মিরসরাইয়ে সিপি’র বর্জ্য মিশ্রিত পানি সমুদ্রে,অতিষ্ট এলাকাবাসী

0

মিরসরাই প্রতিনিধি : চট্টগ্রামের মিরসরাই উপজেলার সাহেরখালী ইউনিয়নে গড়ে উঠা সিপি পোল্ট্রী ফার্মের বিষাক্ত বর্জ্যে মারাত্মকভাবে দূষিত হচ্ছে পরিবেশ ও পরিবেশ দূষণের শিকার হয়ে সংশ্লিষ্ট এলাকার মানুষ আক্রান্ত হচ্ছে নানাবিধ রোগে। এই ফার্মের দূষিত বর্জ্যরে উৎকট দূর্গন্ধ ছড়িয়ে পড়েছে আশেপাশের এক কিলোমিটার এলাকায়।

এতে হুমকির মুখে পড়েছে জনস্বাস্থ্য। কোন ধরনের নিয়ম-নীতির তোয়াক্কা না করে এই ফার্মের বর্জ্য ফেলা হয় বামনসুন্দর খালের মুখে। যেখান থেকে ঢিল ছোড়া দূরত্বেই বঙ্গোপসাগর। এই খালে নিয়মিত জোয়ার-ভাটা প্রবাহমান থাকাতে ব্রয়লার ফার্মের বিষাক্ত বর্জ্য ভাটার সময় খুব দ্রুত মিশে যায় সমুদ্রের পানিতে।

এতে দূষিত হচ্ছে সমুদ্রের পানি এবং ধংস হচ্ছে জীববৈচিত্র। এ নিয়ে ওই এলাকার মানুষ অতিষ্ট হয়ে সংশ্লিষ্টদের কাছে গত কয়েকবছরে  বারবার ধর্না দিলেও এখনো পর্যন্ত এর কোন প্রতিকার পাওয়া যায়নি।

সরেজমিনে ওই এলাকায় গিয়ে দেখা যায়, সিপি পোল্ট্রী ফার্মের এই শাখাটি গড়ে উঠেছে উপজেলার সাহেরখালী ইউনিয়নের দক্ষিন মঘাদিয়া কাজির তালুক এলাকার উপকূলীয় বেড়ি বাঁধের সামান্য পূর্ব পাশে। বড় কয়েকটি সেডের এই ব্রয়লার ফার্মে মাংস উৎপাদনের জন্য মুরগি পালন করা হয়। এই ফার্মটির দক্ষিন পূর্ব পাশে রয়েছে বিশাল ফসলী মাঠ এবং উত্তর পাশে রয়েছে বামনসুন্দর খাল। ব্রয়লার ফার্মের দূষিত বর্জ্য প্রথমে ফেলা হয় ফার্মের উত্তর পার্শ্বস্থ প্রায় ১০ একরের একটি লেকে।

পরে সেই লেক থেকে বর্জ্য মিশ্রিত কালো দুর্গন্ধযুক্ত এই পানি দুটি বড় পাইপে করে সরাসরি ছেড়ে দেয়া হয় বামনসুন্দর খালে। এই লেকটিতে মাছ এবছরও চাষ করা হয়েছিলো, কিন্তু মাস দুয়েক আগে ফার্মের বিষাক্ত বর্জ্য মিশ্রিত পানির প্রভাবে সব মাছ মারা যাওয়ায় এই লেকটি এখন পরিনত হয়েছে বয়লার ফার্মের বর্জ্যরে ভাগাড়ে।

এসময় সিপি’র ব্রয়লার ফার্মের বর্জ্য মিশ্রিত লেকের পানির নমুনা সংগ্রহ করে (১০ জুলাই) বাংলাদেশ বিজ্ঞান ও শিল্প গবেষণা পরিষদের ইনস্টিটিউট অব ন্যশনাল এনালাইটিক্যাল রিসার্চ এন্ড সর্ভিসে (আইএনএআরএস) ওই পানির দ্রবিভূত অক্সিজেনের মাত্রা পরীক্ষার জন্য দেওয়া হয়। ওই পরীক্ষার প্রাপ্ত ফলাফলে দেখা যায় লেকের পানিতে দ্রবিভূত অক্সিজেনের পরিমান খুবই কম।

সংশ্লিষ্টদের মতে এত কম দ্রবিভূত অক্সিজেন মিশ্রিত পানি যেকোন ধরনের মৎস ও জলজ প্রাণির জীবন ধারনের অনুপযোগী।

এই বিষয়ে ওই লেকের লিজগ্রহীতা নিজাম উদ্দিন ভূইয়া বলেন, মাস দুয়েক আগেও সিপি’র ব্রয়লার ফার্মের বর্জ্য মিশ্রিত পানি এই লেকে ছেড়ে দেয়ায় লেকের প্রায় ৮ লক্ষ টাকা মূল্যের মাছ মারা যায়। এখন ওই লেকে মাছ নেই।

এঘটনায় লেকের মালিক পক্ষ সিপি’র বিরুদ্ধে একটি মামলা করেন। দুই মাস পার হয়ে গেলেও উক্ত বিষয়ে এখনো কোন সমাধান হয়নি। আশাকরি সংশ্লিষ্ট কতৃপক্ষ অতিদ্রুত লেকের বর্জ্য মিশ্রিত পানি দুষণমুক্ত করার ব্যবস্থা নেবে।

সিপি’র ব্রয়লার ফার্মের বর্জ্যরে দুর্গন্ধে অতিষ্ঠ হয়ে চরশরৎ গ্রামের দিপক চন্দ্র দাস জানান, আমরা বাপ-দাদার ভিটা ছেড়ে কোথায় যাবো, তাই এই দুর্গন্ধ সহ্য করে এখানে বসবাস করতে হচ্ছে। এই এলাকায় প্রায় ৫০০ পরিবার বসবাস করে। স্থানীয় জনপ্রতিনিধিদের এই দুর্গন্ধের বিষয়ে অনেকবার জানানো হয়েছে। কিন্তু এর কোন সমাধান এখন পর্যন্ত পাওয়া যায়নি, তাই এখন মনে হচ্ছে এই দুর্গন্ধ সহ্য করেই আমাদের বেচেঁ থাকতে হবে।

এই ব্যাপারে পরিবেশ অধিদপ্তরের চট্টগ্রাম জেলার উপ-পরিচালক মো. ফেরদৌস আনোয়ার বলেন, এই বিষয়টি আমার অগোচরে ছিলো আপনার মাধ্যমেই প্রথম জেনেছি। অতিদ্রুত আমি ঘটনাস্থলে গিয়ে তদন্ত পূর্বক আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহন করবো।

এই বিষয়ে মিরসরাই উপজেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা ডাঃ শ্যামল চন্দ্র পোদ্দার বলেন, ওই প্রতিষ্ঠানকে বর্জ্য ব্যবস্থাপনার বিষয়ে আমি পূর্বেও সর্তক করেছিলাম। অচিরেই আমি আবার ওই ফার্ম পরিদর্শনে যাবো এবং প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেবো।

সংশ্লিষ্ট বিষয়ে সিপি’র ওই (সাহেরখালীর) ব্রয়লার ফার্মের দায়িত্বশীলদের সাথে অনেক চেষ্টা করেও কোন বক্তব্য নেয়া সম্ভব হয়নি। ওই ফার্মের দায়িত্বপ্রাপ্তদের একজন রাইসুল ইসলাম রিংকু এক বার মোবাইল রিসিভ করে পরদিন জানাবে বলেই কল কেটে দেন। এরপর বারবার তাঁর মোবাইলে যোগাযোগ করার চেষ্টা করা হলেও তিনি আর ফোন ধরেননি।

বিপি

আরও পড়ুন
লোড হচ্ছে...