অভিনব কায়দায় রপ্তানি পণ্য লুট, অভিযানে গ্রেপ্তার ৬  

0

ফ্রান্সে রপ্তানির উদ্দেশে তৈরি গার্মেন্টস পণ্য কারখানা থেকে চট্টগ্রাম বন্দরে নেওয়ার পথে গাড়ি থেকে লুট হয়ে যায়। অভিনব কায়দায় পণ্য লুট করা এমন একটি চক্রের ৬ সদস্যকে গ্রেপ্তার করেছে নগর গোয়েন্দা পুলিশ। এসময় পরিত্যক্ত গোডাউন থেকে পণ্যভর্তি কাভার্ডভ্যানটি উদ্ধার করা হয়।

মঙ্গলবার (১৮ জুন) সকালে নগরের বায়েজিদ বোস্তামির হক ফুড এজেন্সির পরিত্যক্ত গোডাউন থেকে জ্যাকেটবোঝাই কাভার্ডভ্যানটি উদ্ধার ও তাদের গ্রেপ্তার করা হয়। উদ্দারকৃত পণ্যের বজার মূল্য ৩৮ লাখ টাকা বলে জানান নগর গোয়েন্দা পুলিশ।

গ্রেপ্তার ছয়জন হলেন- সাহাদাত হোসেন (২৮), ওবায়দুল হক (৩৭), সোহাগ হোসেন (৩২), সিরাজ মিয়া (২৮), রুবেল হোসেন (২২ ) ও মো. সুমন (৩০)।

পুলিশ সূত্রে জানা যায়, নগরের চাক্তাইয়ে দ্বীপ অ্যাপারেলস নামে একটি পোশাক কারখানায় তৈরি জ্যাকেট ৮টি কাভার্ডভ্যানে করে ফ্রান্সে রপ্তানির উদ্দেশে বন্দর ভবন সংলগ্ন বেসরকারি এছাক ব্রাদার্স কনটেইনার ডিপোতে পাঠানো হচ্ছিল। ৭টি কাভার্ডভ্যান কনটেইনার ডিপোতে গেলেও একটি কার্ভাভ্যান ডিপোতে পৌঁছায়নি। পরে সোমবার রাত ১১টার দিকে পোশাক কারখানার পক্ষ থেকে বিষয়টি জানানো হলে অভিযানে নামে নগর গোয়েন্দা পুলিশের একাধিক টিম।

মঙ্গলবার সকালে বায়েজিদ বোস্তামি থানার আমিন জুট মিলসের উত্তর গেট সংলগ্ন ২ নম্বর গলির হক ফুড এজেন্সির পরিত্যক্ত গোডাউনে কাভার্ডভ্যানটি পাওয়া যায়। সেখান থেকে ৩৬০ কার্টনে ৪ হাজার ৩২০ পিস তৈরি জ্যাকেটসহ ৬ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়।

দ্বীপ অ্যাপারেলসের ম্যানেজিং ডিরেক্টর মো. জসীম উদ্দীন জয়নিউজকে বলেন, আমাদের তৈরি জ্যাকেট বোঝাই ৮টি গাড়ির একটি মিসিং হলে গোয়েন্দা পুলিশকে খবর দিই। উনারা খুব দ্রুত অভিযান চালিয়ে এই চোরচক্রকে গ্রেপ্তার করে। তাই গোয়েন্দা পুলিশকে ধন্যবাদ জানাই।

নগর গোয়েন্দা পুলিশের অতিরিক্ত উপ-কমিশনার (এডিসি-উত্তর) মির্জা সায়েম মাহমুদ জানান, ফ্রান্সের সী-ট্র্যাক নামে একটি মাল্টিন্যাশনাল কোম্পানি এই গার্মেন্টস আইটেমগুলো তৈরির অর্ডার দিয়েছিল। সেই অনুসারে দ্বীপ অ্যাপারেলস পোশাক কারখানা তৈরি জ্যাকেটগুলো কন্টেইনার ভর্তি করে বন্দরের উদ্দেশে পাঠায়। কিন্ত তাদের ৮টি গাড়ির মধ্যে ১টি গাড়ি মিসিং সেই তথ্যে আমরা অভিযান চালিয়ে চোরাই চক্রের ৬ সদস্যকে কাভার্ডভ্যানসহ গ্রেপ্তার করি।

তিনি আরো জানান, গ্রেপ্তার ৬ জনকে প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে জানা গেছে, কাভার্ডভ্যানে রাখা প্রতিটি কার্টন কেটে কিছু জ্যাকেট বের করে সেখানে সেই পরিমাণ ওজনের ঝুটকাপড় ঢুকিয়ে প্লাস্টিক টেপ দিয়ে মুড়িয়ে দেওয়া হত। তাই ওজন ঠিকঠাক থাকতো আর সেই অবস্থাতেই কার্টনগুলো জাহাজে তুলে দেওয়া হত। এতে যে পরিমাণ জ্যাকেটের অর্ডার দেওয়া হত, তার থেকে কম পেত তারা।

এডিসি সায়েম আরো জানান, কাভার্ডভ্যান থেকে পণ্য লুটে চট্টগ্রামে তিনটি চক্র জড়িত। গ্রেপ্তার হওয়া ৬ জনের চক্রটির প্রধান শাহাদাত। এই চক্রে আছে আরও দুইজন। গত রমজান মাসে চক্রটি ১১টি পণ্যচুরির ঘটনা ঘটিয়েছে। একইভাবে চট্টগ্রামে আরও দুটি চক্র আছে। বর্হিবিশ্বে বাংলাদেশের ভাবমূর্তি রক্ষার্থে তাদের গ্রেপ্তারে আমাদের অভিযান অব্যহত থাকবে।

জয়নিউজ/রিফাত/এসআই
আরও পড়ুন
লোড হচ্ছে...