে যথাযথ রক্ষণাবেক্ষণের অভাবকে দায়ী করছেন নগরবাসী।

বহদ্দারহাট এলাকায় কথা হয় স্থানীয় ব্যবসায়ী আবুল কালামের সঙ্গে। তিনি জয়নিউজকে বলেন, ফ্লাইওভার রক্ষণাবেক্ষণে কোনো নিয়ম-শৃঙ্খলা নেই। লোহার এঙ্গেল খুলে নেওয়া হয়েছে। অনেক লাইট নষ্ট। ফ্লাইওভারের উপর দেওয়া হয়েছে স্পিডব্রেকার। পৃথিবীর কোথাও ফ্লাইওভারের উপর স্পিডব্রেকার দেখিনি। তাই ফ্লাইওভারগুলো রক্ষণাবেক্ষণের পুরো প্রক্রিয়া নিয়মের মধ্যে আনা দরকার।

একই অবস্থা আক্তারুজ্জামান ফ্লাইওভার ও কদমতলী ফ্লাইওভারেরও। সামান্য বৃষ্টিতে হাঁটু পরিমাণ পানি জমে থাকে ফ্লাইওভারের পর। বহদ্দারহাট থেকে লালখান বাজার পর্যন্ত ফ্লাইওভারের উপরের সড়কবাতির অর্ধেকই নষ্ট।

এর ফলে রাতে ছিনতাইকারী ও মাদকসেবীদের আখড়া হয়ে উঠে ফ্লাইওভার। এছাড়া ফ্লাইওভারের উপর বিভিন্ন স্থানে দেওয়া হয়েছে অপরিকল্পিত গতি নিয়ন্ত্রক। যা অনেক সময় দুর্ঘটনার কারণ হয়ে উঠে। আর নিচের দিকের বিলবোর্ডগুলো দখল করে বসানো হয়েছে বাণিজ্যিক বিজ্ঞাপন। যা জানেন না খোদ বর্তমান চেয়ারম্যানও।

গত ১৫ জুন বিকেলে আক্তারুজ্জামান ফ্লাইওভারের ওয়াসা এলাকায় এক মোটরসাইকেল আরোহী দুর্ঘটনার কবলে পড়েন। অপরিকল্পিত গতি নিয়ন্ত্রকের সামনে মোটরসাইকেল আরোহী গতি কমালেও পেছন থেকে একটি প্রাইভেট কার এসে ধাক্কা দেয়। এর ফলে হাতে ও পায়ে মারাত্মক জখম হয় তার।

সংশ্লিষ্টরা যা বললেন

এ বিষয়ে যোগাযোগ করা হলে চট্টগ্রাম উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের সচিব তাহেরা ফেরদৌস বেগম জয়নিউজকে বলেন, আগের চেয়ারম্যানের (আবদুচ ছালাম) সময় বিষয়টা একরকম ছিল। বর্তমান চেয়ারম্যান বিষয়গুলো তদারকি করছেন।

ফ্লাইওভার নিয়ে বিস্তারিত জানতে প্রধান প্রকৌশলীর সঙ্গে আলাপ করার পরামর্শ দেন তিনি।

চট্টগ্রাম উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী কাজী হাসান বিন সামস জয়নিউজকে বলেন, নিয়ম অনুযায়ী প্রকল্প শেষ হলে সেটি সিটি করপোরেশনকে হস্তান্তর করা উচিত। কারণ রক্ষণাবেক্ষণের জন্য সিডিএ’র কোনো বরাদ্দ থাকে না। সিটি করপোরেশনের কাছে এ বাবদ বরাদ্দ থাকে।

এখনো কেন ফ্লাইওভার সিটি করপোরেশনকে হস্তান্তর করেননি এমন প্রশ্নে তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী কোনো উত্তর দেননি। পরে অবশ্য বলেছেন, এটি কর্তৃপক্ষের বিষয়।

চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের প্রধান নির্বাহী মো. সামসুদ্দোহা জয়নিউজকে বলেন, নগরের ফ্লাইওভারগুলো সিটি করপোরেশনকে হস্তান্তর করার জন্য আমরা মন্ত্রণালয়ে চিঠি পাঠিয়েছি। আশা করি মন্ত্রণালয় এ বিষয়ে দ্রুত ব্যবস্থা গ্রহণ করবে।

তবে নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক চট্টগ্রাম উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের একাধিক প্রকৌশলী জয়নিউজকে জানান, বারবার বলার পরও চউকের তৎকালীন চেয়ারম্যান আবদুচ ছালাম ফ্লাইওভারগুলো হস্তান্তর করেননি। আমরা এ বিষয়ে অনেকবার ওনাকে বোঝাতে গিয়েছিলাম। তিনি উল্টো আমাদের ধমক দিয়েছেন।

এ বিষয়ে জানতে চউকের সাবেক চেয়ারম্যান আবদুচ ছালামের সঙ্গে মুঠোফোনে যোগাযোগ করার চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি।

জয়নিউজ/এমজেএইচ
আরও পড়ুন
লোড হচ্ছে...