বিগ ফাইভেই শেষ নয়!

0

নিজেদের জাত চিনিয়ে মাঠ মাতিয়ে রেখেছেন বাংলাদেশের পাঁচ তারকা ক্রিকেটার। প্রায় প্রতি ম্যাচেই এই পাঁচজনের কেউ না কেউ হাল ধরছেন। দলকে জয়ের বন্দরে পৌঁছে দিতে রেখে চলেছেন অগ্রণী ভূমিকা। প্রশ্ন উঠেছে, এই পাঁচ তারকার বিদায়ের পর কী হবে?

কথা হচ্ছে বাংলাদেশ দলের অধিনায়ক মাশরাফি বিন মর্তুজা, ওপেনার তামিম ইকবাল, বিশ্বসেরা অলরাউন্ডার সাকিব আল হাসান, উইকেটরক্ষক মুশফিকুর রহিম ও মিডল অর্ডার ব্যাটসম্যান মাহমুদুল্লাহ রিয়াদকে নিয়ে।

এই পাঁচজনের মধ্যে বয়স ও ফিটনেস বিচারে মাশরাফি খুব সম্ভবত এবার নিজের শেষ বিশ্বকাপ খেলছেন। অন্য চারজন বয়স বিবেচনায় আরেকটা বিশ্বকাপ খেলার স্বপ্ন দেখতেই পারেন।

কিন্তু এরপর? এদেশের ক্রিকেটপ্রেমীদের এই পাঁচ তারকার প্রস্থান নিয়ে তাই উদ্বেগের শেষ নেই।

পাঠক, আপনি যদি বাংলাদেশের ক্রিকেটের নিয়মিত দর্শক হয়ে থাকেন, তাহলে একটু চিন্তা করে দেখলেই বুঝবেন, টাইগারদের ক্রিকেট ভবিষ্যত কতটা আলোকিত।

আসুন, এবারের বিশ্বকাপের স্কোয়াড (স্ট্যান্ডবাইসহ) থেকেই একটা একাদশ দাঁড় করানো যাক। এক্ষেত্রে প্রাধান্য দেওয়া হয়েছে এমন ক্রিকেটারদের, যারা বয়স বিবেচনায় খুব সহজেই আরো অন্তত তিনটি বিশ্বকাপ খেলার স্বপ্ন দেখতেই পারেন।

আমাদের একাদশে ওপেনিংয়ে আছেন সৌম্য সরকার ও লিটন দাশ। মারকুটে ব্যাটিংয়ের পাশাপাশি মিডিয়াম পেস, সৌম্য এরমধ্যেই দলে অন্যতম অপরিহার্য খেলোয়াড় হিসেবে জায়গা করে নিয়েছেন। অন্যদিকে লিটন দাশের টেকনিকের সঙ্গে ধারাবাহিকতা চোখে পড়ার মতো। এই দলে উইকেটরক্ষকের দায়িত্ব পালন করবেন লিটন।

তিনে নামতে পারেন ইয়াসির আলী। চট্টগ্রামের এই তরুণ এরমধ্যেই নির্বাচকদের নজর কেড়ে নিয়েছেন। বিশ্বকাপের চূড়ান্ত স্কোয়াডে তিনি ভালোভাবেই বিবেচনায় ছিলেন। বিশ্বকাপের আগে আয়ারল্যান্ডে ত্রিদেশীয় সিরিজের মূল দলে ছিলেন ইয়াসির। এখন পর্যন্ত আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে অভিষেক না হলেও এই ব্যাটসম্যানকে নিয়ে সবার প্রত্যাশা অনেক।

উইকেটরক্ষক-ব্যাটসম্যান মোহাম্মদ মিথুন চলতি বিশ্বকাপে তিনটি ম্যাচ খেলেছেন। আমাদের একাদশে তিনি শুধুমাত্র বিশেষজ্ঞ ব্যাটসম্যান হিসেবে থাকবেন। মির্ডল অর্ডারের এই তরুণ প্রতিভাকে ব্যাট করতে পাঠানো যায় চার নম্বরে।

পাঁচে মোসাদ্দেক হোসেন সৈকত ও ছয়ে সাব্বির রহমান নামলে দলের খাতায় যোগ হতে পারে দ্রুত কিছু রান। আবার দুজনই ভালো ফিল্ডার, একইসঙ্গে অফস্পিন ও লেগস্পিন বোলিং দিয়ে অধিনায়কের জন্য ভালো বিকল্প হতে পারেন এই দুই তরুণ তুর্কি।

সাতে মোহাম্মদ সাইফুদ্দিনকে দেখে অনেকে চমকাতে পারেন। কিন্তু সত্যিটা হলো আধুনিক ক্রিকেটের দাবি অনুযায়ী সাতে নেমে দ্রুত কিছু রান তোলার জন্য সব যোগ্যতাই আছে এই বোলিং অলরাউন্ডারের। খেলতে পারেন বড় বড় শট, আবার প্রয়োজনে ধরে খেলে ইনিংস বড় করার ক্ষেত্রেও দক্ষ এই ক্রিকেটার। তবে দলে তিনি মূল ভূমিকা পালন করবেন ওপেনিং বোলার হিসেবে।

মেহেদী হাসান মিরাজ বয়সভিত্তিক ক্রিকেট থেকেই অধিনায়ক হিসেবে দায়িত্ব পালন করে আসছেন। অভিষেকের পর থেকেই বাংলাদেশ দলে মাশরাফির উত্তরসূরি হিসেবে বিবেচনা করা হচ্ছে এই অলরাউন্ডারকে। অফস্পিনার হিসেবে খুব কম সময়েই নজরকাড়া মিরাজ ব্যাটিংটাও ভালোই করেন। মিরাজ তাই নামতে পারেন আটে।

নয়, দশ এবং এগারো, এই তিন ব্যাটিং পজিশন বরাদ্দ থাকতে পারে তিন বোলারের জন্য। চট্টগ্রামের তরুণ অফস্পিনার নাইম হাসান নয়ে, অভিষেকের পর থেকেই আলো ছড়ানো পেসার তাসকিন আহমেদ দশে ও বিশ্ব ক্রিকেটে ঝড় তোলা কাটার মাস্টার মুস্তাফিজুর রহমান নামতে পারেন সবার শেষে।

সবমিলিয়ে আমাদের একাদশ হচ্ছে এরকম- সৌম্য সরকার, লিটন দাশ (উইকেটরক্ষক), ইয়াসির আলী, মোহাম্মদ মিথুন, মোসাদ্দেক হোসেন সৈকত, সাব্বির রহমান, মোহাম্মদ সাইফুদ্দিন, মেহেদী হাসান মিরাজ (অধিনায়ক), নাইম হাসান, তাসকিন আহমেদ ও মুস্তাফিজুর রহমান।

পাঠক, এই এগারো জনের বাইরের খেলোয়াড়দের কথাও একবার চিন্তা করুন। ব্যাটসম্যানদের মধ্যে আছেন মমিনুল হক, এনামুল হক, আফিফ হোসেন, নাজমুল হোসেন শান্ত, সাদমান ইসলাম, নুরুল হাসান। এছাড়াও আছেন আবু জায়েদ রাহী, আবু হায়দার রনি, খালেদ আহমেদ, এবাদত হোসেনের মতো বোলার।

বিগ ফাইভের প্রস্থান নিয়ে উদ্বেগ তাই অর্থহীন। তামিম-সাকিবের সেরা খেলার অনেকটাই এখনও পাওনা রয়ে গেছে। আবার তরুণরাও তাদের ব্যাটে-বলে শান দিচ্ছেন পুরোদমে। তাই বাংলাদেশের ক্রিকেটের ভবিষ্যত নিয়ে উদ্বিগ্ন হওয়ার মতো তেমন কিছু এখন পর্যন্ত অন্তত ঘটেনি।

আরও পড়ুন
লোড হচ্ছে...