কাঁঠালে ঠাসা মাটিরাঙ্গা বাজার

0

খাগড়াছড়ির সবচেয়ে বড় কাঁঠালের হাট বসে মাটিরাঙ্গায়। ইতোমধ্যে মাটিরাঙ্গা বাজার মধুমাসের ফল কাঁঠালে ঠাসা। সপ্তাহের শনিবার হাটবার হলেও বৃহস্পতিবার বিকাল থেকেই প্রত্যন্ত পাহাড়ি জনপদসহ আশপাশের বিভিন্ন উপজেলা থেকে বিক্রেতারা কাঁঠাল নিয়ে আসতে শুরু করেন জেলার সর্ববৃহৎ এ হাটে। এ দুইদিন মাটিরাঙ্গার এক কিলোমিটার জুড়ে বসে কাঁঠালের হাট।

হাটবারকে সামনে রেখে মাটিরাঙ্গায় এসে জড়ো হন নোয়াখালী, চাঁদপুর, ব্রাহ্মণবাড়িয়া ও সিলেটসহ দেশের বিভিন্ন অঞ্চলের পাইকাররা। তারা ট্রাকে ট্রাকে কাঁঠাল নিয়ে যান সমতলের জেলাগুলোতে।

এখানকার আড়তগুলোতে পাহাড়ের কাঁঠালের রমরমা ব্যবসা হয়। বাজারে আসা পাইকাররা জানান, সমতলের জেলাগুলোতে পাহাড়ের কাঁঠালের চাহিদা ব্যাপক। স্থানীয় চাহিদা মিটিয়ে কাঁঠাল সরবরাহ করা হয় চট্টগ্রাম, নোয়াখালী, কুমিল্লা ও ঢাকাসহ সমতলের বিভিন্ন এলাকায়।

হাট ঘুরে দেখা গেছে, কাঁঠালের স্তূপ সাজিয়ে বসেছেন বিক্রেতারা। প্রতিটি স্তূপে রয়েছে শ’ শ’ কাঁঠাল। বিভিন্ন জেলা থেকে আসা পাইকাররা দরদাম করে কিনছেন কাঁঠাল। তারা জানান, সমতলে পাহাড়ের কাঁঠালের চাহিদা থাকায় তারা অনেকটা চড়া দামেই কিনে নিয়ে যাচ্ছেন পাহাড়ের কাঁঠাল। আর সমতলের চাহিদার কথা মাথায় রেখে স্থানীয় বিক্রেতারা এখনো দাম ধরে রেখেছেন।

মাটিরাঙ্গা বাজারে কাঁঠাল নিয়ে আসা খুচরা বিক্রেতাদের সাথে কথা বলে জানা যায়, জেলার সবচেয়ে বড় এ কাঁঠালের হাটে উপজেলার প্রত্যন্ত জনপদ ছাড়াও লোগাং, পানছড়ি, মারিশ্যা, মাইসছড়ি, ভুয়াছড়ি, বাঘাইছড়ি থেকে ট্রাক ও চাঁদের গাড়ি বোঝাই করে কাঁঠাল নিয়ে আসেন স্থানীয় খুচরা ও পাইকারি বিক্রেতারা। স্থানীয় বাজারে প্রতিটি কাঁঠাল বিক্রি হচ্ছে ৩০ টাকা থেকে শুরু করে ১০০ টাকা দরে। সমতলের জেলাগুলোতে এর দাম পড়বে তিনগুণ বেশি।

মাটিরাঙ্গার কাঁঠাল বিক্রেতা মো. শফিক এ বছর আবহাওয়া অনুকুলে থাকায় কাঁঠালের বাম্পার ফলন হয়েছে দাবি করে জানান, কাঁঠালে কাঁঠালে ভরে গেছে চাষিদের বাগান। ন্যায্যমূল্য পাওয়া নিয়ে আশাবাদী স্থানীয় বিক্রেতারা।

মাটিরাঙ্গা বাজারের ইজারাদার মো. জসিম উদ্দিন জানান, এ মৌসুমে প্রতি সপ্তাহে এ বাজার থেকে কমপক্ষে ১০০ ট্রাক কাঁঠাল সমতলের বিভিন্ন জেলায় যাচ্ছে। যা থেকে মোটা অঙ্কের রাজস্ব পাচ্ছে সরকার। এছাড়াও গাড়িতে কাঁঠাল লোড-আনলোডসহ অন্যান্য কাজে হাটবারে অন্তত দুইশ’ শ্রমিক নিয়োজিত রয়েছে।

নোয়াখালী থেকে আসা কাঁঠাল ব্যবসায়ী মোছলেম মিয়া জানান, কাঁঠাল দেখে দাম নির্ধারণ করা হয়। ক্রয়মুল্য যাই হোক সমতলে প্রতিটি কাঁঠাল তিনগুণ দামে বিক্রি করা হয়। ফলে লোকসানের মুখে পড়তে হয় না। তবে কাঁঠালের এ মৌসুমে মাটিরাঙ্গা বাজারে দালাল এবং মধ্যস্বত্বভোগীদের আনাগোনা বেড়ে যাওয়ায় বাইরে থেকে আসা ক্রেতারা হয়রানিসহ আর্থিক ক্ষতির সম্মুখীন হচ্ছেন বলে জানান কয়েকজন পাইকার।

খাগড়াছড়িতে সরকারি বা বেসরকারি উদ্যোগে হিমাগার প্রতিষ্ঠা করা গেলে স্থানীয় চাষিরা তাদের উৎপাদিত ফল সংরক্ষণসহ আরো ভালো দাম পেতো বলে মনে করছে সচেতনমহল।

জয়নিউজ/আরসি

আরও পড়ুন
লোড হচ্ছে...