এক জয়ে খুশি ৪ দেশ

0

খেলাটি ছিল ইংল্যান্ড-অস্ট্রেলিয়ার মধ্যকার। যেখানে বিশ্বকাপের সেমিতে যাওয়ার সমীকরণকে মাথায় রেখে লর্ডসে অস্ট্রেলিয়াকে মোকাবেলা করতে নেমেছিল এউইন মরগানের দল। কিন্তু খেলা শেষে অজিদের কাছে ৬৪ রানে হারে ইংল্যান্ড।

এ পরাজয়ের ফলে ৭ ম্যাচ শেষে ৮ পয়েন্ট নিয়ে টেবিলের ৪ নম্বরেই রয়েছে ইংল্যান্ড। সমান ম্যাচে ১২ পয়েন্ট নিয়ে শীর্ষে উঠে গেছে অস্ট্রেলিয়া। একইসঙ্গে এবারের বিশ্বকাপের প্রথম দল হিসেবে সেমিফাইনালের টিকিটও নিশ্চিত করেছে তারা।

ম্যাচটি জিতেছে অস্ট্রেলিয়া। স্বাভাবিকভাবে সে দেশের ক্রিকেট সমর্থক থেকে শুরু করে ক্রিকেটাররা সবাই খুশি। এর পাশাপাশি বাংলাদেশ, শ্রীলঙ্কা ও পাকিস্তানের ক্রিকেট সমর্থকরাও খুশি। কারণ ইংল্যান্ডের হারে সেমির আশা টিকে থাকল এ তিন দেশের। ফলে বলা যায়, এক দেশের জয়ে খুশি চার দেশ।

মঙ্গলবার (২৫ জুন) লর্ডসে বাংলাদেশ সময় দুপুর সাড়ে তিনটায় শুরু হয় ইংল্যান্ড-অস্ট্রেলিয়া মধ্যকার ম্যাচটি। টসে হেরে আগে ব্যাট করে অজিদের সংগ্রহ ৭ উইকেটে ২৮৫ রান।

২৮৬ রানের টার্গেটে ব্যাট করতে নেমে শুরুতে হোঁচট খায় ইংল্যান্ডের ব্যাটসম্যানরা। দলীয় ৫৩ রানের মাথায় ৪ উইকেট হারিয়ে অনেকটা ম্যাচ থেকে ছিটকে যায় ইংল্যান্ড।

ক্যারিয়ার সেরা বোলিংয়ে ৫ উইকেট নিয়েছেন জেসন বেহরেনডর্ফ। মূলত তিনি একাই ধ্বসিয়ে দিয়েছে ইংলিশ ব্যাটিং লাইনআপ। আগুন ঝরিয়েছেন মিচেল স্টার্কও। তার শিকার ৩ উইকেট।

ইংল্যান্ডের পক্ষে ব্যাট হাতে প্রতিরোধ গড়তে পেরেছেন কেবল অলরাউন্ডার বেন স্টোকস। তার ১১৫ বলে খেলা ৮৯ রানের ইনিংসেই জয়ের আশা দেখছিল স্বাগতিকরা। এছাড়া জনি বেয়ারস্টো (২৭), জস বাটলার (২৫), ক্রিস ওকস (২৬), আদিল রশিদরা (২৫) কেবল হতাশাই বাড়িয়েছেন।

এর আগে টস হেরে ব্যাট করতে নেমে ওপেনিং জুটিতেই অসিরা তুলেছে ১০০ প্লাস রান। ১২৩ রানের মাথায় ওয়ার্নার আউট হন হাফ সেঞ্চুরি করে। মাঝে উসমান খাজা মাত্র ২৩ রান করে আউট হয়ে গেলেও অপর ওপেনার অ্যারোন ফিঞ্চ সেঞ্চুরি করেই সাজঘরে ফেরেন।

১১৫ বলে সেঞ্চুরি করেন অসি অধিনায়ক। ১১টি বাউন্ডারির সঙ্গে ২টি ছক্কার মার মারেন তিনি। সেঞ্চুরি করার পরের বলেই জোফরা আর্চারের বলে ক্রিস ওকসের হাতে ক্যাচ দেন ফিঞ্চ।

তবে ফিঞ্চ আউট হলেও অস্ট্রেলিয়ার রান বাড়ছিল হু-হু করে। মাত্র ৩৭ ওভারেই ২০০ রান পূর্ণ করে ফেলে তারা। ফিঞ্চ আউট হওয়ার পর মাঠে নেমে ঝড় তোলেন গ্লেন ম্যাক্সওয়েল। কিন্তু বেশিক্ষণ টিকতে পারেননি। মাত্র ৮ বলে ১২ রান করে মার্ক উডের বলে বাটলারের হাতে ক্যাচ দিয়ে ফিরে যান তিনি।

শুরুতে ইংলিশ বোলারদের কোনো পাত্তাই দিচ্ছিল না দুই অসি ওপেনার। ক্রিস ওকস, জোফরা আর্চার, মার্ক উড, বেন স্টোকস- এই চার পেসারের সঙ্গে আদিল রশিদ এবং মঈন আলি- এই দুই স্পিনারেও কোনো কাজ হচ্ছে না। উইকেটের দেখা মিলছিল না।

শেষ পর্যন্ত সফল হন মঈন আলি। ২৩তম ওভারের চতুর্থ বলে গিয়ে পেলেন উইকেটের দেখা। মঈন আলিকে খেলতে গিয়ে ব্যাকওয়ার্ড পয়েন্টে ক্যাচ তুলে দেন ডেভিড ওয়ার্নার। জো রুট সেই ক্যাচটি আর মিস করলেন না। ৬১ বলে ৫৩ রান করে ফিরে গেলেন ওয়ার্নার। ৬টি বাউন্ডারিতে নিজের ইনিংস সাজান তিনি।

২৩ রান করা উসমান খাজাকে বোল্ড করেন বেন স্টোকস। গ্লেন ম্যাক্সওয়েল মার্ক উপের বলটি চেয়েছিলেন উইকেরক্ষকের মাথার ওপর দিয়ে তুলে দেবেন। কিন্তু পারলেন না। বরং, ব্যাট চুমু দিয়ে বল গিয়ে পড়ে উইকেটরক্ষক বাটলারের গ্লাভসে। ১২ রান করে আউট হন তিনি।

স্টিভেন স্মিথ ক্রিস ওকসের বলে ক্যাচ দেন আর্চারের হাতে। তার আগে তিনি করেন ৩৪ বলে ৩৮ রান। শেষ দিকে অ্যালেক্স ক্যারে কিছুটা মারমুখি হন। ২৭ বল থেকে তিনি করেন ৩৮ রান। শেষ পর্যন্ত ৭ উইকেট হারিয়ে ২৮৫ রান সংগ্রহ করে অস্ট্রেলিয়া।

ক্রিস ওকস ২টি, আরচার, মার্ক উড, বেন স্টোকস, মঈন আলি এবং আদিল রশিদ নেন ১টি করে উইকেট।

জয়নিউজ/এসআই
আরও পড়ুন
লোড হচ্ছে...